শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ ০১:২৬:৪৮ পিএম

এমপির ভাগ্নে ফারুকের নির্দেশেই দুখুকে হত্যা

আইন আদালত | সোমবার, ১৪ মে ২০১৮ | ০৫:৩৮:১৯ পিএম


আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য রহমত উল্লাহর ভাগ্নে ফারুক আহমেদের নির্দেশেই কামরুজ্জামান ওরফে দুখু মিয়াকে (৩২) গুলি করে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দুখু মিয়া বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের ছোট ভাই।

সোমবার তিন দিনের রিমান্ড শেষে ফারুক আহমেদ, তার চাচাতো ভাই বেরাইদ ইউপি সদস্য মারুফ আহম্মেদ ও আইয়ুব আনছারীকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই খন্দকার রাজীব আহমেদ।

আবেদনে বলা হয়, আসামিরা রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। ফারুক আহমেদের প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র ও নির্দেশেই অপর আসামিরা দুখুকে গুলি করে হত্যা করে ও অন্যদের জখম করে। মামলাটি স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর। প্রকাশ্য দিবালোকে দুখু মিয়াকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা ও একাধিক ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে মারাত্মক জখম করা হয়। কামাল নামে অপর এক ভিকটিমের ডান চোখ নষ্ট হয়েছে। তদন্তকালে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ আসছে।

আরো বলা হয়, সুষ্ঠু তদন্ত বা আলামত উদ্ধার, পলাতকদের গ্রেপ্তার ও কী কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা জানার জন্য তদন্তের যেকোনো পর্যায়ে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের প্রয়োজন হতে পারে। মামলাটির তদন্ত চলছে। এ অবস্থায় আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আসামিদের পক্ষে এস কে আবু সাঈদ জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, মামলাটি মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়ারনিমূলক। অযথা হয়রানি করতে তাদের মামলায় জড়ানো হয়েছে। তারা ঘটনার সাথে জড়িত না। পূর্বশত্রুতার জেরে তাদের মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমি তাদের জামিন প্রার্থনা করছি।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লা আবু, আবদুর রহমান হাওলাদার জামিনের বিরোধিতা করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ জামিন নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ১০ মে এ তিন আসামির তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এর আগে গত ৮ মে মামলায় এ তিন আসামিসহ ২৪ জন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। ওই দিন আদালত এই তিন আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আর ২১ আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।

গত ২২ এপ্রিল বেরাইদে আসামিদের ছোড়া গুলিতে দুখু মিয়া নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ১০ জন। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ফারুক আহমেদকে প্রধান আসামি করে ২৭ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

জানা যায়, সংসদ সদস্য রহমত উল্লাহ নিজের ছেলেকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর করতে চেয়েছিলেন। বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম তাতে আপত্তি করায় গত জানুয়ারি থেকে তাদের বিরোধ শুরু হয়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন