বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ ১০:০৮:৪৭ এএম

গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ঢাবির ২৫ শিক্ষার্থীকে শোকজ

জাতীয় | শুক্রবার, ১৮ মে ২০১৮ | ০৯:৫৭:০৫ এএম

কোটা সংস্কারের আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগ সভাপতি ইফফাত জাহান ইশার বিরুদ্ধে রগ কাটার খবর ফেসবুকে ছড়ানোর ঘটনায় ২৫ ছাত্রীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানীর সই করা ওই শোকজ নোটিশের জবাব ছাত্রীদের আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।

নোটিশে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, অসত্য ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগ এনে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে ওই ছাত্রীদের কাছে। ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার, পরিকল্পিতভাবে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান ইশাকে মারধর ও জুতোর মালা পরিধান করানোর অভিযোগের’ ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে এতে।

কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়েছে, ‘বিগত ১০ এপ্রিল মঙ্গলবার মধ্যরাতে আপনি কবি সুফিয়া কামাল হলের আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অসত্য রটনা ও গুজব ছড়িয়েছেন যে, উক্ত হলের আবাসিক ছাত্রী ইফফাত জাহান ইশা, মোর্শেদা আক্তার নামক একজন আবাসিক ছাত্রীর রগ কেটে দিয়েছে এবং তাকে মারধর করেছে।’

‘আপনি অন্যান্য আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করেছেন ও তার আলোকচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আপনার এ ধরনের পূর্বপরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র ও প্রচারণা হলের ছাত্রীদের ভীষণভাবে উত্তেজিত ও আতঙ্কিত করে। তাছাড়া আপনি পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে সংঘবদ্ধ হয়ে ইফফাত জাহান ইশাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন এবং জোরপূর্বক ইফফাত জাহান ইশার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেন এবং তার বস্ত্র হরণ করেন।’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলে সংঘটিত উক্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার সাথে আপনার জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। একজন শিক্ষার্থী কর্তৃক এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যকলাপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে ভীষণভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও আইনের সুস্পষ্ট পরিপন্থি।’

গত ১৮ এপ্রিল শৃঙ্খলা পরিষদের সুপারিশ ও ৩০ এপ্রিলের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ঘটনায় ওই ছাত্রীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার কারণ চিঠি পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রক্টরের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো জবাব না পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপনার বিরুদ্ধে একতরফাভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

কারণ দর্শানোর এই নোটিশ ছাত্রীদের হলের ঠিকানা, বিভাগের ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিতা রেজওয়ানা রহমান।

তিনি বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার কারণ দর্শানোর এই নোটিশগুলো এসেছে। গতকাল হাউজ টিউটরদের মাধ্যমে চিঠিগুলো ছাত্রীদের দেওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টিই এখন প্রক্টর অফিস দেখছে।’

এ নোটিশ পেয়ে ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক ছাত্রী বলেন, আমরা হল ছাত্রলীগ সভাপতি ইশার লাঞ্ছনার সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। তারপরও তালিকায় আমাদের নাম দেওয়া হয়েছে। হল থেকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সেটার উত্তর দিয়েছি। এখন আবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া হয়েছে। এতে আমরা নতুন করে হয়রানির আশঙ্কা করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘তাদের বক্তব্য জানার জন্য এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রক্রিয়া। কাউকে হয়রানি করা হবে না।’

গত ১০ এপ্রিল রাতে সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রলীগের শাখা সভাপতি ইফফাত জাহান ইশার বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রীদের নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠে। এ সময় তার বিরুদ্ধে হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোর্শেদা খানমের পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ অভিযোগ ওঠার পর উত্তেজিত ছাত্রীরা ইশাকে লাঞ্ছিত করে। অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পেয়ে ছাত্রলীগ থেকে ওই রাতেই ইশাকে বহিষ্কার করা হয়। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তাকে বহিষ্কার করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

পরে রগ কাটার অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হলে ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে। পরে তাকে হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তে নামে প্রশাসন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন