মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ ০৮:৩০:৩০ পিএম

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ৩০ বছর

জাতীয় | মঙ্গলবার, ২৯ মে ২০১৮ | ০৪:৫৯:৫৭ পিএম


জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গৌরবময় অংশগ্রহণের ৩০ বছর পূর্ণ হলো। এই অভিযাত্রায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের দায়িত্ব পালনে দৃঢতা ও সাহসিকতা প্রশংসিত হয়েছে শুরু থেকেই।

শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই এপ্রিলে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, মানবাধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি গোলযোগপূর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সেনাদের ভূমিকা আমাকে মুগ্ধ করেছে। বাংলাদেশের মহিলা পুলিশ দল সোচ্চার রয়েছেন সামাজিক-সম্প্রীতি সুসংহত করতে। আমি কোনো মিশনে গেলেই উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের সেনাদের কথা বলি।’ জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রশংসা অর্জন আমাদের জন্য সত্যিকার অর্থেই গৌরবের।

জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস আজ, ২৯ মে (মঙ্গলবার)। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও যথাযোগ্য মর্যাদায় এ দিবস পালন করছে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ পৃথক বাণী দিয়েছেন। এতে তাঁরা উল্লেখ করেন, ১৯৮৮ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে অদ্যাবধি বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারি মনোভাব, আনুগত্য ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। তাদের অনন্য অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ¦ল হয়েছে।

ম১৯৮৮ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী বাহিনীর কার্যক্রম শুরু হয়। জাতিসংঘের এই উদ্যোগে বিশ্বের শান্তি রক্ষায় তিন দশকে বাংলাদেশের অবদান অনন্য হয়ে উঠেছে। গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের সাফল্য ও সংলগ্নতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বাংলাদেশ এখন জাতিসংঘে শান্তিরক্ষী জোগানে দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০টি পৃথক মিশনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা কাজ করছেন। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক এলাকায় শান্তি রক্ষার কাজে নিয়োজিত থেকেছেন। সেন্ট্রাল আফ্রিকার দেশগুলো, কঙ্গো, সুদানের দারফুরসহ কঙ্গোর বুনিয়া, ইটুরি প্রদেশে কাজ করেছেন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। আবার জাতিসংঘ শান্তি মিশনের নীল পতাকা হাতে আর নীল হেলমেট পরে মিশনগুলোয় নানা কাজে নিয়োজিত আছেন এসব শান্তিরক্ষী। নিরাপত্তা প্রদান থেকে শুরু করে সড়ক নির্মাণ, সহিংস দেশগুলোর সরকার ও জনগণকে সহযোগিতা করার নিরলস কাজের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা সুনাম অর্জন করেছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশের নারী সদস্যরাও কাজ করছেন।

বিশ্ব শান্তির অন্বেষণে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৩০ জনেরও বেশি শান্তিরক্ষী প্রাণ দিয়েছেন। বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের এ আত্মত্যাগ আমাদের গর্ব ও অহংকারের বিষয়। যথার্থ কারণেই শান্তি রক্ষায় জাতিসংঘে বাংলাদেশকে শক্তিশালী দেশ হিসেবে সম্মানের চোখে দেখা হয়।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সৈন্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশ দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হবে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) জানিয়েছে ‘পিসকিপার্স রান’ এর মাধ্যমে দিবসের কার্যক্রম শুরু হবে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদ শান্তিরক্ষীদের নিকটাত্মীয় ও আহত শান্তিরক্ষীদের জন্য সংবর্ধনা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ওপর বিশেষ উপস্থাপনার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন