শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৫:২১:২৬ এএম

এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে, সে আবার গণতন্ত্রের মা হয়? এটা গণতন্ত্র হলো কোথা থেকে?

জাতীয় | মঙ্গলবার, ১৫ মে ২০১৮ | ০৮:৫৫:৫২ পিএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যে ভোট চুরিতে এক্সপার্ট, মানুষ খুনে এক্সপার্ট, দুর্নীতিতে এক্সপার্ট, কালো টাকা সাদা করে, এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে, সে আবার গণতন্ত্রের মা হয়? এটা গণতন্ত্র হলো কোথা থেকে? এটা দেশের মানুষকে নিয়ে তামাশা করা; আর কিছু নয়।’

মঙ্গলবার (১৫ মে) গণভবনে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হতাহতদের পরিবারের মধ্যে চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন বলেন, ‘৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোট চুরি করে ক্ষমতায় থেকে খুব বড়াই করছিল তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হলো। কিন্তু আন্দোলন সংগ্রাম করেছে জনগণ; তারা তাদের ভোট চুরি মেনে নেয়নি। যার ফলে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।’

‘তাদের অপকর্মের তো শেষ নেই। ব্যাংকের টাকা পয়সা লুটপাট করে খেয়ে চলে গেছে। সব বিদেশে পাচার করেছে। সেই পাচার করা টাকা ধরা পড়েছে আমেরিকায়, সিঙ্গাপুরে। কিছু টাকা আমরা ফেরত এনেছি। পাচার করা টাকা ধরা পড়ল বিদেশিদেরই কাছে। এজন্য আমাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই।’

এতিমের অর্থ আত্মসাতের মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার একটা হয়ে গেছে। কোরআন শরিফে বলা আছে, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করা অন্যায়, তার শাস্তি সে পাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়ার কাজ তো এটাই ছিল। খুন খারাবি। আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। মেয়র নির্বাচনের পর ৬ জনকে হত্যা করল। জিয়াউর রহমান আসার পর থেকে শুরু আওয়ামী লীগের ওপর নির্যাতন শুরু হয়। খালেদা জিয়াও একই কাজ করেছে। ঘরে থাকতে পারেনি কেউ। মেয়েদের ওপর যে অত্যাচার করেছে; একদিকে পুলিশ আরেকদিকে বিএনপির ক্যাডাররা, রাস্তায় ফেলে যে অত্যাচার করেছে, আমরা তো তা ভুলতে পারি না।’


শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা উন্নত হয়েছি, উন্নয়নশীল দেশ হয়েছি, আজ স্যাটেলাইট পাঠিয়ে বাংলাদেশকে অন্য মর্যাদায় নিয়ে গিয়েছি। মাত্র ৯ বছরে বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক উন্নতি করেছি, আর কেউ তো তা পারেনি। জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের ক্ষমতায় এনেছে বলেই তো আমরা করতে পেরেছি।’

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘ওরা করবে কেন? ওরা রাজাকার-আলবদর-যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছে। জাতির পিতার খুনিকে ভোট চুরি করে এমপি বানিয়েছে। তাদের কাজই খুনি, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদ নিয়ে। এরা তো দেশের কল্যাণ চায় না। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তাদের হৃদয়ে পেয়ারা পাকিস্তান।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর সেনাবাহিনীতে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা অফিসার ও সৈনিককে হত্যা করেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেনাবাহিনীর আকাশ বাতাস তখন ভারি হয়ে ছিল বিধবাদের কান্নায়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ এখন স্বস্তিতে, শান্তিতে আছে। দু’বেলা খাবার পাচ্ছে। মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগ ও দেশের জনগণের মধ্যেই হারানো মা-বাবা-ভাইয়ের স্নেহ পেয়েছি বলে আমার একটাই লক্ষ্য দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করা।’

এসময় আজীবন হতাহতদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।-বাংলাট্রিবিউন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন