সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ০৭:২৬:৩৮ পিএম

‘নামীদামী রেস্টুরেন্টের ভেজাল খাবারে প্রাণহানী পর্যন্ত হতে পারে’

জাতীয় | বুধবার, ২৩ মে ২০১৮ | ০৬:০৭:২৯ পিএম

নান্দনিক আয়োজনে রাজধানীতে গড়ে ওঠা অনেক নামীদামী রেস্টুরেন্ট আর সুপারশপে গিয়ে প্রায়ই প্রতারিত হচ্ছেন গ্রাহকরা। এসব রেস্টুরেন্টে খাবারে ভেজাল মেশানোর অভিযোগ ছাড়াও মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার বিক্রিরও প্রমাণ মিলছে অহরহ। ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুখ বলেছেন, ভেজাল এসব খাবারে অনেক সময় প্রাণহানী পর্যন্ত হতে পারে। এসব ভেজাল খাবার পরিবেশন শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তা।

খাবারের জন্য আমরা অনেকেই নামীদামী রেস্টুরেন্টের দিকে ঝুঁকে থাকি। তবে আমাদের নজরকে ফাঁকি দিয়ে মেয়াদ পেরোনো খাবারের গায়ে নতুন স্টিকার লাগিয়ে মেয়াদ বাড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত অনেকে। বাইরে চাকচিক্য, ভেতরে প্রতারণার চিত্র। এ ধরণের কাজ গ্রাহকদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেকটাই হুমকিস্বরুপ।

ভুক্তভোগীরা জানান, খাবারের প্যাকেটে একটি স্টিকারের উপর আরেকটি স্টিকার। একটি প্যাকেটের ডেট আজ শেষ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু আরেকটি নতুন স্টিকার লাগিয়ে তিন দিন বাড়িয়ে নিচ্ছে। সবকয়টি প্যাকেটের মধ্যে দুটি করে স্টিকার লাগানো। এটা একটি অপরাধ।

এমন ঘটনায় রেস্টুরেন্টে দায়িত্বরত সুপারভাইজার নিজেদের ভুল স্বীকার করলেন। বিএফসির সুপারভাইজার মোস্তফা হোসেন বলেন, আমি আমাদের ভুল স্বীকার করছি। এটা হয়তো ভুল করে আমাদের হেড অফিস থেকে এসেছে। এটা বড় একটা অপরাধ।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন বলছে, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে জরিমানা আদায় ও অভিযোগকারীকে সে জরিমানার ২৫ শতাংশ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়ে থাকে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শফিকুল ইসলাম লস্কর বলেছেন, মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে আমরা সেখানে ক্ষতিপূরণ দিচ্ছি। কেউ যদি অভিযোগ করে সেখানে যে অভিযোগকারী তার ক্ষতিপূরণ পায়।

ভেজাল বিরোধী অভিযান অব্যাহত আছে তবে এটি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরো সময়ের প্রয়োজন।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেছেন, শুধু মাত্র নিম্ন বা মধ্যম শ্রেণির ব্যবসায় অভিযান হচ্ছে তা নয়। ব্র্যান্ডের যে দোকান সেখানেও মেয়াদ উর্ত্তীণ খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। তারা দেখা যাচ্ছে তারিখ পরিবর্তন করে মেয়াদ বাড়িয়ে বাজারে ছেড়ে দিচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুখ বলেছেন, ভেজাল খাবারের কারনে এটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে যে শক্ত ডায়রিয়া হয়। ঠিক ঐ ধরনের রোগী আক্রান্ত হবে। তার সাথে যদি আবার যে সমস্ত ব্যাকটেরিয়া থাকে সে ক্ষেত্রে রোগীর প্রাণহানীও হতে পারে। সূত্র : সময় টিভি

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন