বুধবার, ২২ আগস্ট ২০১৮ ০৫:৫৭:৩০ এএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেই দেশে সাইবার অপরাধ বেশি হচ্ছে

জাতীয় | রবিবার, ২০ মে ২০১৮ | ০৬:২৯:১৬ পিএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেই দেশে সাইবার অপরাধ বেশি হচ্ছে। সাইবার অপরাধের শিকার বেশি হচ্ছেন ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী নারীরা। ১৩৩ জন ভুক্তভোগীর ওপর চালানো জরিপ থেকে পাওয়া গবেষণার ভিত্তিতে এই পরিস্থিতি তুলে ধরেছে ‘সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংগঠনটির তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে সংঘটিত সাইবার অপরাধের সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী মেয়েরা। ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১৮ বছরের কম ১০.৫২%, ১৮ থেকে ৩০ বছরের কম ৭৩.৭১%, ৩০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে ১২.৭৭% এবং ৪৫ বছরের বেশি ৩%।

সাইবার অপরাধ প্রতিকারের উপায় নিয়ে স্বচ্ছ ধারণার অভাব এবং লোকলজ্জা ও ভয়ভীতির কারণে এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অপরাধের শিকার হওয়া ৪৪ শতাংশ ভুক্তভোগী মনে করেন, অপরাধীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি দেয়া গেলে ঘুণপোকা খ্যাত এ নীরব ঘাতকের হাত থেকে পরিত্রাণ মিলবে। ২৯ শতাংশ আইনের প্রয়োগ বাড়ানো এবং ২৭ শতাংশ সচেতনতা বাড়ানোর প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে আক্রান্ত সাইবার অপরাধের মধ্যে অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্টে অপপ্রচারের শিকার হন ১৪.২৯ শতাংশ নারী। একই ধরনের অপরাধের শিকার হন ১২.৭৮ শতাংশ পুরুষ। অবশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি হ্যাকিং/তথ্য চুরির শিকার নারী- পুরুষের অনুপাতে পুরুষের অবস্থান দ্বিগুণের চেয়ে বেশি।

এক্ষেত্রে ১৩.৫৩ শতাংশ পুরুষ আক্রান্ত হলেও নারীর আক্রান্তের হার ৫.২৬ শতাংশ। অপরাধের ধরনে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ছবি বিকৃতির মাধ্যমে অনলাইনে অপপ্রচারে নারী-পুরুষের এ অনুপাত অনেকটাই বিপ্রতীপ বলা চলে। এ অপরাধে আক্রান্ত নারীর হার ১২.০৩% হলেও পুরুষের বেলায় তা ৩.৭৬%।

অনলাইনে হুমকিমূলক বার্তাপ্রাপ্তির হার নারীর ক্ষেত্রে ৯.৭৭% এবং পুরুষ ভুক্তভোগীর ক্ষেত্রে ৩.৭৬%।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২১ শতাংশের মধ্যে ৭ শতাংশ ভুক্তভোগী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নালিশ করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ২৩ শতাংশ আইনি ব্যবস্থা নিয়ে উল্টো হয়রানির ভয়ে পুরো বিষয়টি চেপে যান। অন্যদিকে সামাজিক ভাবমর্যাদা রক্ষায় পুরো বিষয়টি গোপন রাখেন ১৭ শতাংশ এবং প্রভাবশালীদের ভয়ে নিশ্চুপ থাকেন ৫ শতাংশ ভুক্তভোগী।

ব্যক্তিপর্যায়ে ভুক্তভোগীদের প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে বিষয়টি পর্যালোচনা এবং তাদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে এ গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এতে ১৩৩ ভুক্তভোগীকে নয়টি প্রশ্ন করা হয়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন