বৃহস্পতিবার, ২১ জুন ২০১৮ ১২:১৯:১২ পিএম

দুর্যোগে বিপাকে বিএডিসির বীজ খামার কর্তৃপক্ষ

জেলার খবর | পাবনা | শুক্রবার, ১৮ মে ২০১৮ | ০৮:০৬:১৬ পিএম

কালবৈশাখী ঝড়, শিলা ও অব্যাহত বৃষ্টির কারণে পাবনার টেবুনিয়া বিএডিসির বীজ উৎপাদন খামারে উৎপাদিত ধান কেটে গুদামজাত করা নিয়ে বিপাকে পড়েছে খামার কর্তৃপক্ষ।

অব্যাহত বৃষ্টিতে প্রায় ৩০০ একর জমির ধান জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে বীজ গুদামে উঠানোর জন্য চেষ্টা করছে তারা।

স্থানীয় শ্রমিকেরা হাওর ও নওগাঁ অঞ্চলে ধান কাটতে যাওয়ার কারণে শ্রমিক সঙ্কট রয়েছে পাবনায়। ৭০০/৮০০ টাকা হাজিরা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া কঠিন হচ্ছে। বিএডিসি’র উৎপাদিত হাইব্রিড এই বীজ প্রতি কেজি ২৪০ টাকা ডিলার পর্যায়ে বিক্রি করা হয়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বীজ সঙ্কট মোকাবেলায় প্রতি বছরের ন্যায় চলতি বছরেও হাইব্রিড ও ভিত্তিবীজ ধানের আবাদ করেছে পাবনার বিএডিসি টেবুনিয়া খামার। খামারের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মহিবুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে ৩০০ একর জমিতে বীজ তৈরির জন্য ধান আবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে ধান কেটে বীজ গুদামজাত করার সময় হলেও প্রতিদিন বৃষ্টির কারণে তা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, বৃষ্টির ফাঁকে ফাঁকে লেবার দিয়ে ধান কাটলেও শুকানো নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। বীজের ধান স্পর্শকাতর। সঠিকভাবে শুকানো ও সংরক্ষণ করা না হলে বীজের গুণগত মান খারাপ হয়ে যায়। সেই কারণে যতটুকু রোদ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে শুকানো হচ্ছে। মেঘলা ও বৃষ্টির সময় ফ্যানের বাতাসে ধানের গা থেকে আদ্রতা শুকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, এরই মধ্যে কিছু জমির ধান কাটা হয়েছে। তার বীজ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পাবনার বোরো চাষিরাও আবহাওয়ার কারণে ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছে। চাটমোহর উপজেলার ধানকুনিয়া গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম জানান, ৬ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। বৃষ্টিতে জমিতে এক ফুট পানি জমে গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ধান ডুবে যেতে পারে- এ আশংকায় আধাপাকা ধান কেটে ফেলছেন তিনি। একই গ্রামের কৃষক লিটন মন্ডল জানায়, তার ধান পেকে গেলেও লেবার সঙ্কটে কাটতে পারছেন না। এলাকার লেবার সিংহভাগ হাওর ও নওগাঁ জেলায় ধান কাটতে গেছে। ফলে ৭০০/৮০০ টাকা হাজিরা দিয়েও লেবার পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভূতিভুষণ সরকার জানান, পাবনার নয়টি উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ৫০ হাজার ৩৭২ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৫৮ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। কয়েকবার শিলাবৃষ্টিতে ধানের খেত আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থায় অধিক টাকা মজুরি দিয়েও সময়মতো মিলছে না কৃষি শ্রমিক। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও শ্রমিক সংকটে কৃষকেরা বিপাকে পড়ে গেছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন