মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ ০৬:২৭:২৩ এএম

মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ : যুদ্ধটি সর্বজনীন হোক

খুরশীদ আলম | খোলা কলাম | বৃহস্পতিবার, ৩১ মে ২০১৮ | ১২:১৯:৫৭ এএম

 মাদকের সহজপ্রাপ্যতা, সহনীয় পরিবেশ, সহজে ধনবান হওয়ার নিশ্চয়তা, বিচারহীনতা, দায়িত্বশীলদের নগ্ন সমর্থন, ফ্যাশনের নামে আসক্তির প্রবণতা -সব মিলিয়ে আমাদের তরুণ প্রজন্ম মারাত্মক এক হুমকির মুখে। শুধু তরুণ প্রজন্ম নয় এর সাথে জড়িয়ে আছে বিশাল এক সিণ্ডিকেট। টোটাল ব্যাপারটা হচ্ছে আমাদের বিশাল এ জনসংখ্যার বড় এক অংশ পথ হারা প্রজন্মে পরিণত হচ্ছে। এটা আমাদের দেশের জন্য নিশ্চিতভাবে একটি মহাবিপদ সংকেত।
.
পৃথিবীর মানচিত্রে বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশ মাদক বিরোধী অভিযানে নেমে মোটামুটি সফল। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট এপর্যন্ত বদিদের মতো গডফাদার, এডিক্টেড ও ক্ষুদে বিক্রেতা ১২ হাজারের মতো বন্দুকযুদ্ধে নিহত করেছে। দক্ষিণ আমেরিকায় ড্রাগ গডফাদারদের আমেরিকার সাহায্য নিয়ে সেনাবাহিনী আর পুলিশ মিলে এবোলিশ করে দিয়েছে। দেশগুলোতে এখন ড্রাগ মিনিমামে চলে এসেছে।
.
সুতরাং এ মহাসংকট থেকে আমাদেরও উত্তরণ হতে হবে। অবশ্য এ সংকট সৃষ্টির পেছনে অনেকগুলো কারণ হতে পারে। এর মধ্যে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে- বেকারত্ব ও অশিক্ষা-কুশিক্ষা। দেশে এখন প্রকৃত বেকারের পরিমাণ ৪ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি। পুরো জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশেরও বেশি বেকার। ভয়াবহ পরিস্থিতি! জনসংখ্যার এ বিশাল অংশ মারাত্মক এক মানসিক হতাশায় নিমজ্জিত। ফলশ্রুতিতে এরা জড়িয়ে পড়ছে মাদকাসক্তির মতো এক মরণ খেলায় এবং অর্থাভাবে এর ব্যবসার সাথেও সম্পৃক্ত হচ্ছে। অপরদিকে শিক্ষিত তরুণেরাও এর সাথে মনের চেতনে অবচেতনে নিজেকে জড়িয়ে নিচ্ছে। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক যখন মাদকাসক্ত তখন একজন ছাত্র মাদক গ্রহণ করাকে শিক্ষা মনে করতেই পারে। এছাড়া জনসংখ্যার অশিক্ষিত এক বড় অংশ কিছু জেনে বুঝে উঠার আগেই আসক্ত হচ্ছে এবং এর ব্যবসার সাথে তাদেরকে জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অনেক বাংলাদেশি মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার দায়ে এখন কারাভোগ করছে।
.
এমন সংকটময় পরিস্থিতি যখন বিদ্যমান তখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্তের কারণে সরকার অবশ্যই জনগণের থেকে ধন্যবাদ ও পূর্ণ সমর্থন পাওয়ার দাবিদার। এবং আমিও একজন লিবারেল সিটিজেন হিসেবে চলমান অভিযানকে আন্তরিক সমর্থন দিতে দ্বিধাবোধ করিনা। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখতে হবে যে দলীয় রাজনীতি কিংবা ক্ষমতাবানদের চত্রছায়ায় যাতে অভিযানটি কলুষযুক্ত না হয়। সকল দল মতের উর্ধ্বে থেকে সংকটের সমাধান করতে হবে। মাদক নির্মূলের নামে যাতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের অপচেষ্টা না হয়। বদিদের শেকড় উচ্ছেদ করতে হবে, এরা যত বড় গডফাদারই হোক রাষ্ট্রের কাছে এরা শুধুই অপরাধী।
.
আরেকটা বিষয় হচ্ছে বন্ধুকযুদ্ধের নামে ক্রসফায়ারের মাধ্যমে বিচারবহির্ভূত হত্যা অবশ্যই আমি সমর্থন করিনা। তবে হ্যাঁ অপরাধী যদি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ না করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবশ্যই বন্দুকযুদ্ধ করতে পারে এবং এতে প্রাণহাণীর শংকা থাকলেও।

খুরশীদ আলম
বি.এ (অনার্স), এম.এ (ইংরেজি)
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন