বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮ ১২:১৪:০০ এএম

ইবিএলের নিরাপত্তাকর্মী খুন : রাসেলের স্বীকারোক্তি

আইন আদালত | বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮ | ০৪:৫৩:১৫ পিএম

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মী শেখ তৌহিদুল ইসলাম নুরুন্নবীর হত্যাকারী রাসেল শেখ নয়ন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ মে) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে তাকে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার উপ-পরিদর্শক আসাদুজ্জামান। এ সময় তিনি রাসেলের জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত সিকদার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন আদালত।

সোমবার (২১ মে) সকালে ক্যান্টনমেন্টের পোস্ট অফিসের পাশের ইবিএল বুথে শেখ তৌহিদুলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সোমবার রাতে নিহতের বাবা শেখ আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে হত্যাকারী ‘অজ্ঞাত’ উল্লেখ করা হয়।

পরে মঙ্গলবার (২২ মে) দিবাগত রাতে খুলনার সোনাডাঙ্গা থেকে রাসেলকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল জানায়, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তৌহিদুলের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড।

বুধবার (২৩ মে) দুপুরে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মনজুর মেহেদী ইসলাম বলেন, গত জুলাইয়ে বাগেরহাটের একটি নৌকাবাইচ অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে নিহত তৌহিদুলের গায়ে অসাবধানবশত রাসেলের সাইকেল লাগে। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে নৌকাবাইচ থেকে ফেরার পথে রাসেলকে মারধর করে তৌহিদুল।

চলতি বছরের ১ মে থেকে 'গ্লোব সিকিউরিটি সার্ভিস' নামে একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের অধীনে সেনানিবাসের ইবিএল বুথে নিরাপত্তা কর্মীর কাজ শুরু করেন তৌহিদুল। রাসেল আইকন ফর সিকিউরিটি সার্ভিসে রিক্রুটিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন।

ঘটনার বিবরণে মেজর মনজুর বলেন, ২০ মে রাতে তৌহিদুল ওই বুথে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। রাসেল ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় লোক নিয়োগের পোস্টারিং করছিলেন। রাতে ইবিএলের ওই বুথে তৌহিদুলকে দেখে রাসেল ক্ষিপ্ত হয়। গত বছরের বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর হাতাহাতি। এক পর্যায়ে ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে রাসেল ছুরি দিয়ে তৌহিদুলকে জখম করে। তৌহিদুলের মৃত্যু নিশ্চিতের পর এটিএম বুথের লাইট বন্ধ করে ছুরিটি পাশের ড্রেনে ফেলে খুলনা পালিয়ে যায় রাসেল।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রাসেলের ছুরিটি এটিএম বুথের ভেতরেই ছিল উল্লেখ করে মেজর মনজুর বলেন, এটিএম বুথের নিরাপত্তা কর্মী যেহেতু বুথেই থাকত, তাই বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য ছুরিটি সম্ভবত সেখানেই ছিল। রাসেলকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন