শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮ ১১:৪৯:১৪ এএম

রাবিতে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের ছুরিকাঘাত: তদন্ত কমিটি গঠন, হত্যাচেষ্টা মামলা

নুরুজ্জামান খান | শিক্ষাঙ্গন | শুক্রবার, ১৮ মে ২০১৮ | ১২:১৬:৪০ এএম

বান্ধবীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম হৃদয়কে ছুরিকাঘাত করেছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় নগরীর মতিহার থানায় হৃদয় বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম সাইফুল ইসলাম হৃদয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী। আহত অবস্থায প্রথমে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। রাতেই তার অপারেশন করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে আছেন। যোগাযোগ করা হলে সাইফুল ইসলাম হৃদয় জানান, বুধবার সন্ধ্যায় দুই বন্ধু ও এক বান্ধবীর সঙ্গে তিনি দ্বিতীয় বিজ্ঞান ভবনের সামনে গল্প করছিলেন। তখন পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রলীগ কর্মী মো. হামজা ও অপর দুইজন তার বান্ধবীকে একাধিকবার উত্যক্ত করেন। এনিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

পরে তিনি তার বান্ধবিকে হলে পৌছে দিয়ে একা ফিরছিলেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়ামের সামনে পৌঁছালে তার পথরোধ করে হামজাসহ তিনজন। একপর্যায়ে হামজা হৃদয়ের পেটের নিচের অংশে ছুরি মারে। এ ঘটনায় জড়িত মো. হামজাকে ঘটনাস্থল থেকে ধরে পুলিশে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। আটক হামজা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তবে ঘটনায় জড়িত অন্য দুইজনের নাম-পরিচয় জানা যায় নি। এর আগে গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলে মাস্টার্সের এক শিক্ষার্থীকে পিটানোর ঘটনায়ও জড়িত ছিলো হামজা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী।

ঘটনাস্থলে হামজার সাথে কথা বলতে গেলে বলেন, ‘আমি ছুরিকাঘাত করিনি। আমার সাথে থাকা দুজন করেছে।’ সে দুজন কে সেটা জিজ্ঞেস করলে সাদ্দাম হোসেন হামজাকে ধমক দিয়ে কোন কথা বলতে নিষেধ করেন। জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাদ্দাম হোসেন দাবি করেন, ‘হামজা ছাত্রলীগের কর্মী নয়। সে শের-ই-বাংলা হলে যাতায়াত করতো। দুই দিন আগে আরেকটা অনাকাঙ্খিত ঘটনার পর তাকে হল থেকে বের করে দিয়েছি।’ হামজাকে কথা বলতে নিষেধ করার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘ও (হামজা) এমনিতে অসুস্থ ছিলো তাই কথা বলতে নিষেধ করেছি।’ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘সে ছাত্রলীগের কর্মী নয়। ছাত্রলীগে যোগ দিতে আগ্রহী তাই অন্যদের সাথে হামজা আমাদের কর্মসূচিতে আসে।’ মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মাহবুব আলম জানান, ‘হামজার নাম উল্লেখ করে আরও দুজন অজ্ঞাতনামার নামে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছে হৃদয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হামজার বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বাকীদের সনাক্ত করার জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।’ এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারি প্রক্টর হাসানুর রহমানকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, ‘একজনকে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা যে সুপারিশ করবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এদিকে, হৃদয়ের হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে অনশন করেছে একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী প্রসেনজিৎ কুমার। দুপুর ১২টার দিকে অনশন শুরু করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক লূৎফর রহমান ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস গিয়ে তার সাথে কথা বলে তুলে দেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন