মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ ০৩:২০:৪২ এএম

অভিনব কায়দায় টিআর-কাবিটার টাকা লোপাট

জেলার খবর | কুড়িগ্রাম | বৃহস্পতিবার, ৩১ মে ২০১৮ | ০২:১৪:০৩ পিএম

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সরকারের দেয়া ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) এবং সংস্কারের (কাবিটা) লাখ লাখ টাকা অভিনব কায়দায় আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। কোথাও ভুয়া সভাপতি এবং স্বাক্ষর জাল করে আবার কোথাও জনগণের টাকায় নির্মিত সাঁকো দেখিয়ে প্রকল্পের টাকা ওঠানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে উপজেলা প্রশাসন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদের তালিকার ২নং প্রকল্প বলদিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সতিপুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ছড়ার পাড় সংযোগ সড়কে মাটি ফেলার কাজে চলতি বছরে দু’লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পের সভাপতি ও সম্পাদক করা হয় যথাক্রমে মহিলা সদস্য কমেলা বেগম ও হান্নান কাজীকে। প্রকল্পের সময় শেষ হলেও এক ডালি মাটিও পড়েনি কাচা সড়কটিতে।

এমনকি প্রকল্পের সভাপতি বলদিয়া ইউনিয়নের মহিলা সদস্য কমেলা বেগমও জানেন না যে তাকে প্রকল্প সভাপতি করা হয়েছে। কৌশলে তার ছবি সংযুক্ত করে এবং স্বাক্ষর জাল করে প্রকল্পে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিক অভিযোগ করেছেন।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা খন্দকার মো. ফিজানুর রহমান জানান, নিয়ম মেনে প্রকল্প দেয়া হয়েছে। বৃষ্টি থাকায় কাজের ব্যাঘাত হয়েছে কোনো কোনো জায়গায়। তবে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ হয়নি। কাজের শুরুতে ৫০ হাজার টাকা ছাড় দেয়া হয়েছে মাত্র। কাজ হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম মাগফুরুল আব্বাসী জানান, মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়েছি। পিআইওকে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অপরদিক নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বিষ্ণুপুর গ্রামের মোশলেম উদ্দিনের ছেলে কেদার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধেও রয়েছে প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। এখানেও দেখা যায়, ওই এলাকায় স্থানীয়দের অর্থ এবং তাদের দেয়া বাঁশ ও স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি করা হয়েছে প্রায় একশ ফুটের উপরে একটি বাঁশের সাঁকো। এই সাঁকো দিয়েই কয়েকটি গ্রামের মানুষ পারাপার হচ্ছে।

বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করতে সরকারি কোনো অর্থ পাননি স্থানীয় লোকজন। অথচ এই সাঁকোটি দেখিয়ে টিআর প্রকল্পের ৮০ হাজার টাকা এবং দেড় বছর আগে নির্মিত গ্রাম মন্ডলের হাটের ঈদগাহ মিনার দেখিয়ে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান।

ওই প্রিন্সিপাল সংসদ সদস্য একেএম মোস্তাফিজুর রহমানের কাছের লোক হওয়ায় বিগত কয়েক বছর ধরে ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করলেও কেউ প্রতিবাদ করতে পারে না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান বলেন, গ্রামবাসী বাঁশ দিয়েছে কিন্তু আমি তো অন্যান্য খরচ দিয়েছি সে টাকা তো তুলতে হবে তাই না।

নাগেশ্বরী উপজেলা প্রকল্প তদন্তকারী কর্মকর্তা সিরাজুদ্দৌলা বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন দেখেশুনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন