শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৮:৫৪:২৯ পিএম

ঝিনাইদহে ইন্টারনেটে নগ্ন ছবি ছাড়ার হুমকি স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ!

জেলার খবর | ঝিনাইদহ | সোমবার, ১৪ মে ২০১৮ | ০৮:৪৭:০০ পিএম

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গাবলা গ্রামে এক স্কুল ছাত্রীর নগ্ন ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি ও একমাত্র ভাইকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে এক বছর ধরে ধর্ষন করছে হাফিজ উদ্দীন মোল্লা (৬০) নামে এক ব্যক্তি।

গ্রাম্য মাতুব্বর হাফিজ উদ্দীন মোল্লা গাবলা গ্রামের মৃত বিলাত আলী মোল্লার ছেলে। নবম শ্রেনীতে পড়–য়া হতদরিদ্র পরিবারের ওই স্কুল ছাত্রীকে হাফিজ মোল্লার ক্রমাগত ধর্ষণের হাত থেকে বাঁচাতে হরিণাকুন্ডু উপজেলার জোড়াদহ ভায়না গ্রামে বিয়ে দিয়েও রক্ষা পায়নি। একমাত্র ভাই টিটোনকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেখিয়ে বিয়ের পর আবারো ধর্ষণ করে হাফিজ মোল্লা। উপায়ান্তর না পেয়ে সোমবার দুপুরে ধর্ষণের শিকার মেয়েটি শৈলকুপা থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

মেয়েটির ভাবি রুলি খাতুন অভিযোগ করেন, হাফিজ উদ্দীন মোল্লা এক বছর ধরে আমার ননদকে হুককি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করছে। তখন সে অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী। ননদকে শাসন করতে গেলে সে আমাদের বলে ভাইকে হত্যার হুমকি দেয় হাফিজ মোল্লা। এ জন্য আমি তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য হই। তিনি বলেন, হাফিজ মোল্লা গ্রামের ধনী ও মাতুব্বর। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলে না। রুলি খাতুন জানান, হাফিজ মোল্লার লালসা থেকে বাঁচতে ননদকে না পড়িয়ে অল্প বয়সে আমরা একদিনেই হরিণাকুন্ডুর ভায়না গ্রামে বিয়ে দিয়েছি। কিন্তু বিয়োর পরও ভয় ভীতি দেখিয়ে আমার ননদকে নানা স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করছে। সর্বশেষ গত ৮ দিন আগে ঝিনাইদহে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। ওই দিন তাকে ধর্ষণ করে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে বসিয়ে রেখে চলে যায়।

ধর্ষিতার অভিযোগ এলাকার স্কুল পড়–য়া মেয়েদের লালসার শিকার বানায় হাফিজ মোল্লা। এ পর্যন্ত সে গাবলা গ্রামের ৭/৮টি মেয়ে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করেছে। তার হাত থেকে তার আপন ভাগ্নিও বাদ যানি। বিষয়টি নিয়ে হাফিজ উদ্দীন মোল্লা অভিযোগ খন্ডন করে বলেন, আমার প্রতিপক্ষরা এই মিথ্যা অপবাদ ছাড়িয়ে আমাকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করছে। অভিযুক্ত হাফিজের ভাই অবসরপ্রাপ্ত পোষ্টমাস্টার মনিরুল ইসলাম জানান, একজন বিবাহিত মেয়ের পিছু নিয়ে তার ভাই যেমন অপরাধ করেছে তেমনি ওই মেয়েটিও তার আহবানে সাড়া দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে সমান অপরাধ করে চলেছে।
বিষয়টি নিয়ে শৈলকুপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, তিনি শৈলকুপা থানার ওসিকে বিষয়টি তদন্ত করে মামলা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে শৈলকুপা থানার ওসি আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সোমবার মেয়েটিকে থানায় নিয়ে এসে দুই ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাকে এক বছর ধরে ভয় ভীতি দেখিয়ে ধর্ষন করা হচ্ছে। বিয়ের পরও তাকে উত্যক্ত করা হচ্ছে। ওসি আরো বলেন এ ব্যাপারে আমরা উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে ধর্ষণ মামলা রেকর্ড করবো।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন