সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ ০১:৪৭:৪৯ পিএম

প্রধানমন্ত্রী কি কিছুই জানেন না, প্রশ্ন সেই রনির

রাজনীতি | বৃহস্পতিবার, ১৭ মে ২০১৮ | ০৫:৩৮:০৩ পিএম

চড়-কাণ্ডসহ নানান অভিযোগে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিকে। এরপরও বিভিন্ন ইস্যুতে সংগঠন নিয়ে ফেসবুকে সক্রিয় তিনি। এবার চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জানাশোনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রনি।

বুধবার রনির বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মেহনাজ রহমানের আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করেন নগর ছাত্রলীগের সদস্য তানজিরুল হক চৌধুরী।

মামলা দায়েরের পর রনি তার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে প্রতিক্রিয়ায় লিখেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এবার মানহানির মামলা করালেন? ছাত্রলীগের এক নেতাসহ ৩ জনকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ১৬ ফেব্রুয়ারি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। ছাত্রলীগ নেতার এমন কাজের প্রতিবাদ করে নিউজটি ফেসবুকে আমি শেয়ার করেছিলাম। ওই নামধারী ছাত্রলীগ নেতা জেল থেকে মুক্তি পেয়ে আজ আমার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছে।’

বিতর্কিত এই ছাত্রলীগ আরও লিখেন, ‘মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর কেমন চলছে চট্টগ্রামের আওয়ামী রাজনীতি তা কি প্রধানমন্ত্রী কিছুই জানেন না? ক্ষমতা কি শুধুই আমার উপর অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দেওয়ার জন্য? জামায়াত, বিএনপি, মাদক-চোরাকারবারী, শিক্ষা ব্যবসায়ীদের পক্ষে নিয়ে আমার উপর আর কত অন্যায় করতে পারলে শান্ত হবেন।’

একই মামলায় চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রিকার বার্তা সম্পাদক ও বাকলিয়া শহীদ এনএমএমজে ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আজমীর হোসেনকে বিবাদী করা হয়।

মিথ্যা খবর প্রকাশ ও প্রচারের মাধ্যমে মানহানির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে তদন্ত করে ২১ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সিএমপি বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন। বাদির আইনজীবী আমেনা বেগম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টার দিকে নগরের চরচাক্তাই থেকে নগর গোয়েন্দা পুলিশ এই মামলার বাদি তানজিরুল হক চৌধুরীসহ তিনজনকে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের দায়েরকৃত এক মামলায় গ্রেফতার করে বাকলিয়া থানায় নিয়ে যায়। সেই রাতেই বাদিকে রেখে অন্য দুজনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

পরদিন ১৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের স্থানীয় দৈনিক আজাদী পত্রিকায় ‘চরচাক্তাইয়ে ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেফতার ৩’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। ওই সংবাদে উল্লেখ করা হয়, অভিযানের সময় আটককৃতদের কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে যা জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।’

প্রকৃতপক্ষে বাদির কাছ থেকে কোনো ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হয়নি এবং বাদিকে কোনো ইয়াবা মামলায় গ্রেফতারও দেখানো হয়নি। সংবাদটি প্রকাশ করে পত্রিকাটির বার্তা সম্পাদক বাদির সুনাম ক্ষুন্ন ও মানহানি করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর এই মামলার আসামি আজমীর হোসেন নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন, ‘আপনি আমাদের কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃত্বদানকারী। কিন্তু আজ শুনলাম আপনি নাকি ডিবির হাতে তিন হাজার ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়েছেন। আপনার পিছে যারা রাজনীতি করে তারা আজ ধন্য আপনার কাজের জন্য। আমার নেতা গরীব হতে পারে তবে ইয়াবা ব্যবসায়ী নয়।’

একই মামলার অপর আসামি চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কৃত নুরুল আজিম রনি নিজের ফেসবুকে নিউজটি শেয়ার করে লিখেন, ‘তানজিরুল সাহেব এমন গুণের অধিকারী ছিলেন যারা প্রকৃত ছাত্রলীগ পদধারীদের থেকে ভিন্ন। অর্থাৎ মুজিববাদে নয় মুজিব বাদ দিয়ে তিনি নেতা তুমি জিন্দাবাদে বিশ্বাসী।’

মামলায় বাদি অভিযোগ করেন, রনির এই স্ট্যাটাস সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ায় বাদির (তানজিরুল আজিম চৌধুরী) সুনাম নষ্ট হয়েছে।


খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন