বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ ১০:১১:৪০ এএম

রশিদ প্র্যাকটিস শেষে বলত, স্যার আরেকটু করা যায় না?

খেলাধুলা | রবিবার, ২৭ মে ২০১৮ | ০৩:২১:৪৮ পিএম

ঘূর্ণি বলে ক্রিকেট দুনিয়া মাতিয়ে যাচ্ছেন আফগান জাদুকর রশিদ খান। এই
লেগস্পিনারকে সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিশ্বের বাঘা বাঘা সব
ব্যাটসম্যানদের। ১৯ বছরের রশিদকে গড়ে তুলেছেন ভারতীয় কোচ লালচাঁদ রাজপুত।
তিনি যখন আফগানিস্তানের কোচ হয়েছিলেন, তখন আইসিসির পুরো সদস্যপদও পায়নি
আফগানিস্তান। আর আজকের নায়ক রশিদ খান তখন আরও বাচ্চা ছেলে। সে ভাবে তার
নামই জানতেন না কেউ। 



২ বছর আগে আফগানিস্তানের কোচ ছিলেন লালচাঁদ। তার আমলেই টেস্ট
স্ট্যাটাস পায় আফগানিস্তান। লালচাঁদের কোচিংয়ে ৬টি ওয়ানডে সিরিজের একটাতেও
হারেনি আফগানরা। রশিদ তখন সবে প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছেন। লালচাঁদের কথায়, 'ওর
মধ্যে অদ্ভুত একটা শেখার আগ্রহ ছিল। নেটে প্রচণ্ড সিরিয়াস। ধরুন,
প্র্যাকটিস শেষ হয়ে গেছে। তারপরেও রশিদ এসে বলত, স্যার আর একটু করা যাবে
না? এই বাড়তি তাগিদটাই ওকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে দিয়েছে। আর খুব ভদ্র
ছেলে।' 



আইপিএলে রশিদকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিশ্বের বড় বড় ব্যাটসম্যানরা।
ঠিক কোন জায়গায় সবাইকে ছাপিয়ে যাচ্ছেন আফগান লেগ স্পিনার?  লালচাঁদ বললেন,
'রশিদ অসম্ভব নিখুঁত। ও যদি মনে করে এই জায়গাতেই বল ফেলব, ৬ টার মধ্যে
পাঁচটা বলই এক জায়গায় ফেলতে পারে! লাইন-লেংথ একই রকম রাখতে চেষ্টা করে। আর
প্রতি ওভারে একটা করে সারপ্রাইজ ডেলিভারি দেওয়ার চেষ্টা করে।' 



কোচ লালচাঁদ রাজপুত। ছবি : ইন্টারনেট



রশিদের আরেকটি গুণের কথা বলতে ভুলেননি লালচাঁদ রাজপুত। যে গুণটা
বেশিরভাগ ক্রিকেটারের নেই সেটা আছে রশিদের, 'রশিদ খুব ধারাবাহিক। এমন দেখা
যায়না, ও একটা ম্যাচে ব্যাপক পিটুনি খেল। পরের ম্যাচে দারুণ বল করল।
মোটামুটি একটা নির্দিষ্ট ধারবাহিকতা বজায় রাখে। এটা বলা যত সহজ, করা কিন্তু
তত সহজ নয়।'



নেটে বেশি করে ব্যাটও করতে চাইতেন রশিদ। লালচাঁদ বললেন, 'ও আমাকে এসে
বলত, ব্যাটিংয়ে বেশি সময় দিতে চায়। বোলিংটা তো মোটামুটি আয়ত্তে ছিল।
ব্যাটটা ভালো করতে চেয়ে অলরাউন্ডার হতে চাইত। এখন কিন্তু ও অলরাউন্ডারই।'



কোচ হিসেবে এক বছর আফগানিস্তান টিমের সঙ্গে ছিলেন লালচাঁদ। আফগান
ক্রিকেট বোর্ড তারপরেও চুক্তি বাড়াতে চেয়েছিল। রাজি ছিলেন রাজপুতও। কিন্তু
তার পরিবার রাজি হয়নি। কারণ হিসেবে তিনি বললেন, 'আফগানিস্তানের পরিস্থিতি
সেই সময় আরও ভয়ঙ্কর ছিল। আমাকে ওখানে গিয়ে কোচিং করাতে হত। কিন্তু
নিরাপত্তার কারণেই আমার পরিবার রাজি হয়নি।'


খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন