বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ ০২:২৩:১৩ এএম

শেষ হলো খুলনা সিটি নির্বাচন, ফলাফলের অপেক্ষা

জাতীয় | মঙ্গলবার, ১৫ মে ২০১৮ | ০৫:১৭:২৬ পিএম

বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে শেষ হলো খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার কারণে দুটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখা, কিছু কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টদের ঢুকতে না দেওয়া বা বের করে দেওয়ার অভিযোগ। ভোট গ্রহণ শেষে এখন কেন্দ্রে কেন্দ্রে ফল গণনা করা হচ্ছে।

আশা করা হচ্ছে, সন্ধ্যার পর থেকে ফল রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে এসে পৌঁছাবে। তারপর ঘোষণা করা হবে। তখন জানা যাবে, কে হচ্ছেন খুলনার নগরপিতা।
মঙ্গলবার সকাল ৮টায় খুলনা সিটি করপোরেশনের ২৮৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর বড় ধরনের কোনো সহিংসতার অভিযোগ পাওয়া যায়নি এবং কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি।

তবে ভোটে অনিয়মের অভিযোগে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২০২ নম্বর ভোটকেন্দ্র ইকবালনগর সরকারি মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ফাতেমা উচ্চ বিদ্যালয়েও একইভাবে জোর করে ভোট দেওয়া হয়। পরে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে প্রায় আধা ঘণ্টা ভোট বন্ধ রাখা হয়।

সার্বিক নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুছ আলী বলেন, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ভোট সুষ্ঠু হয়েছে।

এ নির্বাচনের দুটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। সেখানে কোনো ত্রুটি হয়নি। ভোটাররাও ভোট দিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ইভিএমএ বিএনপি প্রার্থী এগিয়ে আছে।

বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ করলেও আওয়ামী প্রার্থী তা অস্বীকার করেছেন।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা সিটি করপোরেশনে প্রথমবারের মতো মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেয়র পদে যে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁরা হলেনÑআওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক (নৌকা), বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুর রহমান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে)।

খুলনা সিটিতে মোট ভোটার চার লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ ও নারী দুই লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। ভোটকেন্দ্র ২৮৯টি। প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার রয়েছে চার হাজার ৯৭২ জন।

দুটি ভোটকেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার হচ্ছে। নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২০৬ নম্বর কেন্দ্র ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২৩৯ নম্বর কেন্দ্রে মোট ১০টি ইভিএম রয়েছে।

ধানের শীষের প্রার্থী অভিযোগ করেন, ভোট শুরুর আগে অনেক কেন্দ্রে তাঁর এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া ভোট শুরুর পর ২৫-৩০টি কেন্দ্র থেকে তাঁর পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ‘এটা বিএনপির স্বভাব। তারা সব সময়ই এসব কথা বলে। ফলে তাদের কথার কোনো মূল্য নেই। জনগণের রায় যাই হোক না কেন, তা মেনে নেব। সবাই সুষ্ঠুভাবে ভোট দিন। ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে।’

এদিকে বেলা ১১টার দিকে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ২০২ নম্বর ভোটকেন্দ্র ইকবালনগর সরকারি মাধ্যমিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কয়েকজন ঢুকে জোর করে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে ভোট দেয় এবং বাক্সে ঢুকিয়ে ফেলে।

এ ঘটনার পর ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বিষয়টি জানালে দুপুর পৌনে ১টার দিকে ভোট স্থগিত করা হয় বলে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুছ আলী। তিনি বলেন, ‘ওই কেন্দ্রে কয়েকজন এসে প্রকাশ্যে ভোট দিচ্ছিল। এসব পেপার জব্দ করা হয়েছে। তারপর ওই কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে।’

তবে কারা ওই কেন্দ্রে প্রবেশ করেছিল, সে ব্যাপারে কিছু বলতে পারেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা।

এর আগে সকালে নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ফাতেমা উচ্চ বিদ্যালয়েও একইভাবে জোর করে ভোট দেওয়া হয়। পরে অভিযোগে পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে প্রায় আধা ঘণ্টা ভোট বন্ধ রাখা হয়।

এ ব্যাপারে ইউনুছ আলী বলেন, ফাতেমা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও কয়েকজন ঢুকে কিছু ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়। অভিযোগ পেয়ে সেখানে ভোট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে সেখানে ফের ভোট গ্রহণ শুরু হয় বলে জানান তিনি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন