শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ ০১:০৬:০২ পিএম

গোলমরিচের এত্ত গুণ!

স্বাস্থ্য | রবিবার, ১৩ মে ২০১৮ | ১১:৩১:২৭ এএম

গোলমরিচ ভারতীয় উপমহাদেশের মসলা। প্রায় ২ হাজার বছর পূর্বে গোলমরিচ আবিষ্কার হয়েছে। ভিটামিন (বি২, বি৬, কে,সি) ও মিনারেলে (ম্যাংগানিজ, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, পটাশিয়াম) ভরপুর সহজলভ্য এ মসলাটি। গোলমরিচে প্রচুর আশ, প্রোটিন, শর্করা রয়েছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক, গোলমরিচ রান্নাবান্নার কাজ ছাড়াও আর কী কী গুণ রয়েছে।
ওজন কমায়: আজকাল প্রায় সবাই অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চিন্তিত। গোলমরিচ ওজন কমানোর কাজটি খুব ভালোভাবে করে, কোনো রকম ব্যায়াম করা ছাড়াই। গোলমরিচ ফ্যাট সেলগুলোকে ভেঙে ফেলে, তাই অতিরিক্ত ফ্যাট শরীরে জমতে পারে না। ওজনও বাড়ে না। তবে খাবার গ্রহণ করার ব্যাপারে অবশ্যই সচেতন হতে হবে।
ত্বকের যত্নে: অনেক সময় মুখের ত্বকের কিছু কিছু জায়গা সাদা হয়ে থাকে, একে শ্বেতী রোগ বলে। লন্ডনের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, গোলমরিচের সেবন ত্বকের মেলানিনকে বাড়িয়ে ত্বকের এই সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়াও মুখের বলি রেখা, মুখের দাগ, ডার্ক স্পট এসবও দূর করে।
প্যাক: অর্ধেক চা চামচ গোলমরিচ, এক চা চামচ মধু ও পরিমাণ মতো পানি দিয়ে তৈরি পেস্ট মাস্ক হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। তবে যাদের অনেক এলার্জি সমস্যা রয়েছে, তাদের সাবধানে ব্যবহার করতে হবে।
ঠান্ডা ও কাশিতে: একসময় ঠান্ডা-কাশির উপশমের ওষুধ হিসেবে ভারত থেকে গোলমরিচ আমদানি করত চায়নিজরা। এক চা চামচ গোলমরিচের গুঁড়া, দুই চা-চামচ মধু একত্রে একটি পাত্রে মিশিয়ে গরম করতে হবে। তারপর তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে গরম ভাপটা নিতে হবে ১০-১৫ মিনিট ধরে। অনেকে খেতেও পারেন, তবে সে ক্ষেত্রে গোলমরিচ অর্ধেক চা-চামচ নিতে হবে। তা ছাড়া গলায় জ্বালা করতে পারে। লাল চায়ের সাথেও গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
হজমশক্তি বাড়াতে: হজমের জন্যে যে লালা রস ও এনজাইম প্রয়োজন, গোলমরিচ তা বৃদ্ধি করে হজম শক্তি বাড়ায়। খাবারের সাথে গোলমরিচের মিশ্রণ থাকলে তা পুরো হজম প্রক্রিয়াকে ঠিক রাখে ও পেটে গ্যাস হতে দেয় না।
ক্যান্সার: ক্যান্সার প্রতিরোধেও সাহায্য করে। গোলমরিচ- সেলেনিয়াম, কারকুমিন, বিটা- ক্যারোটিন, ভিটামিন বি; এসবের নিউট্রিশাস ভ্যালু বাড়িয়ে দিয়ে পরিপাক তন্ত্রের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে। কানাডার এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, গোলমরিচ মলদ্বারের স্ট্রেস কমিয়ে দিয়ে কোলন ক্যান্সার হওয়া থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
উচ্চ রক্তচাপ কমায়: গবেষণায় প্রমাণিত যে, গোলমরিচের নিয়মিত সেবন উচ্চ রক্তচাপ কমায় ও রক্তের প্রবাহ ঠিক রাখে। যেকোনো সংক্রমণ (পোকামাকড়, ব্যাকটেরিয়া, ফাংগাস) থেকেও রক্ষা করে।
এন্টিঅক্সিডেন্ট: গোলমরিচের এন্টিঅক্সিডেন্টের কাজ অনেক বেশি। যেমন- ফ্রি রেডিকেল কমায়, যা মুখে বয়সের ছাপ পড়ার জন্যে দায়ী। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়।
মুখের যত্নে: ঠোঁটে ঘা হলে, দাঁতের মাংস লাল হলে, দাঁতে ব্যথা হলে, গোল মরিচের সেবন এসব দূর করে। সামান্য গোল মরিচের গুঁড়ার সঙ্গে লবন ও পানি মিশিয়ে গরম করে গড়গড়া করলে মাড়ির ঘা দূর হয়।
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায়: গোলমরিচ সেরোটোনিন ভেঙে ফেলে যা মস্তিষ্কের জন্যে ক্ষতিকর। একটা সময় বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের নিউরনগুলোও মারা যেতে শুরু করে। গোলমরিচ এই নিউরনগুলোকে দেরিতে ভাঙতে সাহায্য করে। অর্থাৎ মস্তিষ্কের বয়স বেড়ে যাওয়া রোধ করে ও অ্যালজাইমার রোগ থেকেও রক্ষা করে।
সেক্স ও ধূমপান: গোলমরিচ ছেলেদের যৌন ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় ও ধুমপান করা থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস: রক্তের সুগার লেভেলকে নিয়ন্ত্রণে রাখে গোলমরিচ। ২০১৩ সালে এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, গোলমরিচ সেই এনজাইমকে ভেঙে ফেলে যেটা শর্করা খাবারকে গ্লুকোজে পরিণত করে। এছাড়াও শরীরের গ্লুকোজকে ধীরে ধীরে শোষণ করতে সাহায্য করে।
খুশকি দূর করে: যাদের চুলে খুশকি রয়েছে, গোলমরিচ তাদের জন্যে উত্তম। এ ক্ষেত্রে এক চা-চামচ গোলমরিচের গুঁড়া, এক কাপ টক দই, এক চা-চামচ মধু মিশিয়ে মাথার স্ক্যাল্পে ভালো করে লাগানোর ৩০ মিনিট পরে শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। প্রয়োজনে পরের দিন শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে।
চুলের যত্নে: এক চা-চামচ গোলমরিচের গুঁড়া, দুই চা-চামচ লেবুর রস, দই এক কাপ ও ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে মাথায় লাগাতে হবে (স্ক্যাল্পে)। তারপর ১৫-২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন চুলের যত্ন নিলে চুলের গোড়া শক্ত হবে, ঝলমলে ও সিল্কি হবে। একইসঙ্গে টাক হওয়া থেকেও রক্ষা করবে।
এছাড়াও নিয়মিত গোলমরিচ খেলে ব্রংকাইটিস হতে রক্ষা পাওয়া যায়। এ মশলাটি ব্যথানাশকের কাজও করে। নিয়মিত খেলে ম্যালেরিয়া ও কলেরার মতো রোগ প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন