মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮ ০৮:১৬:৫৮ এএম

মোটরসাইকেল-সিএনজি চোরাই চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

আইন আদালত | বুধবার, ২৩ মে ২০১৮ | ০৫:১১:০৪ পিএম

সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল ও সিএনজি চোরাই চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তাররা হলেন_ রফিক (৩০), মানিক (৩৫), আব্দুল আলিম (২২), হাসান মৃধা (২০), মোহাম্মদ আলী (৩৫) ও চাঁন মিয়া (৩০)। এ সময় তাদেও কাছ থেকে এ সময় তাদের হেফাজত হতে ১১ টি চোরাই মোটরসাইকেল, ২টি সিএনজি, ১ টি পাঞ্চ মেশিন, ১টি হ্যান্ডকাপ, পুলিশের ৫সেট পোশাক, ৩ প্যাকেট প্রাণ জুস, ২০ পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট ও ২টি সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগরের পশ্চিম মাটিকাটা, উত্তরা, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা হতে মঙ্গলবার (২২ মে) তাদেরকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার (২৩) মে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখা।

ডিএমপি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ডিবি উত্তর বিভাগের গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা মহানগরের পশ্চিম মাটিকাটা হতে রফিক ও মানিককে, উত্তরা এলাকা হতে মোহাম্মদ আলী ও চাঁন মিয়াকে এবং কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা হতে মোঃ আব্দুল আলিম ও মোঃ হাসান মৃধাকে গ্রেপ্তার করে।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, অভিযানকালে প্রথমে রাজধানীর পশ্চিম মাটিকাটা হতে রফিক ও মানিককে ০১টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরে তাদের দেওয়া তথ্যমতে, কিশোরগঞ্জ জেলা হতে ৫টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আব্দুল আলিমকে এবং নরসিংদী জেলা হতে হাসান মৃধাকে ৫টি মোটর সাইকেল ও ১টি পাঞ্চ মেশিনসহ গ্রেপ্তার করা হয়। হাসান উদ্ধারকৃত পাঞ্চ মেশিনের মাধ্যমে মোটর সাইকেল এর চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর পরিবর্তন করে বিআরটিএ এর মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বিক্রি করত।
পরে, হাসানের দেয়া তথ্যের আলোকে রাজধানীর উত্তরা ১৩ নং সেক্টর এলাকা হতে পুলিশের এসআই র‌্যাংক ব্যাজ পরিহিত পোশাকে মোহাম্মদ আলীকে ও কনস্টেবল এর র‌্যাংক ব্যাজ পরিহিত পোশাকে চাঁন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের নিকট হতে ২টি চোরাই সিএনজি, ১জোড়া হ্যান্ডকাফ, জেলা পুলিশের ৩ সেট পোশাক, ৩ প্যাকেট প্রাণ জুস, ২০ পিস চেতনানাশক ট্যাবলেট ও ২টি সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ আলী ও চাঁন মিয়া জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, পুলিশ সেজে তাদের একজন সিভিল সহযোগীকে আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার করে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে সিএনজি ওঠে। কিছুদুর যাওয়ার পর তাদের অন্যান্য সহযোগীদের সাথে পরিকল্পনা মাফিক পূর্ব নির্ধারিত স্থানে সিএনজি থামায়।

উক্ত স্থান হতে তারা চা/জুস/সিদ্ধ ডিম ইত্যাদি খায়। এ সময় তারা কৌশলে সিএনজি চালকের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করে এবং পুলিশের পোশাক পরে বিশ্বস্ততা অর্জন করে তাকে খাদ্য গ্রহণের আমন্ত্রণ জানায়। সিএনজি চালক রাজি হলে ট্যাবলেট মিশ্রিত চা/জুস/সিদ্ধ ডিম ইত্যাদি খাওয়ায়। খাবার খেয়ে সিএনজি চালক অজ্ঞান হলে তাকে সুবিধামত স্থানে ফেলে দিয়ে সিএনজি নিয়ে পালিয়ে যায়।

ডিবি সূত্রে আরো জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা মহানগেরর বিভিন্ন এলাকা হতে মোটরসাইকেল ও সিএনজি চুরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করে। গ্রেফতারকৃত রফিক ও মানিক মোটরসাইকেল চুরি করে আলিমের নিকট বিক্রি করে। পরবর্তী সময়ে আব্দুল আলিম তার সহযোগী হাসান মৃধার মাধ্যমে মোটরসাইকেলর চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর পরিবর্তন করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে।

এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন