রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ ০৫:১৫:০০ এএম

হাসিনা-মোদি বৈঠকের আগে তিস্তায় হঠাৎ পানির ঢল

জাতীয় | বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮ | ১১:৫৯:২১ এএম

দেশজুড়ে বৃষ্টি-বাদলা হলেও চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই তিস্তায় ছিল না পর্যাপ্ত পানি। কৃষকের বুকে ছিল হাহাকার। হঠাৎ করেই গত দুদিন ধরে তিস্তায় বাড়তে শুরু করেছে পানির ঢল। এতে উত্তরের জনপদের কৃষকদের মুখে জানি ফুটে ওঠেছে। তিস্তায় পানির ঢল নামলো পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে শুক্রবার অনুষ্ঠেয় হাসিনা-মোদি বৈঠকের পূর্বমুহূর্তে।

রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বিজড়িত পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলাদেশ ভবন' উদ্বোধন করতে শুক্রবার (২৫ মে) শান্তিনিকেতন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠান শেষে শান্তি নিকেতনেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিষয়াদি নিয়ে বৈঠকে বসবেন।

দুই প্রতিবেশী দেশের শীর্ষ বৈঠকে ঝুলে থাকা তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসাবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কোন প্রতিনিধির নাম রাখা হয়নি। কাজেই হাসিনা- মোদি বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা তিস্তার চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে না বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

অর্ধযুগ আগে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় মমতা ব্যানার্জীর আপত্তিতে ঝুলে যাওয়ার পর তিস্তার জট আর খোলেনি। নয়া দিল্লীতে পালাবদলে ক্ষমতায় আসা বিজেপি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশা দিলেও এতে মমতাকে রাজি করাতে পারেননি। দেশের উত্তরাঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য তিস্তার পানি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে দ্বিপক্ষীয় যে কোন বৈঠকেই ঢাকার পক্ষ থেকে নয়া দিল্লীকে তাগিদ দেয়া হয়। এর আগে ২০১১ সালে তিস্তা চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ‌ব্যানার্জির আপত্তিতে তা থমকে যায়। ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, এই ইস্যুতে মমতা এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছেন।

লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে বুধবার (২৩মে)পানির উচ্চতা একদিনে সর্বোচ্চ ১০ সেন্টিমিটার বাড়ে। কর্তৃপক্ষের হিসাব মতে সোমবার (২১ মে) দুপুর ১২টায় ব্যারেজ পয়েন্টের পানির উচ্চতা ছিল ৫০.৭ সেন্টিমিটার। মঙ্গলবার (২২ মে) দুপুর ১২টায় পানির উচ্চতা দেখা যায় ৫১.১০ সেন্টিমিটার। তিস্তায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে পানির প্রবাহ। সম্প্রতি খরস্রোতা রূপ ধারণ করেছে এই নদী। এখন সেখানে পানির প্রবাহ প্রায় ২৩০০ কিউসেক বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, তিস্তার পানি এই হারে বাড়তে থাকলে আশেপাশের প্রায় ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পাবেন কৃষকরা। কৃষিকাজের জন্য পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের অভাবে এই বছর রংপুর-দিনাজপুরের কৃষকরা এখনও জমি চাষ শুরু করতে পারেননি।নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ব্যারেজের কয়েকটি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে তিস্তার চরাঞ্চলে।

তিস্তার পানি হঠাৎ বাড়ায় এই অঞ্চলের কৃষকদের মুখে হাসি ফুটতে দেখা যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, এক সপ্তাহ আগেও পানি প্রবাহের মাত্রা ছিল ৮০০ থেকে ৯০০ কিউসেক। সম্প্রতি তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩০০ কিউসেকে, যা পূর্বের তুলনায় প্রায় তিনগুণ। গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং ভারতীয় অংশের গজলডোবা বাঁধের গেটগুলো খুলে দেওয়ায় তিস্তার পানির হঠাৎ বেড়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।-পূর্বপশ্চিম বিডি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন