রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ ০৫:১২:০৯ এএম

বেনাপোল চেকপোস্টে পাসপোর্টযাত্রীদের হয়রানি করছে বিজিবি

জেলার খবর | যশোর | মঙ্গলবার, ২৯ মে ২০১৮ | ০৯:২২:৫৪ পিএম

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বেনাপোল চেকপোস্টসহ পথে বিভিন্ন জায়গায় বৈধ পাসপোর্টযাত্রীদের হয়রানি করছে বলে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট বেনাপোল দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার দেশি-বিদেশি পাসপোর্টযাত্রী বাংলাদেশ-ভারত যাতায়াত করে থাকে।

তাদের পথে কয়েক জায়গায় বিজিবি তল্লাশি করে। ভারত থেকে সঙ্গে আনা পণ্য আটক দেখিয়ে রেখে দেয়া হচ্ছে। এসব পণ্যের কোনো কাগজপত্র দেয়া হচ্ছে না পাসপোর্টযাত্রীদের। প্রতিবাদ করলে নেমে আসে চালান দেয়ার হুমকি।

বিজিবির এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে স্থানীয় সাংবাদিকরা লেখালেখি করলে তাদেরও দেয়া হয় নানা ধরনের হুমকি। এর আগেও লাঞ্ছিত হয়েছেন ২/৩ জন সাংবাদিক। তাই প্রতিদিন বেনাপোল চেকপোস্ট থেকে আমড়াখালি পর্যন্ত বিজিবির হয়রানি চললেও চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কথা বলার সাহস নেই কারও।

ঢাকার কেরাণীগঞ্জের পাসপোর্টযাত্রী আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করে বলেন, তার ক্রয়কৃত শার্ট, প্যান্টের পিস ও তার পুরাতন ব্যবহৃত শার্ট বেনাপোল চেকপোস্ট বিজিবি রেখে দিয়েছে।

তিনি জানান, মাত্র একশ ডলারের পণ্য ক্রয় করেছি। তাও বিজিবি রেখে দিয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চারশত ডলারের পণ্য ভারত থেকে শুল্ক বাদে আনার অনুমতি দিলেও বিজিবি তা মানছে না।

এছাড়া যশোরের রেলগেট এলাকার শিরিনা বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ৫ জোড়া জুতা, দুটি শাড়ি, ৩ টি থ্রি-পিছ বিজিবি জোর করে ক্যাম্পে নিয়ে রেখে দিয়েছে। এরকম শিরিনার মতো কয়েকজন একই ধরনের অভিযোগ করেন বেনাপোল চেকপোস্টে।

ঢাকার পাসপোর্টযাত্রী আলমগীর কবির বলেন, কাস্টমস স্কানিং করে তারপর ব্যাগ খুলে চেক করে। এরপর কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দারাও ব্যাগ তল্লাশি করে ছেড়ে দেয়। তারপর গেট পার হলে রাস্তার উপর বিজিবি ওই একই ব্যাগ খুলে তল্লাশি শুরু করে। ব্যাগের সাইজ বড় দেখলে ক্যাম্পে নিয়ে তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালায়। এটা কোনো সভ্য সমাজের কাজ হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বেনাপোল চেকপোস্টের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, চকলেট, বিস্কুট, কসমেটিকসহ নানা ধরনের পণ্য বাজার ছেয়ে ফেলছে। আবার বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ ও হুন্ডির টাকা পাচার হলেও মাঝে মধ্যে দুই একটি চালান আটক করলেও এর সিংহ ভাগ চলে যাচ্ছে পাচার হয়ে। সম্প্রতি বিজিবি বেনাপোলের পুটখালী সীমান্তের ৮ কিলোমিটার ‘ফ্রি ক্রাইম জোন’ ঘোষণা করলেও সেখানে থেমে নেই স্বর্ণপাচার এবং ভারত থেকে মাদক পাচার।

যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, পাসপোর্টযাত্রীর কাছ থেকে বিজিবি যেসব পণ্য রেখে দিচ্ছে তার কোনো কাগজপত্র দিচ্ছে না। এই পণ্যগুলো কোথায় কীভাবে যাচ্ছে বা কাস্টমসে সঠিকভাবে জমা হচ্ছে কি-না তার কোনো সঠিক প্রমাণাদি নেই। কারণ ওইসব পণ্যের মালিক থাকার পরও মালিকবিহীন দেখিয়ে তারা পণ্য আটক করছে। এর আগে বিজিবি পাসপোর্টযাত্রীদের কাছ থেকে যেসব পণ্য আটক করতো তাদের নাম ও পাসপোর্ট নম্বর উল্লেখ করে কাস্টমসে জমা দিত। এবং যাত্রীদের এক কপি কাগজও দিয়ে দিত। ওই কাগজ নিয়ে যাত্রী কাস্টমস থেকে সরকারি শুল্ক পরিশোধ করে পণ্য চালান ছাড় দিতো। এখন বিজিবি যাত্রীদের কোনো কাগজ দিচ্ছে না। ফলে যাত্রীরা ওই পণ্য সরকারি শুল্ক দিয়ে নিতেও পারছে না। আটক সব পণ্য কাস্টমস গোডাউনে জমা করা হয় কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে যাত্রীদের মাঝে।

বেনাপোল চেকপোস্টে ঢাকার পাসপোর্টযাত্রী ফারুক হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সরকারের কাস্টমস বিভাগ ব্যাগ স্কানিং ও তল্লাশি করে ছেড়ে দেয়ার পর একই বিজিবি কাস্টমস গেটে, আমড়াখালী চেকপোস্টে, বেনাপোল রেলস্টেশন এলাকায় তল্লাশি করে থাকে। এতে করে হয়রানি হতে হতে ধৈর্যের বাধ ভেঙে যায়।

তিনি বলেন, সরকারি ভ্রমণ কর দিয়ে বৈধপথে ভারত থেকে ব্যবহারের কিছু জিনিসপত্র আনার পরও বিজিবির হাতে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছি। আমরা সবাই জিম্মি হয়ে গেছি প্রশাসনের লোকদের কাছে।

বেনাপোল কাস্টমসের একটি সূত্র জানায়, বন্ডেড এলাকার ৫ কিলোমিটারের মধ্যে বিজিবির বৈধ পাসপোর্টযাত্রীদের কোনো পণ্য দেখার নিয়ম না থাকলেও তারা এটা দেখছে আমাদের করার কিছু নেই। এ নিয়ে বার বার বৈঠক হওয়া সত্ত্বেও বিজিবি তা মানছে না বলে সূত্র জানায়।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, এ ব্যাপারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও কোনো কিছু হচ্ছে না বলে তিনি জানান। দেশি-বিদেশি পাসপোর্টযাত্রীরা বেনাপোল চেকপোস্টে এসে অসম্মানিত হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে বেনাপোল আইসিপি ক্যাম্পে যোগাযোগ করা হলে তারা বিজিরির ব্যাটালিয়নে কথা বলার পরামর্শ দেন।

বিজিবির আমড়াখালি চেকপোস্টের সুবেদার মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমাদের উপরের নির্দেশ আছে বছরে একজন পাসপোর্টযাত্রী ৩ বার চারশ ডলারের পণ্য আনতে পারবে। আর যেসব পণ্য আমরা আটক করছি তা মালিকবিহীন করা হচ্ছে। পাসপোর্ট প্যাসেঞ্জারদের এসব পণ্য কাস্টমস শুল্ক গুদামে জমা করা হয় বলে তিনি জানান।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন