বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ ০১:৪৩:৫২ পিএম

বন্দুকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে

জাতীয় | সোমবার, ২৮ মে ২০১৮ | ০৬:০৯:৫৬ পিএম

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে সারাদেশে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। রোববার দিবাগত রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ১২ জন। এ নিয়ে অভিযানে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১০৮ জনে।
আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর দাবি, নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায় জড়িত।
গত ৩ মে র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই র‌্যাবের নেতৃত্বে সাঁড়াশি অভিযানে নামে আইনশঙ্খলাবাহিনী।
এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও বন্দুকযুদ্ধে নিহতের খবর পাওয়া গেছে। গত শনিবার পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল ৯৬ জনে। রোববার এ সংখ্যা ১০০ পার হয়েছে।
কোন তারিখে কতজন নিহত
১৯ মে দিবাগত রাতে বরিশাল, ময়মনসিংহ, যশোর, টাঙ্গাইল, ফেনী ও দিনাজপুরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ছয়জন নিহত হন।
২০ মে যশোরে মাদকের সঙ্গে জড়িত তিনজন নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে মারা যান। সেদিন রাতেই রাজশাহীতে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে একজন, নরসিংদীতে একজন, ঝিনাইদহে একজন, টাঙ্গাইলে একজন; চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’একজন এবং টঙ্গীতে একজন মারা যায়।
২১ মে দিবাগত রাতে নয় জেলায় নিহত হন ১১ জন। এদিন কুমিল্লায় দুইজন, নীলফামারী দুইজন, চুয়াডাঙ্গায় একজন, নেত্রকোণায় একজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন ও দিনাজপুরে একজন নিহত হন। এছাড়া চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও ফেনীতে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিনজন নিহত হয়েছেন।
২২ মে দিবাগত রাতে বন্দুকযুদ্ধে মোট ১০ জন নিহত হন। এর মধ্যে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কুষ্টিয়ায় দুইজন এবং জামালপুর, কুমিল্লা, ঠাকুরগাঁও, চুয়াডাঙ্গা, লালমনিরহাট ও রংপুরে একজন করে মোট আটজন নিহত হন। এছাড়া গাইবান্ধা ও ফেনীতে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন আরও দুইজন।
২৩ মে দিবাগত রাতে কুমিল্লা ও ফেনীতে দুইজন করে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জ থেকে একজনসহ মোট ছয়জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। এছাড়া মাগুরায় দুই এবং সাতক্ষীরা ও কক্সবাজার থেকে আরও দুইজনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
২৪ মে দিবাগত রাতে দেশের সাত জেলায় বন্দুকযুদ্ধে নয়জন নিহত হয়। এর মধ্যে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নেত্রকোণায় দুইজন এবং সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, ঝিনাইদহ, কুমিল্লা, গাইবান্ধা ও শেরপুরে একজন করে মোট সাতজন নিহত হন। রাজধানী ঢাকায় র‌্যাবের গুলিতে নিহত হন আরও একজন।
২৫ মে দিবাগত রাতে থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত দেশের আট জেলায় পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নয়জন নিহত হন। এদের মধ্যে কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুইজন এবং ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, ঠাকুরগাঁও ও পাবনায় একজন করে নিহত হয়েছেন। দিনাজপুর ও জয়পুরহাটে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন একজন করে। এছাড়া ফেনী, বরগুনা ও দিনাজপুরে একজন করে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে নিহত হন।
২৬ মে দিবাগত রাতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, খুলনা, বাগেরহাট, নোয়াখালী, ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে নিহত হন নয়জন। এর মধ্যে টেকনাফ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হকও রয়েছেন। এছাড়া মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে মারা যান আরও দুইজন।
সর্বশেষ ২৭ মে দিবাগত রাতে কুমিল্লায় দুইজন, পিরোজপুরে দুইজন, নাটোরে একজন, পাবনায় একজন, ঝিনাইদহে একজন, ঢাকায় একজন, মুন্সীগঞ্জে একজন, চাঁদপুরে একজন কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। এছাড়া সাতক্ষীরায় মাদকদ্রব্যসহ দুইজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন