শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ১১:৫৮:০২ পিএম

পুলিশ কমিশনারের নির্দেশেই খুলনায় ভোট ডাকাতি: বিএনপি

রাজনীতি | মঙ্গলবার, ১৫ মে ২০১৮ | ০৭:২১:২৬ পিএম

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও ভোট ডাকাতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। আর এরজন্য খুলনার পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবিরকে দায়ী করেছেন তিনি, শুরু থেকেই বিএনপি যার প্রত্যাহার দাবি করে এসেছিল। এই পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশেই জাল ভোট দেয়া হয়েছে বলে জানান রিজভীর।

মঙ্গলবার বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব অভিযোগ করেন।

এসময় রিজভী বলেন, খুলনার পুলিশ কমিশনার দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত যখনই ভোটার কম থাকবে তখনই নৌকার প্রতীকে সিল মারতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ও পুলিশ মিলে আমাদের নির্বাচনী এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে নৌকায় সিল মেরেছে। সব কটি কেন্দ্রে এমন ঘটনা ঘটলেও আমাদের কাছে পাওয়া তথ্য মতে ১৫০টি কেন্দ্রের ঘটনা গুরুতর।’
এ সময় বিভিন্ন স্থানে হামলার স্থির চিত্র সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘আমরা নানা সূত্রে জানতে পেরেছি খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বেলা ২-৩০ থেকে ৪-০০টায় ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরায় নৌকা প্রার্থীর পক্ষে একচেটিয়া সিল মারার জন্য খুলনা পুলিশ কমিশনার নির্দেশ দিয়েছেন। নৌকা মার্কার প্রার্থী এরকম ভোটের বিষয়টি নিশ্চিত ছিলেন। তাই নির্বাচনের দু’দিন আগে ভোটে জেতার জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার ছাপিয়ে দেয়ালে দেয়ালে সেঁটেছেন নৌকার সমর্থকরা।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী সন্ত্রাসী ক্যাডার, প্রকাশ্য অদৃশ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার গুন্ডামি এবং গত কয়েকদিনে ভোটারদের মনে ভীতি সৃষ্টির জন্য গ্রেফতার ও বাড়িতে বাড়িতে পুলিশের আগ্রাসন, আজ ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টদের ঢুকতে না দেয়া, মহিলা এজেন্টদের হুমকি দিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে না দেয়া সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত যা ভোট হয়েছে, তা প্রহসন। প্রহসনের আরও একটি নিদর্শন হচ্ছে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী একটি কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন গোটা ব্যালট বইটির প্রতিটি পেপার নৌকা মার্কার সিলে ভরা। আরও কয়েকটি কেন্দ্রে সাংবাদিকরা এরূপ ঘটনা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেছেন। আওয়ামী লীগের সকল কাজই প্রকৃতপক্ষে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনার রাজত্বে গণতন্ত্র এখন ছিন্নমূলে পরিণত হয়েছে। সরকার মূলত দেশবাসীর রক্ত পান করতে করতে সারা দেশকে ভাগাড়ে পরিণত করেছে। ভোটারবিহীন সরকারের নিরবচ্ছিন্ন ভোটাধিকার হরণের ধারায় জনগণের অন্তহীন আর্তি এখন আকাশে-বাতাসে ধ্বণিত হচ্ছে। আজকের ভোট সন্ত্রাসের ঘটনায় খুলনা সিটি করপোরেশনের ভোটাররা ব্যথিত, বঞ্চিত, অপমানিত।’

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও নির্বাচনের কমিশনের নানা অনিনিয়মের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, ২০ নং ওয়ার্ডে শেখপাড়া আইয়ুব আলী ভোট কেন্দ্রে ধানের শীষের সকল এজেন্ট বের করে দিয়ে নৌকা মার্কায় সিল মারছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ২৪ নং ওয়ার্ড দারুস সালাম থেকে সকল এজেন্টদের মারধর করে বের করে দিয়েছে। বিএনপি’র কোনও ভোটারদের ঢুকতে দেয়নি।

এছাড়া ময়লাপোতার সোনাপতা স্কুলের সামনে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। ইউসেফ স্কুল ভোট কেন্দ্র থেকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ধানের শীষের এজেন্টদের মারধর করে বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল করে নিয়ে নৌকায় সিল মারছে। সকাল ৮টা থেকে বেলা-১টা পর্যন্ত আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্তৃক দখল করে নেয়া ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা-৯৫ টি। এপর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সশস্ত্র আওয়ামী সন্ত্রাসীরা দখল করে নেয়া ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা-১৫০ টির অধিক।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া ও সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন