শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ ১২:৩৮:৪৫ পিএম

‘ভূমি অফিসে দালালের দৌরাত্ম কমে নাই’

আইন আদালত | মঙ্গলবার, ১৫ মে ২০১৮ | ০৮:১৮:০৪ পিএম

ভূমি অফিসে দালালের দৌরত্ব কমে নাই। কারণ, দালাল অফিসের মধ্যে থাকে। ভূমি অফিসের দলিল লেখক, তসিলদারসহ সংশ্লিষ্টরাই সবচেয়ে বড় দালাল।

মঙ্গলাবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসসমূহের কার্যক্রমের ফলোআপ গণশুনানিতে দুদকের কমিশনার ড. মো. নাসির উদ্দিন এসব কথা বলেন।

আজ ঢাকা মহানগরের কোতোয়ালি, তেজগাঁও ও গুলশান সার্কেলের ভূমি অফিসের বিষয়ে ফলোআপ গণশুনানি হয়। এ নিয়ে দুদক ৯৪টি গণশুনানির আয়োজন করলো। আর ফলোআপ গণশুনানি হসেবে ১৪তম গণশুনানিতে ১৩টি অভিযোগ উত্থাপিত হয়। সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনারগণ এসব অভিযোগ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিষ্পত্তির আশ্বাস দেন।

গণশুনানিতে অভিযোগকারীদের বক্তব্যে নামজারি করতে নানা হয়রানি, দলিল হস্তান্তরে ঘুষের ছড়াছড়ি, এক শ্রেণির ভূমি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি বেহাত, ব্যক্তিগত সম্পত্তি খাস জমি হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অফিসের নিম্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে অভিযোগ নিয়ে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে না যেতে পারার অভিযোগ উঠেছে।

২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর দুদেকর গণশুনানিতে অভিযোগ করেও এখন পর্যন্ত তার নিষ্পত্তি না হওয়ার অনেক বিষয় উঠে আসে। এক্ষেত্রে সহকারী কমিশনাররা (ভূমি) ‘আমি ছিলাম না’ কিংবা ‘নতুন এসেছি’ ইত্যাদি অজুহাত দেখান।

গণশুনানিতে দুদকের কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, নাগরিকদের দুর্নীতিমুক্ত এবং মানসম্মত সরকারি পরিষেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টির জন্য গণশুনানি একটি বিশেষ কৌশল।

তিনি বলেন, রাজধানী থেকে উপজেলা পর্যায়ে কমিশনের ৯৪টি গণশুনানি হয়েছে। এসব গণশুনানিতে সাধারণ মানুষ ভূমি ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে বেশি অভিযোগ করছে। সাধারণ মানুষ মনে করে, ভূমি রেজিস্ট্রেশন, ভূমির নামজারি এবং জরিপ- প্রতিটি ক্ষেত্রেই অনিয়ম, দুর্নীতি এবং হয়রানি রয়েছে। তাই এটা নির্মূল করতে হলে সমন্বিত অভিগমনের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরো বলেন, এসব বিষয়ে শুধু মামলা-মোকদ্দমা নয়, পাশাপাশি বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অফিসের দালাল কারা? এরা কি বাইরে না ভেতরের? অফিসের প্রধান হিসেবে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নিজে দুর্নীতিমুক্ত থেকে নিজ অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা।

নাসির উদ্দিন বলেন, সমন্বয়হীনতা বড় একটি সমস্যা। ভূমি অফিসে দালালের দৌরাত্ম কমে নাই। কারণ, দালাল অফিসের মধ্যে থাকে। অফিসের মধ্যম ও নিম্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দালালের কাজটি করে থাকে। ভূমি অফিসের সামনে দলিল লেখক ও তহসিলদারসহ সংশ্লিষ্টরা সবচেয়ে বড় দালাল। আমি দুর্নীতিমুক্ত লিখলেই হবে না, বিষয়টি হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০১৫ সালের গণশুনানিতে উত্থাপিত অভিযোগ আজও নিষ্পত্তি না হওয়ার মানে কী? এর কারণ হচ্ছে, এসকল অফিসের কার্যক্রম প্রাতিষ্ঠানিকরণ হয়নি। কর্তার ইচ্ছায় কর্ম হয়।

সেবাগ্রহীতাদের উদ্দেশে দুদকের কমিশনার বলেন, আপনার সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে যাবেন, তারা যদি হয়রানি কিংবা অনৈতিক কোনো কিছু দাবি করে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে কমিশনের অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন-১০৬ এ জানান। কমিশন এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কমিশন কারো পদ-পদবির ন্যূনতম গুরুত্ব দেবে না। বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তাই পদ্ধতিগত উন্নয়ন করলে দালালের দৌরাত্ম কমে যাবে।

নাসির উদ্দিন বলেন, সরকারি অফিস হচ্ছে মানুষকে সেবা দেওয়ার জায়গা। সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি কৌশল গণশুনানি। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। আমরা সম্মিলিত হয়ে চেষ্টা করছি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কাজ করতে। তবে আমাদের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। পয়সা ছাড়া কখনো কোনো কাজ হয় না, এটা সত্যি। সরকারি অফিস দুর্নীতিমুক্ত নয়। সিস্টেমে অনেক গলদ আছে। পদ্ধতি উন্নয়নে কাজ করতে হবে। মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য কাজ করতে হবে।

দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ারের সঞ্চালনায় গণশুনানিতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শরীফ রায়হান কবীর।

গণশুনানিতে অভিযোগের জবাব দেন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রাকিব হাসান (গুলশান), শরীফ আলম তানভির (তেজগাঁও) ও মাহমুদা আক্তার (কোতোয়ালি)।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন