বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ০৬:১৩:৫৩ এএম

এক বছরে ব্যাংকগুলোর গ্রাহক কমেছে ১৬ লাখ

অর্থনীতি | শুক্রবার, ১ জুন ২০১৮ | ১১:২৩:২৬ এএম


ব্যাংকিং খাতের অস্থীরতায় দেশীয় ব্যাংকগুলোর গ্রাহক কমে যাচ্ছে। গত একবছরে বন্ধ হয়েছে ১৬ লাখ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। বাংলাদেশে ব্যাংকিংখাতে এর আগে এমন বিপর্যয় আগে কখনো হয়নি। গ্রাহকদের কাছে দেশীয় ব্যাংকগুলো অাস্থা হারানোর কারণেই গ্রাহক কমছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশের ব্যাংকিংখাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং সেবায় গ্রাহকের অসন্তুষ্টি দিন দিন বাড়ছে। ২০১৭ সালে ১৬ লাখ ৫২ হাজার ৮৮১টি ব্যাংক হিসাব বন্ধ হয়। বন্ধ হওয়া হিসাব দেশের মোট ব্যাংক হিসাবের সাড়ে ১২ শতাংশ। এর আগে ২০১৪ সালে ৮.৬০ শতাংশ গ্রাহক অসন্তুষ্ট হয়ে ব্যাংক হিসাব বন্ধ করেন। ২০১৫ সালে এ ধরনের গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯.৪২ শতাংশ। ২০১৬ সালে এ সংখ্যা আরো বেড়ে দাঁড়ায় ১১.৬৪ শতাংশে।

রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটরিয়ামে ‘সাসটেইনেবিলিটি ইন সার্ভিস কোয়ালিটি অ্যান্ড কাস্টমার্স কনফর্মিটি : ড্রাইভার্স অব কাস্টমার্স লয়েলিটি টু ব্যাংকস’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে গ্রাহকদের হিসাব বন্ধের তথ্য তুলে ধরা হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

এতে উল্লেখ করা হয়, বলা হয়, প্রতি বছর গ্রাহকরা ব্যাংক হিসাব বন্ধ করলেও ৫৬ শতাংশ ব্যাংকে এ বিষয়ে গ্রাহকদের কোনো সাক্ষাৎকার নেয়ার ব্যবস্থা নেই। এমনকি বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব ব্যাংক হিসাবধারীর কোনো রেকর্ডও সংরক্ষণ করা হয় না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ব্যাংকিং সেবায় গ্রাহকদের আরো ভালো সেবা দিতে হবে। একই সঙ্গে কেন ব্যাংক হিসাব বন্ধ হচ্ছে তা জেনে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

গবেষণা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে ব্যাংক হিসাব বন্ধের প্রবণতা বাড়ছে। দেশের ব্যাংক খাতে চলমান অস্থিরতাও হিসাব বন্ধের কারণ বলে মনে করছেন ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা।

গবেষণা দলে ছিলেন- বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক রেক্সোনা ইয়াসমিন, বিআইবিএমের প্রভাষক লামিয়া রহমান, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং অ্যাক্টিং হেড অব রিটেইল এম খোরশেদ আনোয়ার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি এবং কাস্টমার সার্ভিস বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জহির হোসেন। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা, ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক মঈনুদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন