মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ ১০:১৪:১০ পিএম

মিয়ানমার সেনাদের আবারো উস্কানি: সীমানা আমাদের, তোমরা বাংলাদেশে যাও

জাতীয় | শনিবার, ১৯ মে ২০১৮ | ০৫:৫৮:৩১ পিএম

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছ‌ড়ির ঘুমধুমের তুমব্রু সীমান্তের‌ কোনাপাড়ার শূন্য রেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) থাকা রো‌হিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশের দিকে সরে আসতে আবার মাইকিং করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। শনিবার (১৯ মে) সকাল থেকে তারা এ মাইকিং শুরু করে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এই ঘটনায় সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে বিজিবি।

মিয়ানমারের সেনাদের এই পদেক্ষেপে সীমান্তে থাকা রোহিঙ্গাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সেই সঙ্গে উদ্বিগ্ন সীমান্তের বাংলদেশিরাও।

এ ব্যাপারে রো‌হিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, ‘শনিবার সকাল থেকে মাইকিং করে মিয়ানমারের সেনারা বলছেন এটি মিয়ানমারের সীমানা। এখান থেকে সরে বাংলাদেশে যাও।’

‘কিছুক্ষণ পরপর তারা এ কথা বলছে। এর আগেও তারা একইভাবে মাইকিং করছিল।’

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, ‘এর আগেও তারা একবার মাইকিং করে রো‌হিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশের দিকে সরে আসতে বলেছিল। কিছু‌দিন চুপচাপ থাকার পর আজ আবার মাইকিং করে একই কথা বলছে। এরপর থেকে সীমান্তে রো‌হিঙ্গাদের আতঙ্ক‌ বিরাজ করছে।’

তুমব্রু সীমান্তে আশ্রয় নেওয়া সাড়ে ছয় হাজার রো‌হিঙ্গার মধ্যে এখন প্রায় চার হাজারের মত রো‌হিঙ্গা রয়েছে।

তুমব্রু বিওপি কমান্ডার সুবেদার আব্দুল হাকিম জানান, আমরা শুনেছি- সকাল থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে চলে আসছে থেমে থেমে মাইকিং করছে এবং বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে।

তবে আমাদের পক্ষ থেকে আগের চেয়ে সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি তৎপর রয়েছে।

গত মার্চেও এই সীমান্তে মিয়ানমারের সেনা ও অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন এবং রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশের টিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টায় মাইকিং নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। সে সময় বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিও শক্তিবৃদ্ধি করেছিল।

বিজিবির তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের পরে অবশ্য মিয়ানমার সেনাবাহিনী পিছু হটে। দুই পক্ষে পতাকা বৈঠকের পর সরিয়ে নেয়া হয় মিয়ানমারের অস্ত্রশস্ত্র।

মিয়ানমার তার দেশের রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী রোহিঙ্গা মুসলিমদেরকে নাগরিক হিসেবে স্বীকার করতে চায় না। নানা সময় সেনা অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা।

সব শেষ গত আগস্টে রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়েছে। আর তাদেরকে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক এবং একটি চুক্তি করেছে মিয়ানমার।

গত জানুয়ারি থেকেই প্রত্যাবাসন শুরুর কথা ছিল। আর এই প্রত্যাবাসনে সবার আগে নিজ দেশে ফেরার কথা ছিল তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের।

সব শেষ গত ১৭ মে ঢাকায় ঢাকায় বাংলাদেশে-মিয়ানমার জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব এ কে এম শহিদুল হক জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সময় লাগবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন