সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ ১১:১৬:৫৭ পিএম

নেত্রকোণায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি

জেলার খবর | নেত্রকোনা | মঙ্গলবার, ১৫ মে ২০১৮ | ১০:২৪:২১ এএম

নেত্রকোণায় কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করছে জেলা প্রশাসন। চারদিন পর শহরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করেছে বিদ্যুত বিভাগ। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। নেত্রকোণা জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, জেলা পুলিশ ও পৌরসভার পক্ষ থেকে শহরবাসীকে খাবার পানি দেয়া হয়েছে। গাছ-পালা উপড়ে পড়ে বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুৎ সংকট এখনো কাটেনি পৌর এলাকার অনেক স্থানে। এদিকে ঝড়ের চারদিন পরেও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মাঝে।

যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান রোববার সন্ধায় নেত্রকোণার মেদিনী ও বাংলা ইউনিয়নে কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মেদনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান নোমানসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

অপরদিকে নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বীরপ্রতীক। পূর্বধলা উপজেলা প্রশাসন ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আয়োজনে পূর্বধলা সদর ইউনিয়ন ও খলিশাউড় ইউনিয়নের পাঁচশো পঞ্চাশ জনের মাঝে জিআর ২০ কেজি করে চাল ও নগদ জিআর ৫শত করে টাকা দেয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য ৫০ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) নেত্রকোণা জেলা শাখা সভাপতি শ্যামলেন্দু পাল জানান, ঝড়ের দ্বিতীয় দিন একটি দুর্যোগ মোবাবেলার প্রস্তুতি সভা ডাকা যেত। আমাদের জেলার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি কার্যক্রম খুব দুর্বল। দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য একটি বাহিনী থাকা জরুরি, যাতে করে তারা যেকোনো দুর্যোগে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করতে পারে।

নেত্রকোণা বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবারের কালবৈশাখী ঝড়ে নেত্রকোণা জেলা সদরসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় ঘর-বাড়ির পাশাপাশি বিদ্যুতের শতাধিক খুঁটি উপড়ে পড়ে ও ভেঙে গেছে। এ ছাড়া জেলার বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় বিভাগের (পিডিবি) ৩৩ কেভি (কিলো ভোল্ট) লাইনের ৭টি খুঁটি উপড়ে পড়ে, এ ছাড়াও ৩০টি ১১ কেভি খুঁটি ও ২টি গাছ বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ে যায়। অপরদিকে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৯০টি খুঁটি ভেঙে গিয়ে জেলার কেন্দুয়া, আটপাড়া, মদন, সদর উপজেলাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বিদ্যুৎ বিছিন্ন রয়েছে।

নেত্রকোণা পিডিবির নিবার্হী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কয়েকদিনের মধ্যে জেলার সব জায়গায় বিদ্যুৎ সরবারাহ দেয়া সম্ভব হবে।’

এদিকে নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘জেলা শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিদিন রাতে ডিউটিরত পুলিশ ছাড়াও সাদা পোশাকে অতিরিক্ত পুলিশ টহল দিচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় মোটরসাইকেল দিয়ে পুলিশ বাহিনী টহল দিচ্ছে।’

জেলা দূর্যোগ, ত্রাণ ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, এখনও সম্পূর্ণ তালিকা তৈরি করা হয়নি, দু’এক দিনের মধ্যে তালিকা প্রস্তুতের কাজ শেষ হবে।

জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক হিসেবে ৩ হাজার ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। তালিকা প্রণয়ন করতে সকল উপজেলা প্রশাসন মাঠে কাজ করছে।

গত শুক্রবার সকালে জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন