রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮ ১১:১৮:০৫ পিএম

গির্জায় হামলা চালায় একই পরিবারের বাবা-মা-মেয়ে-ছেলে

আন্তর্জাতিক | রবিবার, ১৩ মে ২০১৮ | ১০:৩৫:১২ পিএম

ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া শহরে তিনটি গির্জায় চালানো আত্মঘাতী হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন মারা গেছে। আহত হয়েছেন আরো অনেকে। বালী দ্বীপে ২০০৫ সালের সন্ত্রাসী হামলার পর ইন্দোনেশিয়াতে এটাই এ ধরনের সবচেয়ে বড় হামলা। তবে এই হামলায় যে বিষয়টি অনেককেই বিস্মিত করছে তা হলো, মাত্র একটি পরিবারের সব সদস্য মিলে সমন্বিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।

দুই বাচ্চাকে নিয়ে মা একটি গির্জায় হামলা চালায়। আর বাবা এবং তিন ছেলে আরো দুটি হামলায় অংশ নেয়। পিতা বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি নিয়ে যান পেন্টেকোস্টাল গির্জার কাছে। তারপর হামলাটি চালানো হয়।

পুলিশ বলছে, মায়ের সঙ্গে ছিল তার দুই কন্যা। তাদের বয়স ৯ ও ১২। তারা তাদের শরীরে বোমা বেঁধে আরেকটি গির্জায় গিয়ে নিজেদের উড়িয়ে দেয়।

ছেলেদের বয়স ১৬ এবং ১৮। তারা হামলা চালায় মোটরসাইকেলে করে। ইসলামিক স্টেট এসব হামলায় দায় স্বীকার করেছে। ইন্দোনেশিয়ায় ৯০ শতাংশ জনগণই মুসলিম । তবে সেদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় হিন্দু, খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষই মুসলিম। তবে খ্রিস্টান, হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীদেরও বসবাস রয়েছে দেশটিতে। ২০০৫ সালের পর দেশটিতে এটাই সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী হামলা। ওই বছর বালি দ্বীপে তিনটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২০ জনের প্রাণহানি ঘটে।

স্থানীয় সময় রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সান্তা মারিয়া ক্যাথলিক চার্চে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। দেশটির পুলিশের মহাপরিদর্শক মাচফুদ আরিফিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেছেন, ‘হামলায় মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়েছে।’

বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, দ্বিতীয় বোমা হামলার লক্ষ্য হয়েছে পেনটেকোস্টাল চার্চের গাড়ি পার্কিং এলাকা। ছবিদে দেখা যাচ্ছে, বেশ কিছু মোটরসাইকেল পুড়ে গেছে।

এছাড়া তৃতীয় হামলার ঘটনাটি ঘটেছে অন্য একটি চার্চে। যেখানে বোরকা পরিহিত এক নারী শিশুসহ চার্চে প্রকাশের পর বিস্ফোরণ ঘটে। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, অন্যান্য গির্জায় হামলার চেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে একটি হামলার ঘটনার সঙ্গে সর্বশেষ এই হামলার যোগসাজশ রয়েছে ধারণা করছেন তিনি। রাজধানী জাকার্তার উপকণ্ঠে ব্যাপক নিরাপত্তা বেষ্টিত কারাগারে ইসলামি জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর প্রায় ৩৬ ঘণ্টার লড়াই হয়। এতে অন্তত ৫ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মারা যান।

এদিকে, পুলিশ বলছে, পশ্চিম জাভার সায়ানজুর এলাকায় সন্দেহভাজন চার জেএডি জঙ্গিকে হত্যা করেছেন তারা।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন