সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮ ০৭:৩০:৫৪ পিএম

একরামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে (অভিওসহ)

জাতীয় | রবিবার, ৩ জুন ২০১৮ | ০১:০৫:৩৫ এএম

কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হককে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী আয়েশা বেগম। গতকাল বৃহস্পতিবার কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। একরামের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন আয়েশা। এ সময় তার দুই মেয়ে তাহিয়া হক ও নাহিয়ান হকসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে একরামের স্কুলপড়ূয়া দুই মেয়ের আহাজারিতে সাংবাদিকরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

আয়েশা বেগম বলেন, একরামুলকে ইয়াবা কারবারি হিসেবে হত্যা করা হয়নি। তাকে হত্যা করা হয়েছে মেরিন ড্রাইভ সড়কে জায়গা-জমির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে আয়েশা ঘটনার রাতে তার স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের অডিও রেকর্ড শোনান। ওই অডিওতে 'বন্দুকযুদ্ধে' গুলির শব্দসহ চিৎকারের শব্দও শোনা যায়।

লিখিত বক্তব্যে আয়েশা বলেন, একরামুল হকের সঙ্গে টেকনাফে কর্মরত একটি সংস্থার লোকজন জমি কেনার কথা বলে তিন সপ্তাহ আগে থেকে যোগাযোগ করতে থাকে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ঘটনার দিন গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হোটেল নেটংয়ে সংস্থার লোকজনের সঙ্গে দেখা করতে যান একরাম। মোটরসাইকেলে তেল নিতে স্বামী তার কাছে ৫০০ টাকা চাইলেও তিনি দিতে পারেননি। পরে নাফ হোটেলের ম্যানেজারের কাছ থেকে ৫০০ টাকা ধার নিয়ে যান।

একরামের স্ত্রী আয়েশা সেই রাতের পরের ঘটনার কল রেকর্ড তার কাছে রয়েছে দাবি করে বলেন, ওই দিন রাত ১১টা ৩২ মিনিটের পর একরামকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড শুনিয়ে বলেন, রাত ১১টা ৩২ মিনিটে একরামের মোবাইল নম্বরে তার মেয়ে ফোন করলে কল রিসিভ করা হয়। কিন্তু একরাম কথা বলতে পারেননি। অপরিচিত এক কণ্ঠ থেকে শোনা যায়- 'তাহলে তুমি জড়িত নও?' আর একরামের কণ্ঠে শোনা যায়- 'না, আমি জড়িত নই'। এর পর গুলির আওয়াজ এবং একরামের আর্তচিৎকার শোনা যায়। তার পর যারা গুলি করেছে তাদের কথোপকথন শোনা যায়। তারা বলে, 'এইবার গাড়িতে গুলি কর।' এর আগে রাত ১১টা ১৩ মিনিটে একরামের মোবাইল নম্বরে ফোন করলে একরাম মেয়েকে কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলেন, 'মা আমি হ্নীলা যাচ্ছি। আমি যাদের সাথে এসেছিলাম সেই.... সাহেবের সাথে হ্নীলা যাচ্ছি।'

আয়েশা বেগম বলেন, মোবাইল ফোনে কথোপকথনের এ ভয়েস রেকর্ড যাচাই করলে বোঝা যাবে- একরামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যার পর র‌্যাবের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একরামের বাবার নাম-ঠিকানা ভুল দিয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা সাজানো। তিনি বলেন, একরাম কখনও ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত ছিলেন না। তার ব্যাংক ব্যালেন্স বা সম্পদে অস্বাভাবিক কিছু নেই।

সংবাদ সম্মেলনে আয়েশা বেগম প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, একরাম তার সারাজীবন কাটিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। রাজনীতি করতে গিয়ে নিজের সংসারের প্রতি বেশি খেয়ালও রাখেননি। দুই মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য তেমন কোনো অর্থও রাখতে পারেননি। আয়েশা বলেন, এ হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত। নিরীহ একজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং বাবা হারানো দুই মেয়ের দায়িত্ব নিতে অনুরোধ করেন।

গত শনিবার রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের নোয়াখালীপাড়া এলাকায় 'বন্দুকযুদ্ধে' টেকনাফের কায়ুকখালি পাড়ার আবদুস সাত্তারের ছেলে একরামুল হক নিহত হন। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তিনবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর ছিলেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন