বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ ১২:৪৭:৫৪ পিএম

রাজধানীর দক্ষিণখানে গৃহকর্মীকে খুন করে লাশ গুম করতে গিয়ে গ্রেপ্তার

নুরুল আমিন হাসান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | নগর জীবন | শনিবার, ২৬ মে ২০১৮ | ০২:১৮:০৪ এএম

রাজধানীর দক্ষিণখানে সাথী আক্তার (৮) নামে এক গৃহকর্মীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের পর গলায় ফাঁসি দিয়ে খুন করা হয়। পরে লাগেজের ভেতর লাশ নিয়ে ঘুম করার চেষ্টাকালে শরিফ হেজু (৩৮) নামে এক জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কিন্তু খুনের নেপথ্যের মূল হোতা কাজল রেখাকে দুই দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত সাথীর বাবা বৃহস্পতিবার বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত গৃহকর্মীর বাড়ী ময়মনসিংহ জেলায়।

অপরদিকে গ্রেপ্তার হওয়া লাশ বহনকারী শরীফ হচ্ছে যশোর জেলার চৌগাছা থানাধীন সলই বাজার সংলগ্ন জাগাটি নামক মৃত আসমত আলীর ছেলে। সে বর্তমানে দক্ষিণখান থানাধীন চালাবনের সিএনজি পাম্প এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

এর আগে দক্ষিণখান থানাধীন কোর্টবাড়ী এলাকার রেললাইন চেকপোস্ট থেকে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে একটি লাগেজের ভেতর থেকে সাথীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত গৃহকর্মীর সুরতহালের বরাত দিয়ে দক্ষিণখান থানা পুলিশ জানান, `নিহত গৃহকর্মীর পা থেকে মাথা পর্যন্ত শরীরের সম্পূর্ণ অংশ জুড়েই ছিল নির্মম অত্যাচারের চিহ্ন। এমনকি পায়ের তালু - মাথায়ও ছিল জখমের চিহ্ন। এছাড়াও গলায় ছিল ফাঁসির দাগ। যা দেখে পুলিশের ধারণা, অমানবিক নির্যাতন করার পর গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে সাথীকে হত্যা করা হয়েছে।`

হত্যাকান্ডের বিষয়ে দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা বলেন, `হত্যাকান্ডের মূল হোতা কাজল রেখা। তার বাড়ীতেই সাথী তিন মাস যাবত গৃহকর্মীর কাজ করে আসছিল। এ ঘটনায় সহযোগী শরিফ হেজুকে গ্রেপ্তার করা হলেও কাজল রেখা এখনো পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের পর হত্যাকান্ডের কারণ জানা যাবে।`

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাজল রেখা পেশায় একজন নাচনেওয়ালী। তিনি এলাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচ গান করতেন। আর থাকতেন দক্ষিণখান থানাধীন চালবন সংলগ্ন সিএনজি পাম্প এলাকায়।

আর হত্যাকান্ডের ঘটনাটিই হয় সিএনজি পাম্প এলাকার ভাড়া বাসায়। পরে ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে লাশ ঘুম করতে একটি গোলাপী রংয়ের লাগেজের ভেতর লাশটি ধুমড়েমুচড়ে ঢোকানো হয়। পরবর্তীতে রিকশা যোগে নেওয়া আব্দুল্লাহপুর শ্যামলী বাংলা বাস কাউন্টারে নিয়ে সেখান থেকে বাসে করে ময়মনসিংহ জেলার কোন এক নীরব স্থানে লাশ ঘুমের পরিকল্পনা করা হয়।`

এদিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী চালবনের গণকবরস্থান থেকে একটি রিকশা আব্দুল্লাহপুর শ্যামলী বাংলা বাস কাউন্টারে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভাড়াও করা হয়। ওই লাগেজের ভেতরে থাকা লাশের সঙ্গে ছিলেন শরিফ হেজু। আর তার পিছনে অপর এক রিকশায় ছিলেন কাজল রেখা। কিন্তু আব্দুল্লাহপুর বাস কাউন্টারে যাওয়ার আগেই রিকশা কোর্টবাড়ী রেললাইনে পুলিশের কাছে লাশসহ গ্রেপ্তার হয় শরীফ হেজু।

ঘটনার সময় কোর্টবাড়ী রেললাইনে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা জানায়, `সন্দেহভাজন একটি রিকশাকে সিগনাল দেওয়া হলে রিকশায় লাগেজ রেখেই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন শরীফ হেজু। পরবর্তীতে তাকে দৌড়ে ধরা হয়। অপরদিকে রিকশায় থাকা লাগেজ খুলেই মিলে নিহত গৃহপরিচারিকার লাশ। যা ধুমড়েমুচড়ে ঢোকানো হয়েছিল।`

পুলিশ সদস্যরা আরো জানান, `শরীফ হেজুকে গ্রেপ্তারের পর সে জানিয়েছে, পিছনের রিকশায় কাজল রেখাও ছিল। পুলিশ সিগন্যাল দেওয়ার সাথে সাথেই কাজল রেখা পালিয়ে গেছে।`

অপরদিকে লাশ বহনকারী রিকশা চালক আনিসুল হক বলেন, `আমাকে গণকবরস্থান থেকে আব্দুল্লাহপুর শ্যামলী বাস কাউন্টারে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভাড়া করা হয়েছে। কথা প্রসঙ্গে জানতে পেরেছি তারা ময়মনসিংহে যাবেন।`

এদিকে থানা পুলিশের একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, `ঘটনার পর পরই দক্ষিণখান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলের বাসা থেকে কাজল রেখার মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যা তদন্ত স্বার্থে প্রকাশ করা যাবে না।`

এ বিষয়ে দক্ষিণখান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মিজানুর রহমান বলেন, `নিহতের সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।`

এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও মূল হোতা কাজল রেখাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অপরদিকে নিহত লাশ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছিল। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলেই হত্যাকান্ডের বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানা যাবে।

- নতুন সময়

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন