বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৭:২৩:০৩ পিএম

ইড়িং বিড়িং তুরিন!

খোলা কলাম | মঙ্গলবার, ১৫ মে ২০১৮ | ১১:২৮:৫৪ এএম

সম্প্রতি ফেসবুকের গরম খবর, যুদ্ধাপরাধীর কাছ থেকে তুরিন আফরোজ গংদের ২০-২৫ কোটি টাকা ঘুষ দাবী ।

আমি ব্যাপারটিকে প্রথমে তেমন গুরুত্ব দেইনি কারণ, যে দেশে ৩০০০ কোটি টাকা কোনো টাকাই না, সেদেশে তুরিন আপা কতো কষ্ট করে এতো অপরাধীকে ফাঁসিতে ঝুলালেন, তাঁর জন্য কিছু টাকা পয়সা তো দরকার থাকতেই পারে।

তাছাড়া সামনে ইলেকশন, বহু টাকা পয়সা তিনিও দিবেন এদিক সেদিক।

আফসুস আমার অন্যথায়!!

তাঁর ঘুষ চাওয়া মীমাংসিত সত্যটি নিয়ে একটি অন্ধের দল, তুরিন আফরোজের স্বীকার উক্তিকেও পাশ কাটিয়ে, তুরিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে অসত্য বলে তুলে ধরতে চায়।

মায়ের থেকে মাসির দরদ এতো বেশি যে, অপরাধী নিজেঅস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান হয়ে হয়তো গায়ে চিমটি কাটে।

সম্প্রতি ম্যাজিকাল মিথ্যার প্রচলন শুরু হয়েছে!!

নিজের চোখে দেখলাম, শুনলাম, জানলাম, ভিডিওতে রেকর্ড করলাম, অপরাধীর স্বীকার উক্তিও পেলাম, তারপরেও রাজনৈতিক প্রতিবন্ধীরা অপরাধীকে নিরপরাধ দাবী করবেই.

এক কথায় তালগাছ তাদেরই, যে যা বলুক ভাই, তালগাছ আমার চাই।

যাক এহেন পরিস্থিতিতে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তুরিন আফরোজের ফেসবুজ ওয়ালে গেলাম তার নিজের প্রতিক্রিয়া জানতে।

সেখানে তিনি একটা লম্বা স্ট্যাটাস দিয়েছেন, অনেকটা বলতে চেয়েছেন এরকম, " আমি যা করেছি উপরের নির্দেশনাতেই করেছি"

ব্যাপক সন্দেহমূলক, চূড়ান্ত চতুর অবস্থান এই ছোট্ট লাইনটিতে বুঝিয়েছেন তিনি।

" ধরি মাছ না ছুঁই পানি "

যেমন,

প্রথমত যুদ্ধাপরাধীর কাছে বোরকা পড়ে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে ঘুষ চেয়েছেন, এর সবকিছুই রেকর্ড সহো প্রমান রয়েছে বিভিন্ন সংস্থার কাছে।

তুরিন আফরোজ দলাঅন্ধ হলেও আইন বোঝেন ভালোই।

তাই তিনি এই প্রমাণিত সত্যকে অস্বীকার করে আরেকটি জঘন্য অপরাধের রাস্তা থেকে সরে গিয়ে ছোট্ট এই কথাটিতেই রয়েছেন।

" যা করেছি উপরের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করেই করেছি"

এই কথাটিতে তিনি স্পষ্ট বুঝিয়েছেন এবং স্বীকার করেছেন যে, তিনি কাজটি করেছেন।

কার কথায় , এবং ঘুষ চাওয়া নিয়ে তিনি এখানে পরিষ্কারভাবে কিছু বলছেন না, উপরস্তরের কার সাথে কথা বলেছেন এবং কি বলেছেন তাও পরিষ্কার করেন নি।

* উপরের কারো ইশারা অথবা সম্মতিক্রমে ঘুষ চেয়েছেন উনি, এখন তাকে নির্দোষ করানোর দায়িত্বও উপরওয়ালাদের. উপরের লোকজন তুরিন আফরোজকে নির্দোষ প্রমান না করলে, উনিও সব সত্য বলে দেবার সুযোগ হাতে রেখেছেন উপরোক্ত তথ্যটিতে।

* উনি বোঝাচ্ছেন, তদন্তের প্রয়োজনে অপরাধীর সাথে দেখা করে তার কাছ থেকে তথ্য নেয়ার উদ্দেশ্য ছিলো।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এমনটি শুনিনি এর আগে, একজন অপরাধী তার বিপরীত উকিলকে চুপে চুপে নিজের তথ্য প্রদান করে!!

তাও সাবেক এনএসআই কর্মকর্তা, যার কাজই ছিলো অপরাধীদের সঙ্গে.এমন একজন সচেতন অফিসার তুরিন আফরোজকে নিজের স্পর্শকাতর অপরাধের তথ্য এমনিতেই দিয়ে দিবে, একটা বাচ্চা শিশুও বিশ্বাস করে কিনা সন্দেহ আছে।

* যদি ধরি তদন্তের জন্যেই গিয়েছে ব্যারিস্টার তুরিন, তাহলে, উদ্ধারকৃত টেপরেকর্ডারে তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি কেনো ?

* টেলিফোনে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে নিজেকে বোরকার ভিতর আড়াল করে গোপনে দেখা করে কি ধরণের তথ্য অথবা তদন্ত করা যেতে পারে, আমার কাছে নূন্যতম বোধগম্য হচ্ছেনা।

আমার কাছে যা মনে হয়, এখন কেঁচো পাওয়া গেছে, আরো গভীরে গেলে বড়ো বড়ো অজগর সাপ বেরিয়ে আসবে নিঃসন্দেহে।

সেই বড়ো সাপগুলো ধরা পাবার আশংকায় তুরিনকে নির্দোষ প্রমান করতেই হবে, এবং আমার বিশ্বাস অভূতপূর্ব যুক্তি ও আশ্চর্য রকম অঘটনের মাধ্যমে তুরিন আফরোজ আবার সসম্মানে পুরুস্কৃত হবে যথারীতি।

পরিশেষে বলবো , মূলত সবকিছুই সকলেই বোঝে, দলের প্রতি আনুগত্য সকল অপরাধকে পাশ কাটিয়ে নিরপরাধ বানিয়ে আবারো সামনে আনতে সরকারের জুড়ি নেই।

সাইফুর সাগর
সাংবাদিক


খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন