মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮ ১১:৫২:৫১ পিএম

দৌলতপুরে সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে নাছরিন

রোকনুজ্জামান | জেলার খবর | কুষ্টিয়া | সোমবার, ১৪ মে ২০১৮ | ১১:১১:০৮ এএম

দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের পর পালিয়ে বিয়ে অতপর অন্তসত্বা নিজ সন্তানের পিতৃ পরিচয় পাবার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে খলিসাকুন্ডি নাছরিন আক্তার। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি গ্রামে।

জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি গ্রামের পূর্বমন্ডল পাড়ার কসাই মহিবুল ইসলামের ছেলে সেলিম রেজা একই গ্রামের শহিদুল ইসলাম ওরফে ভারতের মেয়ে নাছরিন আক্তার একে অপরের সাথে প্রায় দুই বছর ধরে প্রেম ভালোবাসা আবদ্ধ থাকে। সেলিম রেজা তার নিজ বাড়িতে পরিবারের কাছে নাছরিন আক্তার এর সাথে তাদের সম্পর্কের কথা জানায় এবং বাড়ির লোকজনের নিকট নাছরিন আক্তারকে বিয়ে করবে বলে সেলিম জানায়। কিন্তু মেয়ে নাছরিন আক্তার এর পরিবার হতদরিদ্র হওয়ায় ছেলের বাবা মহিবুল ইসলাম তাদের সম্পর্ক মানতে নারাজ ।

এদিকে সেলিম রেজা ও নাছরিন আক্তারের সম্পর্ক দিন দিন গভীর হতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা বিশ্ব ভালোবাসা দিবসটিকে স্বরনীয় করে রাখতে গত ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ইং তারিখে উভয় পরিবারকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিবাহ করে ।

বিয়ের পর সেলিম রেজার পরিবার এ বিয়ে না মানায় সে তার শ্বশুরালয়ে নাছরিন আক্তারকে নিয়ে বেশ কিছুদিন সংসার করতে থাকে সেলিম রেজা। নাছরিনের পরিবার সুত্রে জানা যায় নাছরিন আক্তার তিন মাসের অন্তসত্বা ।

পরে সেলিম রেজার পরিবার তাদের বিয়ের সম্পর্ক মেনে নেওয়ার কথা বলে সেলিম রেজার মা মুসলিমা খাতুন গত ৩০ শে মার্চ তারিখে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসে। মেয়ের পরিবারকে হেনাস্ত করার জন্য সেলিমকে অন্য জায়গায় লুকিয়ে রেখে ছেলের বাবা কসাই মহিবুল ইসলাম দৌলতপুর থানায় একটি অপহরনের অভিযোগ দেয়। পরে গোপন সংবাদে সেলিম রেজার শ্বশুর বাড়ির লোকজন জানতে পারে সেলিম এক কবিরাজের বাড়িতে আছে। পরে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার পাইক পাড়া গ্রামে মোক্তার নামের এক কবিরাজের বাড়ি থেকে স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের সহযোগীতায় সেলিম রেজাকে উদ্ধার করা হয় ।

এমতাবস্থায় এ বিষয়টি নিয়ে নাছরিন তার স্বামী ও তার সন্তানের অধিকার পাওয়ার জন্য দৌলতপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এর পেক্ষাপটে দৌলতপুর থানার এস,আই জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি সমাধান করার জন্য দুই পক্ষকে থানায় ডাকেন। কিন্তু ছেলে পক্ষের কেউ থানায় উপস্থিত হয়নি। এদিকে নাছরিন আক্তারের পিতা শহিদুল ইসলাম ওরফে ভারত জানায়, সেলিম রেজার পিতা কসাই মহিবুল ইসলাম আমার কাছে ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে ।

এই টাকা দিলে আমার মেয়েকে তার ছেলের বউ হিসাবে মেনে নিবে, টাকা না দিলে মেনে নেবে না, আর না হলে দুই লক্ষ টাকা নিয়ে মেয়ের পেটের বাচ্চা নষ্ট করে ফেলার কথা বলে । আমি গরিব মানুষ ৫ লক্ষ টাকা কোথায় পাবো । তাই বলে আমার মেয়ে তার স্বামীও তার সন্তানের অধিকার পাবে না ।

এদিকে নাছরিন আক্তার বিয়ের পর সে অন্তসত্বা হয়ে পড়ে এবং তার পরিবার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জণপ্রতিনিধি এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরল্ধেসঢ়;ও কোন সমাধান না পাওয়া নাছরিন ও তার পরিবার অর্থ অভাবে বিচারের জন্য আদালতে আইনের আশ্রয় নিতে না পারায় রিরুপায় হয়ে পরেছে ।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন