রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১০:০২:০৯ পিএম

বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঈদগাহ

জাতীয় | শনিবার, ১৯ মে ২০১৮ | ০৪:১৮:৪০ পিএম

দেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ
এমদাদুল হক মিলন, দিনাজপুর

গত বছর ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়ার মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হয়েছে দিনাজপুরের গোর-ই শহীদ বড় ময়দানের ঈদগাহটি। মোগল স্থাপত্যরীতিতে তৈরি এই ঈদগাহের কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালে। দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের পরিকল্পনায় এবং জেলা পরিষদের অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধানে এই ঈদগাহর মেহরাবের উচ্চতা ৫৫ ফুট। ৫২ গম্বুজবিশিষ্ট এই ঈদগাহে রয়েছে ৬০ ফুট করে দুটি মিনার।

তবে মাঝের গেট দুটি ৪৭ ফুট করে। এতে খিলান আছে ৩২টি। ঈদগাহ তৈরিতে রড, সিমেন্ট, বালু ছাড়াও সিরামিক টাইলস ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি গম্বুজে আছে বৈদ্যুতিক সংযোগ। সন্ধ্যার পর থেকেই মিনারে আলো ঝলমল করে ওঠে। ঈদগাহর পুরো কাজ এখনো শেষ হয়নি। সেটা হলে মাঠের দুই ধারে রাস্তা ও স্থায়ী অজুখানার ব্যবস্থা করা হবে।

এই ঈদগাহ নির্মাণে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় হবে। জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি জানিয়েছেন, এই ঈদগাহে সাত লাখ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়তে পারবে। আর দিনাজপুর জেলা পরিষদের উপসহকারী প্রকৌশলী জাকিউল আলম বলেন, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার ঈদগাহের আয়তন প্রায় সাত একর। অন্যদিকে দিনাজপুর গোর-ই শহীদ বড় ময়দানের আয়তন সাড়ে ১৪ একর। সে হিসাবে এটিকে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ বলা যেতে পারে। গত ঈদুল ফিতরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা কার্ডে এই ঈদগাহের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

ঈদগাহ মাঠটির সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এরই মধ্যে জনসভার জন্য স্থায়ীভাবে নির্মিত মঞ্চটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া ঈদগাহ মাঠের এক পাশে রয়েছে তেভাগা আন্দোলনের পথিকৃৎ কিংবদন্তি কৃষক নেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশের সমাধিস্থল।

শোলাকিয়া ঈদগাহ
শফিক আদনান, কিশোরগঞ্জ

এখন পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বড় ঈদুল ফিতরের জামাতটা কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহে হয়। লক্ষাধিক মুসল্লি শুধু মাঠের ভেতরেই একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারে। নামাজ আদায় করা মুসল্লিদের সংখ্যার হিসাব ধরেই এই ঈদগাহের নামকরণ হয়েছে। ইতিহাস বলে, শোলাকিয়ার সাহেববাড়ির পূর্বপুরুষ সুফি সৈয়দ আহম্মদ ১৮২৮ সালে তাঁর নিজ জমিতে নরসুন্দা নদীর তীরে ঈদের জামাতের আয়োজন করেন। তাঁরই ইমামতিতে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

সেই জামাতে এই মাঠে একসঙ্গে এক লাখ ২৫ হাজার অর্থাৎ সোয়া লাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করে। এই সোয়া লাখ থেকে এই মাঠের নাম হয় ‘সোয়ালাখিয়া’, যা উচ্চারণ বিবর্তনে আজ ‘শোলাকিয়া’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। পরে বাংলার বারো ভূঁইয়ার অন্যতম ঈশা খাঁর ষোড়শ বংশধর হয়বতনগরের জমিদার দেওয়ান মান্নান দাঁদ খানের প্রচেষ্টায় এই মাঠের কলেবর বৃদ্ধি পায়। তিনি ১৯৫০ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহের জন্য অতিরিক্ত ৪ দশমিক ৩৫ একর জমি দান করেন।

বর্তমানে মাঠের আয়তন প্রায় সাত একর। এর পশ্চিম সীমারেখা উত্তর-দক্ষিণে ৩৩৫ ফুট এবং পূর্ব সীমারেখা উত্তর-দক্ষিণে ৩১৪ ফুট এবং উত্তর সীমারেখা পূর্ব-পশ্চিমে ৭৮৮ ফুট ও দক্ষিণ সীমারেখা পূর্ব-পশ্চিমে ৯৪১ ফুট দীর্ঘ।

এই ঈদগাহ মাঠটি চারপাশে উঁচু দেয়াল ঘেরা। মাঠের ভেতরে পশ্চিম দিকের শেষ প্রান্তে রয়েছে একটি ছোট মসজিদ। এটির দোতলায় বসে ঈদের জামাতে দোয়া পরিচালনা করেন ইমাম। মিনার সংস্কার, মাঠে প্রবেশের প্রধান তোরণ নির্মাণ, ৪৫টি ওজুখানা, ১৫টি প্রস্রাবখানা ও পাঁচটি টয়লেট নির্মাণ এবং মাঠের মিম্বরটি সংস্কার করা হয়।

জাতীয় ঈদগাহ
ইমরান হোসেন মিলন, ঢাকা

স্বাধীনতার আগে থেকেই হাইকোর্টের পাশের জায়গাটি ছিল ঝোপজঙ্গলে পূর্ণ। সেই জায়গার মাঝে ছিল একটি পুকুর। ১৯৮১-৮২ সালের দিকে সেই ঝোপজঙ্গল কিছুটা পরিষ্কার করা হয়। হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে রয়েছে একটি মাজার। সেই মাজারে ওরসের আয়োজন হতো ওই পুকুরপারে। সেই সূত্রে জায়গাটি একটু পরিচিত হয়ে উঠলে সেখানে ছোট পরিসরে শামিয়ানা টানিয়ে ঈদের নামাজ পড়ানো শুরু হয়। ১৯৮৫ সালের দিকে সেই পুকুরটি ভরাট করে ফেলে কর্তৃপক্ষ। পরে ১৯৮৭-৮৮ সালের দিকে ওই ঈদগাহকে জাতীয় ঈদগাহ হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। বর্তমানে বাংলাদেশ হাইকোর্টের অধীনে ঈদগাহটি পরিচালিত হলেও তার দেখভাল করে গণপূর্ত বিভাগ। ২০০০ সালে দুই ঈদেই ঈদগাহ প্রস্তুতের দায়িত্ব পায় ঢাকা সিটি করপোরেশন। এখন সেই দায়িত্ব পালন করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

চারদিকে লোহার প্রাচীর দেওয়া বিশাল মাঠটিতে রয়েছে একটি মূল ফটকসহ কয়েকটি ফটক। কিবলার দিকে রয়েছে একটি মিহরাব। মিহরাবটি মূলত পাঁচটি মিনারে তৈরি।

জাতীয় ঈদগাহে একটি জামাতে অন্তত এক লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারে। সেখানে একই জামাতে নারীদের নামাজ আদায়ের জন্য থাকে ভিন্ন ব্যবস্থা। এখানে ২০ হাজার নারী একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারে।

ধানমণ্ডির মোগল ঈদগাহ
রিদওয়ান আক্রাম, ঢাকা

১৬১০ সালে সুবে বাংলার রাজধানী হয় ঢাকা। সুবেদারের বাসস্থান এবং অন্য রাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যালয়ও ছিল এখানেই। যুক্তিযুক্তভাবেই ঢাকায় তখন মোগলদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছিল বেশ। সেই সময়ে তাঁদের জন্য বাংলাদেশের প্রাচীন ঈদগাহটি তৈরি হয়েছিল ঢাকার ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকার সাতমসজিদ রোডে। বাংলার সুবেদার শাহ্ সুজার প্রধান অমাত্য মীর আবুল কাসেম ১৬৪০ সালে এটি তৈরি করেছিলেন। সেই আমলে ঈদের দিন এই ঈদগাহটিতে শুধু মোগলরাই যেতেন। সাধারণ মানুষের স্থান সেখানে ছিল না।

সুবেদার, নাজিম ও অন্য মোগল কর্মকর্তারা নামাজ পড়তেন এখানে। ইংরেজ আমলে জরাজীর্ণ ও জঙ্গলাকীর্ণ অবস্থায় ছিল ঈদগাহটি। মুনশী তায়েশের বর্ণনা থেকে জানা যায়, উনিশ শতকের শেষের দিকে শহরের মুসলমানরা এখানে ঈদের নামাজ পড়ত, সেই সঙ্গে আয়োজন করা হতো মেলা। এই ঈদগাহটিতেও বাংলাদেশের অন্য মোগল স্থাপত্যগুলোর মতো পোড়ামাটির ইট ব্যবহার করা হয়েছে। বন্যা বা বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য চার ফুট ভূমি উঁচু করে ঈদগাহটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

এ জন্য ধানমণ্ডির ঈদগাহটি মাটি থেকে চার ফুট উঁচু একটি সমতল ভূমিতে অবস্থিত। এর দৈর্ঘ্য ২৪৫ ফুট, প্রস্থ ১৩৭ ফুট। পশ্চিমে ১৫ ফুট উঁচু প্রাচীর, যেখানে রয়েছে মিহরাব ও মিম্বর। এই অংশটিই মোগল আমলের। বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ১৯৮৮ সালে সংস্কারের সময় অন্য তিন দিকের প্রাচীর নতুন করে তৈরি করেছে। চার কোণে রয়েছে অষ্টভুজাকৃতির বুরুজ। পশ্চিম প্রাচীরের মাঝ বরাবর প্রধান মেহরাব। আরো দুটি ছোট আকারের মেহরাব আছে এর দুই পাশে। প্রধান মেহরাবটি অষ্টকোনাকৃতির। ভেতরের দিকে খানিকটা ঢালু খিলান আকৃতির। মেহরাবগুলো দেয়ালের আয়তাকার ফ্রেমের ভেতরে অবস্থিত।

এস এম রানা, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম মহানগরীর ওয়াসা মোড় এলাকায় রয়েছে জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ। এই মসজিদের সামনে বিশাল মাঠ। এই মাঠেই দুই ঈদের জামাত হয়ে থাকে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন প্রতিবছর দুই ঈদের সময় চট্টগ্রামজুড়ে কোন মসজিদ বা মাঠে কখন ঈদ জামাত হবে এমন একটি তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকায় জমিয়তুল ফালাহ ঈদগাহ মাঠের সময়সূচি থাকে সবার আগে। কয়েক যুগ ধরে চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত এই মাঠেই হয়ে থাকে। ঈদের দিন এই ময়দানে চট্টগ্রামের রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি পদস্থ কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের মিলনমেলা বসে।

চারপাশে সীমানা প্রাচীর আছে মাঠজুড়ে। এই মাঠটি ২০১৩ সালে ঢালাই করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। বিগত চার-পাঁচ বছর আগেও বিশালাকৃতির এই মাঠজুড়ে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মাঠের অর্ধেকাংশজুড়ে নির্মাণসামগ্রীর স্তূপ করা হয়েছে। টিন দিয়ে বাকি অর্ধেক মাঠ ঘিরে রাখা হয়েছে। এসবের মধ্যেই এখন ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী

রাজশাহী শহরের দরগাহপাড়ায় অবস্থিত হজরত শাহ মখদুম (রহ.)-এর মাজার শরিফ থেকে কয়েক শ গজ পশ্চিমে গড়ে উঠেছে এই ঈদগাহ ময়দান। দরগাহ এস্টেট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পরপরই রাজশাহীর তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল মজিদ সিএসপি, সাব ডেপুটি কালেক্টর আবদুল করিম চৌধুরী, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখের উদ্যোগে রাজশাহী নগরীর কেন্দ্রস্থল পদ্মার তীরঘেঁষে রাজশাহী হজরত শাহ মখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রাথমিকভাবে এই ঈদগাহ ময়দানটি চার ফুট উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ছিল। পরে এই প্রাচীর ভগ্নপ্রায় হয়ে পড়লে দরগাহ এস্টেট পরিচালনা কমিটির তৎকালীন চেয়ারম্যান ও রাজশাহী জেলা প্রশাসক মো. আবদুস সালাম ১৯৮৫ সালে সেটি ভেঙে ফেলে সাত ফুট উঁচু একটি নতুন বেষ্টনী প্রাচীর তৈরি করেন।

১৯৯৭-৯৮ সালের দিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর উদ্যোগে ঈদগাহ ময়দানের ভূমি উঁচু ও সমতল করা হয়। এরপর আধুনিক স্থাপত্যের পাঁচ ফুট উঁচু বেষ্টনী প্রাচীর নির্মাণ করা হয়, যা আজও বিদ্যমান। ইট, বালু, সিমেন্ট আর রড দিয়ে নান্দনিকভাবে তৈরি ঈদগাহ মাঠের এই বেষ্টনী প্রাচীরে অসংখ্য ছোট পিলার রয়েছে। ঈদগাহ ময়দানের চারদিকে রয়েছে ছোট-বড় প্রায় ছয়টি প্রবেশপথ। ঈদগাহ ময়দানটির দক্ষিণ-পশ্চিম কর্নারে আধুনিক কারুকার্যে নির্মিত হয়েছে ছোট্ট একটি মসজিদ। পাশেই রয়েছে অজুখানা।

২০১৩ সালে তৎকালীন মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন পদ্মা নদীর শহররক্ষা বাঁধকে সোজা করে এই ঈদগাহ মাঠের আয়তন দ্বিগুণ করেন। এখন এটির আয়তন দৈর্ঘ্যে ৪০০ ফুট এবং প্রস্থে ৪০০ ফুট। ওই বছরই মাঠে নতুন একটি মেহরাব তৈরি করা হয়। সেখানেই বর্তমানে ঈদের জামাত পড়ানো হয়।

সিলেটের শাহি ঈদগাহ
ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট

সপ্তদশ শতাব্দীতে দিল্লির মসনদে বসেন সম্রাট আওরঙ্গজেব। তাঁর শাসনকালে (১৬৫৯-১৭০৭ সাল) সিলেটে মোগল ফৌজদার হিসেবে নিয়োগ পান ফরহাদ খাঁ। এই ঈদগাহ নির্মাণে তিনি উদ্যোগী হন। সরাসরি তাঁর তত্ত্বাবধানে মোগল স্থাপত্যরীতিতে এই ঈদগাহের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।

সিলেট শহরের ব্যস্ততম আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে টিলাগড়মুখী সড়কের মাঝামাঝি এই স্থাপনার অবস্থান। স্থাপনার নামানুসারে পুরো এলাকাই এখন শাহি ঈদগাহ এলাকা নামে পরিচিত। ছোট একটি টিলার ওপর ঈদগাহের মূল অংশের অবস্থান। সবুজে ঘেরা বিশাল ঈদগাহ প্রাঙ্গণের চারদিক সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা।

অভ্যন্তরে প্রবেশের জন্য প্রাচীরের চারদিকে সব মিলিয়ে রয়েছে তিনটি বিশালাকার তোরণ এবং আটটি ছোট প্রবেশপথ। ভেতরেই রয়েছে দৃষ্টিনন্দন শানবাঁধানো পুকুর, নানা জাতের গাছপালা। ঈদগাহের বিশাল ময়দান থেকে মূল অংশে যেতে বিশাল আকারের ২২টি সিঁড়ির ধাপ অতিক্রম করতে হয়। তারপর দেখা মিলবে পশ্চিম প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মিহরাবের। মিহরাবটি অর্ধ গম্বুজের আকৃতিতে নির্মিত। প্রধান মিহরাবকে কেন্দ্র করে দুই পাশে আরো ১৪টি সহকারী মিহরাব রয়েছে। মিহরাবগুলো অষ্টভুজাকৃতি বুরুজ ওপরে ছত্রী দ্বারা আচ্ছাদিত। স্থাপনার পুরোটাই নকশা খচিত।

পরবর্তী সময়ে মোগল স্থাপত্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক স্থাপত্যও। ২০০২ সালে ঈদগাহের তিন দিকে তিনটি বিশাল তোরণ নির্মাণ করা হয়। মোগল স্থাপত্যকলাকে ভাবনায় রেখে তোরণগুলোর নকশা করা হয়। এরপর ২০১৩ সালে ঈদগাহের পশ্চিম-উত্তর প্রান্তে সুউচ্চ মিনার নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০০ ফুট উচ্চতার এই সুদৃশ্য মিনারে মোগল আমল আর চলমান সময়ের স্থাপত্যকলাকে এক সূত্রে গাঁথার চেষ্টা করা হয়েছে। তিন ধাপে তৈরি মিনারটি এক হাজার ৬০ বর্গফুট ভূমিজুড়ে অবস্থিত।

-কালের কণ্ঠ

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন