রবিবার, ২০ মে ২০১৮ ০৭:৩৫:০২ পিএম

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন: টার্গেট ১২শ ভোট, আধাঘণ্টা তো লাগবেই

রাজনীতি | খুলনা | মঙ্গলবার, ১৫ মে ২০১৮ | ০১:২১:১৯ পিএম

তখন সকাল ১০টা। পুলিশি পাহারায় হৈহৈ করে কেন্দ্র ঢুকলো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর একদল কর্মী। প্রথমেই তারা কয়েকটি বুথ থেকে বের করে দিলেন ভোটার ও অন্যান্য প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের। তারপর প্রিসাইডিং অফিসারের কক্ষ থেকে নিয়ে আসলেন বেশ কয়েকটি নতুন ব্যালট বই। চারটি বুথের প্রতিটিতেই দুই-তিনটি করে নতুন ব্যালট বই নিয়ে ঢুকলেন তারা।

এরপর প্রকাশ্যে চালালেন সিল মারার মহোৎসব। দু’চারজন ভোটার নিজেদের ভোট দিতে চাইলে তাদের ধাক্কা মেরে ও ধমক দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়। এ সময় প্রিসাইডিং অফিসারসহ নির্বাচনী দায়িত্বরত কর্মকর্তারা ছিলেন পুতুলের মতো নিশ্চুপ, নিশ্চল। এভাবেই চলছিল খুলনা সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দের ভোট।

খবর পেয়ে আধাঘণ্টা পর সাংবাদিকরা সেই কেন্দ্রে উপস্থিত হন। কিন্তু এর আগেই কেন্দ্রের মোট ১৩৬০ ভোটের বেশিরভাগই ঢুকে গেছে বাক্সে। প্রতিটি বুথের বাক্সগুলো সাড়ে ১০টার মধ্যেই উপছে পড়ছিল সিলমারা ব্যালটে।

এদিকে সাংবাদিকরা সেখানে ছুটে গেলে কেন্দ্রের গেটে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্যকে বলতে শোনা গেছে, ‘সিল মারতে এতো সময় লাগে নাকি। সাংবাদিকরা এসে পড়েছে। এ সময় পাশে থেকে এক যুবককে বলতে শোনা যায়, টার্গেট ছিল ১২শ’, আধাঘণ্টা তো লাগবেই।’

এ কেন্দ্রে ভোট দিতে না পারা বেশ কয়েকজন ভোটার এমন অভিযোগ করেছেন। তাদের একজন বয়স্কা হাসিনা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমি ভোট দিকে কেন্দ্রে ঢুকলে আমাকে ধাক্কা মেরে বের করে দিয়েছে। ছেলেগুলো বলেছে, আপনি বয়স্ক মানুষ, কষ্ট করে ভোট দেয়া লাগবে না। আমরাই দিয়ে দিয়েছি।’

আরেকজন ভোটার আম্বিয়া ২ নম্বর বুথের ভোটার ছিলেন। তার ভোটার নাম্বার ৪৭২। তিনিও একই ধরনের অভিযোগ করেন।

কেন্দ্রের বাইরে একজন বয়স্ক ভোটার নিরস বদনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার কাছে ভোট দিতে পেরেছেন কিনা জানতে চাইলে বললেন, ‘আমাদের ভোট হয়ে গেছে।’


প্রত্যক্ষদশীরা জানান, ‘সকাল থেকেই এ কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই নগণ্য। তাহলে বেলা সাড়ে ১০টার মধ্যেই কীভাবে এতগুলো ভোট কাস্ট হয়েছে- তা জানতে চাইলে ২ নম্বর বুথের পোলিং অফিসার রাশেদা আক্তার বলেন, ‘এ বুথে তিনশ ভোটই কাস্ট হয়ে গেছে। কোনো সমস্যা হয়নি।’

সাংবাদিকদের দেখে ওই কেন্দ্রের দায়িত্বরত ডিবি পুলিশের এসি ইমরান প্রিসাইডিং অফিসারকে ধমক দিচ্ছিলেন। এ সময় প্রিসাইডিং অফিসার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সামান্য একটু গণ্ডগোল হয়েছিল। আমরা সাময়িকভাবে কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছি।’

একই রকম অভিযোগ পাওয়া গেছে নগরীর রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। সেখানেও ভোটারদের বের করে দিয়ে সরকার সমর্থকরা জোর করে ব্যালট ছিড়ে সিল মেরেছেন বলে জানিয়েছেন অনেক ভোটার।

এ কেন্দ্রে ভোট দিতে না পারা বেশ কয়েকজন ভোটার এমন অভিযোগ করেছেন। তাদের একজন বয়স্কা হাসিনা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমি ভোট দিকে কেন্দ্রে ঢুকলে আমাকে ধাক্কা মেরে বের করে দিয়েছে। ছেলেগুলো বলেছে, আপনি বয়স্ক মানুষ, কষ্ট করে ভোট দেয়া লাগবে না। আমরাই দিয়ে দিয়েছি।’

আরেকজন ভোটার আম্বিয়া ২ নম্বর বুথের ভোটার ছিলেন। তার ভোটার নাম্বার ৪৭২। তিনিও একই ধরনের অভিযোগ করেন।

কেন্দ্রের বাইরে একজন বয়স্ক ভোটার নিরস বদনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার কাছে ভোট দিতে পেরেছেন কিনা জানতে চাইলে বললেন, ‘আমাদের ভোট হয়ে গেছে।’

তবে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি বা ধানের শীষের কোনো লোক রাস্তায় দেখছেন না আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক।

তিনি বলেছেন, ‘আমি তো কোথাও ধানের শীষের লোক দেখি না। সবাই তো নৌকার সিম্বল পরে আছে। নৌকার সিম্বল নিয়ে কেউ যদি কেন্দ্রে গিয়ে অন্য প্রতীকে ভোট দিতে চায় আর আমার এজেন্টরা সেটা নিশ্চিত হতে পারে তবে তারা তো সেই ভোটারকে ঠেকাবেই।’

মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

এদিকে বিএনপি প্রর্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেছেন, ৪০ কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দিয়েছে সরকার দলীয় লোকজন। কোনো কোনো কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়া হয়েছে। বিএনপি সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট কেন্দ্রে না যেতে হুমকি দেয়া হয়েছে, হচ্ছে। তার নির্বাচনী ক্যাম্পে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে নৌকা প্রতীকের লোকজন।

তথ্যসূত্র: শীর্ষনিউজ

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন