বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ ০৭:৩১:৩৮ এএম

নেত্রকোনায় নকল ধরে বিপাকে স্কুলশিক্ষক

জেলার খবর | নেত্রকোনা | শনিবার, ২৬ মে ২০১৮ | ০৩:২২:৫৬ পিএম

নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র মোঃ মোস্তাকিম নামে এক শিক্ষার্থীকে নকল ধরে বিপাকে পড়েছেন স্কুল শিক্ষক কে এম আশরাফুজ্জামান শাহান। তিনি ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোঃ মোস্তাকিমকে পিটিয়ে মারাত্বক ভাবে আহত করেছেন এই মর্মে অভিবাবক রফিকুল আলম, জেলা- উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, ১নং মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চলাকালে শুক্রবার একতলা ভবনে মোস্তাকিম নামের একছাত্রকে হাতেনাতে নকল ধরে ফেলেন শিক্ষক কে এম আশরাফুজ্জামান শাহান। নকলের কপি ও খাতা নিয়ে গেলে কান্নাকাটি শুরু করে। মহিলা অভিবাবকরা খাতা দেয়ার অনুরোধ করলে বেরসিক শিক্ষক শাহান খাতা দেননি ছাত্রকে। অবশেষে প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন উক্ত কক্ষে ছুটে আসলে সহকারি শিক্ষক শাহান নকলের কপি ও খাতা তাঁর হাতে তুলে দেন। প্রধান শিক্ষক লেখার জন্য খাতাটি মোস্তাকিমকে দিয়ে দেন এবং ঔ দিনের পরীক্ষা সে ভালভাবেই দেয়।

মোবাইলের মাধ্যমে ছাত্রের পিতা মোঃ রফিকুল আলম সংবাদ শুনে একটি লাঠি নিয়ে ছেলেকে শাসন করার জন্য ছুটে আসেন বিদ্যালয়ে। স্কুলে শাসন করা যাবে না বুঝিয়ে রফিকুলকে বিদায় দেন সহকারি শিক্ষক শাহান। উক্ত ছাত্র মোস্তাকিম পরবর্তীতে সবগুলো পরীক্ষা যথারীতি দিয়েছে। নিরবে রফিকুল আলম বিদ্যালয় ত্যাগ করে চলে গেলেন। কিন্তু এক সপ্তাহ পরে রফিকুল আলম ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলে অসুস্থ দেখিয়ে তিনি প্রতিবাদি হয়ে একের পর এক অভিযোগ করা শুরু করলেন।

এতে মনে হয় পিছন থেকে কেউ কলকাঠি নাড়াচ্ছে। ২৯শে এপ্রিল পর্যন্ত অভিবাবক অভিযোগ করেননি। নকল ধরা কিংবা শিক্ষক কর্তৃক ছাত্র প্রহারের ঘটনা প্রধান শিক্ষক, সহকারি শিক্ষক-শিক্ষিকার পক্ষ থেকে ম্যানেজিং কমিটিকে ও অবহিত করা হয়নি। এমনকি উপজেলা শিক্ষা অফিসকে ও অবহিত করা হয়নি। নকল ধরার ৬ দিন পর ৩০শে এপ্রিল হতে রফিকুল আলম তার ছেলেকে পূর্ব শত্রুতার জের হিসাবে মারাত্বকভাবে মারপিঠ করে আহত করেছেন এই মর্মে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দেয়া শুরু করেন।

এতে তার ছেলের পরীক্ষা ব্যাহত হয়েছে কিংবা আঘাত-এর কথা উল্লেখ করা হয়নি। ১লা মে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পর্যন্ত অভিযোগ করেছেন। উক্ত অভিযোগে লিখেছেন ঔ দিনই মোহনগঞ্জ হাসপাতালে ছেলের চিকিৎসা করানো হয়। হাসপাতালের রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি। অভিযোগ প্রমাণ করার জন্য রফিকুল মরিয়া হয়ে উঠেন। ঘটনার ৭ দিনের মাথায় তিনি ০১/০৫/১৮ ইং মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ রেজিস্টার বুকে রেজিং নং ৩৫৯৫/২০ মূলে মোস্তাকিমের জ্বরের প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

এই দিনের ব্যবস্থাপত্রের স্বাক্ষরকারী উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সিরাজ জানান, তারিখের স্থানে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে কেটে ২৫-০৪-১৮ লেখা হয়েছে। ইহা পরিকল্পিত ভাবে জালিয়াতি করা হয়েছে এবং অভিবাবক বিভিন্ন বিভাগে অভিযোগের সাথে ব্যবস্থাপত্রের উক্ত ফটোকপি সংযুক্ত করে দিয়েছেন।পরবর্তীতে রফিকুল তার ছেলেকে ১২দিনের মাথায় ২য় বারের মত ৮/৯ দিনের জ্বরের আক্তান্তের শিকার হয়ে ০৬-০৫-১৮ ইং জ্বরের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ভর্তির জন্য অভিবাবক রফিকুল আলম বার বার ডাক্তারকে অনুরোধ করলে অবশেষে মোস্তাকিমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তাকে জ্বরের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয় এবং মোস্তাকিমকে বিশ্রামে রাখার জন্য ডাক্তার অভিবাবককে বলে দেন। ০৮/০৫/১৮ ইং উক্ত বিদ্যালয়ে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত কমিটির কাছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মোস্তাকিমের চিকিৎসার ২টি সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে। ইহাতে শারীরিক কিংবা মানসিক নির্যাতনের কথা উল্লেখ নেই। মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ তানভীর হাসান, ডাঃ সুমিত রায় জানান মোস্তাকিমের শরীরে কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাইনি। আরো বলেন প্রথমে জ্বর, পরে ২য় বার ও জ্বরের চিকিৎসা দেয়া হয়।

ছেলেটি শারীরিক ভাবে দুর্বল ছিল। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিনয় চন্দ্র শর্মা জানান, ৮ মে তদন্ত কালে রফিকুলের অভিযোগের বিষয়ে স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য প্রমাণে ব্যাপক গড়মিল পেয়েছি। এদিকে সামান্য ঘটনাকে পুজিঁ করে সহকারি শিক্ষক শাহানকে হয়রানি করার জন্য একটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মোহনগঞ্জে প্রচার রয়েছে, ছাত্র মোস্তাকিমকে বিদ্যালয়ের দুতলা থেকে শিক্ষক লাথি মেরে নীচে ফেলে দেন।

এমনকি ৮ ও ৯ মে জাতীয় দৈনিকে ও অনলাইনে কয়েকটিতে ছাপা হয়েছে ’ ছাত্রকে লাথি মেরে দোতলা থেকে ফেলে দিলেন শিক্ষক ’ ১২ দিন ধরে হাসপাতালে, দেখতে যাননি কোনো শিক্ষক ” শিরোনামে সংবাদ ছাপা হয়েছে । অভিযোগকারী রফিকুল আলম জানান, আমার ছেলেকে পূর্ব শত্রুতার জের হিসাবে শিক্ষক প্রহার করেছেন। জনমনে প্রশ্ন ছাত্রের পিতার সাথে উক্ত সহকারি শিক্ষকের পূর্ব শত্রুতা কি ছিল ?

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন