শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ১০:৩০:১২ এএম

বাংলাদেশের নতুন কোচ জেমি ডে

খেলাধুলা | শনিবার, ১৯ মে ২০১৮ | ০২:৪৯:১৬ এএম

ব্রিটিশ ফুটবল কোচের সঙ্গে কথা পাকা হয়ে গেছে। তাই আর নাম প্রকাশে দ্বিধা নেই বাফুফের। নাম তাঁর জেমি ডে, আগামী জুন থেকে তাঁর হাতে উঠছে বাংলাদেশ ফুটবল দলের দায়িত্ব।

অস্ট্রেলিয়ান কোচ অ্যান্ড্রু ওর্ড অধ্যায় শেষ হয় গত মাসে। মাত্র দশ মাসের কার্যকাল। এই অস্ট্রেলিয়ান চাকরি ছেড়ে যাওয়ার পরের মাসেই জাতীয় দল কমিটি চূড়ান্ত করেছে নতুন কোচ জেমি ডে-কে। খুব হাইপ্রোফাইল কোচ নন, ইংল্যান্ডে নিচের সারির দলে কাজ করেন। ওর্ডের মতো এটাই হতে যাচ্ছে ইংলিশ কোচের প্রথম জাতীয় দল। তাঁর বড় কোচ হওয়ার ইচ্ছাটাকেই বেশ মনে ধরেছে কমিটির প্রধান কাজী নাবিল আহমেদের, ‘খুব কম বয়সে কোচ হয়েছেন ডে। অত বড় দল সামলানোর অভিজ্ঞতা না থাকলেও তাঁর মধ্যে বড় হওয়ার ইচ্ছা দেখেছি। কোচ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। আশা করছি, খুব আন্তরিকভাবেই বাংলাদেশ দলকে নিয়ে ভালো করার চেষ্টা করবেন তিনি।’ মাত্র ২৯ বছর বয়সেই ডে ফুটবল কোচিং শুরু করেন ওয়েলিং ইউনাইটেডের কোচ কাম খেলোয়াড় হিসেবে। ওয়েলিং ইউনাইটেড ইংলিশ ফুটবল কাঠামোর ষষ্ঠ বিভাগের দল, সেখানে ২০০৯ সালে শুরু করার পর মনোযোগী হন কোচিং লাইসেন্সে। ফুটবল কোচিংয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন মাঠের কোচিং। কয়েকটি ক্লাবে প্রধান কোচের ভূমিকায় কাজ করার পর এ বছর সহকারী কোচ হিসেবে যোগ দেন ব্যারো অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল ক্লাবে।

সেখানে কয়েক মাস কাজ করে উয়েফা এ লাইসেন্সধারী এই ব্রিটিশ নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব। অর্থাৎ ইংলিশ ফুটবলের পঞ্চম বিভাগের দল থেকে সোজা জাতীয় দল! ক্লাব আর জাতীয় দলের প্যাটার্ন কিন্তু এক নয়। ক্লাবে দীর্ঘ সময় ধরে খেলোয়াড়দের পাওয়া যায়, সুবাদে ফুটবলারের সামর্থ্য-দুর্বলতাও থাকে কোচের নখদর্পণে। জাতীয় দলের বেলায় ব্যাপারটা ভিন্ন, শেখানোর সুযোগ খুব কম পান কোচ। জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান এটাকে বড় সমস্যা মনে করছেন না, ‘এই অফ সিজনে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা তাঁর হাতেই থাকবে। ২০ মে থেকে ক্যাম্প শুরু হচ্ছে, একদম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত চলবে এই ট্রেনিং। তত দিনে খেলোয়াড়দের সম্পর্কে তাঁর ধারণা হয়ে যাবে এবং খেলার একটা স্টাইলও তিনি দাঁড় করিয়ে ফেলবেন।’ এ বছর সেপ্টেম্বরে ঢাকায় হবে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ, তার আগে আছে এশিয়ান গেমস। সাফকে লক্ষ্য ধরেই বাফুফে তাঁর সঙ্গে এক বছরের চুক্তি করেছে। তার আগে কোনো পক্ষ চুক্তি থেকে বের হতে চাইলেই বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ গুনতে হবে।

কাজী নাবিল গত সপ্তাহে লন্ডনে গিয়ে আসলে তাঁর সঙ্গে কথা পাকা করে ফেরেন। কিন্তু কোচের অনুরোধেই নাকি নামটা এত দিন গোপন রাখতে হয়েছিল। গতকাল প্রকাশ করেই বাফুফে সহসভাপতি বলেছেন, ‘তাঁর ইংলিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ লেভেলে খেলার অভিজ্ঞতা আছে, যেটা তাঁর প্রফেশনাল কোচিংয়ে সহায়ক হবে। খামতির জায়গা হলো, এশিয়ায় কখনো কাজ করেনি। তবে আমার সঙ্গে যে রকম কথা হয়েছে, তাতে এশিয়ান ফুটবল সম্পর্কে একেবারে অজ্ঞ বলা যাবে না। এ দেশের ফুটবল সম্পর্কেও তাঁর কিছু ধারণা হয়েছে ইতিমধ্যে।’ আমাদের ফুটবল এবং ফুটবলারদের সম্পর্কে ধারণা পোক্ত করার জন্য বাফুফে অনুরোধ জানাবে স্থানীয় কোচদের।

জুনের প্রথম সপ্তাহে তাঁকে ঢাকায় আশা করছে বাফুফে। সঙ্গে করে একজন ফিটনেস ট্রেনারও আনতে বলা হয়েছে। মাসখানেক বাদে গোলরক্ষক কোচ আনবে। জাতীয় দল কমিটির আপাত পরিকল্পনা হলো প্রাথমিক ক্যাম্পের ফুটবলারদের ফিটনেস ফেরানো। এর পরই ফুটবলের টেকনিক্যাল-ট্যাকটিক্যাল কাজ। দলটাকে সুগঠিত করতে এ জন্য আগামী জুলাই-আগস্টে প্রীতি ম্যাচ খেলবে। সব আয়োজন ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ওই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে ঘিরেই। গত তিন আসরে বাংলাদেশ বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে। স্বাগতিক হয়ে এ রকম লজ্জার মুখোমুখি হতে চায় না বাফুফে। কিন্তু ব্রিটিশ কোচ কি পারবেন বাংলাদেশ ফুটবলের ভাগ্য বদলাতে!

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন