মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ ০৮:৩৮:০৬ এএম

নতুন সম্ভাবনা শিল্প হবে ‘ফুল চাষ’

অর্থনীতি | বুধবার, ১৬ মে ২০১৮ | ০৭:০৫:১৩ পিএম

ফুল চাষকে শিল্প হিসেবে রূপান্তরের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ খাতকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বুধবার মতিঝিল ঢাকা চেম্বারে আয়োজিত ‘ফুলের চাষাবাদ খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার এ আহ্বান জানানো হয়।

ইউএসএআইডি’র এগ্রিকালচার ভ্যালু চেইনস (এভিসি) প্রকল্পের সহযোগিতায় সেমিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

ডিসিসিআই সহ-সভাপতি রিয়াদ হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফুল ব্যবহারের চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিবছর সারা পৃথিবীতে ফুলের চাহিদার পারিমাণ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পৃথিবীর ১৪৫টি দেশ ফুল উৎপাদন ও বাণিজ্যিক চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত।

তিনি বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের ফুল রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে উক্ত অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ফুল রফতানি হয়েছে। দেশে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের চাষাবাদ হয়। প্রায় ২ লক্ষ লোক প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে এ খাতের সঙ্গে জড়িত।

ডিসিসিআই’র সহ-সভাপতি বলেন, ফুলের চাষাবাদসহ এ খাতের সার্বিক উন্নয়নে উদ্যোক্তাদের স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা প্রদান, নতুন নতুন চাষাবাদ পদ্ধতি বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, এয়ারকন্ডিশন সুবিধা সম্বলিত পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার প্রয়োজন। সম্ভাবনাময় এ খাতের উন্নয়নে ফুলের চাষাবাদকে শিল্প হিসেবে ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ওয়ার্কশপে চায়না হটিকালচার বিজনেস সার্ভিসেসের সভাপতি হেইডি ওয়ারনেট মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ফুল চাষকে শিল্প হিসেবে রূপান্তরের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জানান, এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোতে জলবায়ু এবং মাটির উৎপাদন গুণাগুণ অনুযায়ী বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষাবাদ এ অঞ্চলের দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন, যার মাধ্যমে ফুল চাষাবাদ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজারজাতকরণ কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।

হেইডি ওয়ারনেট জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে ফুলের বাজারের পরিমাণ হবে প্রায় ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য এখনই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মূল প্রবন্ধে তিনি বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষাবাদকে সফল করার জন্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান, স্বল্প সুদে উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন প্রদান এবং নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই’র মহাসচিব এএইচএম রেজাউল কবির, পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. আল আমিন, প্রাক্তন সহ-সভাপতি এম আবু হোরায়রাহ, এভিসি প্রকল্পের চিফ অব পার্টিপল বেনডিক, বাংলাদেশস্থ ইউএসএআইডি’র কনট্রাকটিং অফিসার অনিরুদ্ধ হোম রয় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন