শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮ ০৯:৩০:৫২ এএম

বাগেরহাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে লাখ টাকা জরিমানা

জেলার খবর | বাগেরহাট | মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮ | ০৭:২১:০৭ পিএম

বাগেরহাট শহরের দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহৃত অবৈধ কেমিক্যাল রাখার দায়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট শহরের ফলপট্টি এলাকার সুতা ব্যবসায়ী শ্যামল কুমার নাগের দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করে।

এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবর পেয়ে খানজাহান আলী সড়ক, মেইনরোড, কচুয়াপট্টি, নাগেরবাজার সড়ক, সাধনার মোড় এবং রাহাতের মোড়ের অধিকাংশ বেকারি, ফলের দোকান এবং মিষ্টির দোকান বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা সটকে পড়েন। তারা জেল-জরিমানা এড়াতে তাদের দোকানপাট বন্ধ করেন বলে অভিযোগ সাধারণ ক্রেতাদের।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বদানকারী বিচারক ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম (ম্যাজিস্ট্রেট) মো. শাহরিয়ার মুক্তার সাংবাদিকদের বলেন, বাগেরহাট শহরের ফলপট্টি এলাকার সুতা ব্যবসায়ী শ্যামল নাগের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযানে যাই। তার দুই ছেলে অমল কৃষ্ণ নাগ ও হরিপদ নাগ এই দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। সেখানে গিয়ে তাদের দুই প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক কেমিক্যালের আটটি প্লাস্টিকের ক্যান জব্দ করা হয়। ওই কেমিক্যাল আইসক্রিম, বেকারিপণ্যসহ হাতে তৈরি বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যে মিশিয়ে বাজারজাত করা হয়ে থাকে। এই ক্ষতিকারক কেমিক্যাল ওই ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি করে আসছিলেন। এই কেমিক্যাল মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক। বিএসটিআই এই কেমিক্যাল খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহারে অনুমতি দেয়নি। অবৈধ বিক্রয় নিষিদ্ধ কেমিক্যাল দোকানে রেখে বিক্রির দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৫২ ও ৫৩ ধারায় ওই দুই ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার করে মোট এক লাখ জরিমানা করা হয় এবং তাদের দোকানে পাওয়া কেমিক্যাল ধ্বংস করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বাজারে অভিযানে এলে কিছু ব্যবসায়ী আগেই খবর পেয়ে যান। তারা জেল-জরিমানার ভয়ে দোকান বন্ধ রেখে গা-ঢাকা দেন। আমরা ফিরে গেলে তারা আবার দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করেন।

বাগেরহাট বাজারে আসা কবির হোসেনসহ একাধিক ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, বাগেরহাটের শহরের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক লাভের জন্য অবৈধ ব্যবসা করে আসছেন। এখন আম, কাঁঠাল, লিচুর মৌসুম চলছে। তারা এসব মৌসুমি অপরিপক্ব ফলে কার্বাইডসহ নানা ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার করে পাকাচ্ছেন। যা মানবদেহের ক্ষতি হচ্ছে। তাদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে নিয়মিত অভিযান চালাতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তারা।

বাগেরহাট শিল্প বণিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত হোসেন লিটন বলেন, বাজারে ভেজালবিরোধী অভিযান চালানো ভ্রাম্যমাণ আদালতের রুটিন ওয়ার্ক। তাদের নিয়ম অনুযায়ী তা পরিচালিত হবে। এখানে কোনো ব্যবসায়ী অসৎ উদ্দেশ্যে অধিক লাভের আশা করলে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে এটাই স্বাভাবিক।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন