মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮ ০৬:৩৬:১২ এএম

‘একরাম হত্যা’র লোমহর্ষক অডিও প্রসঙ্গে পাঁচ তারকা

বিনোদন | রবিবার, ৩ জুন ২০১৮ | ০৩:২৯:৩৩ এএম

টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মুহূর্তের অডিও ক্লিপ নিয়ে তোলপাড় চলছে সারাদেশে। গা শিউরে ওঠা সেই অডিও প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন দেশের খ্যাতনামা তারকারা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন অনেকেই।

দেশের নামী অভিনেত্রী ও গায়িকা শিমূল ইউসুফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন,

‘‘এশামনি প্রথম শুনেছে অডিওটা, শুনে ওর বাবাকে পাঠিয়েছে। ইফতারের সময় আমার ভিষন হাসিখুশি, সাহসী, শক্ত মনের মেয়েটা কেমন যেন বারবার উদাস চোখে জানালার বাইরে চোখ রেখে শুকনো মুখে খাচ্ছিল। বাবাকে শুধু একবার জিজ্ঞাসা করলো, বাবা তুমি অডিওটা শুনেছ? বাবা বললো, কিসের অডিও মা? এশামনি বললো, আমি তোমাকে ফরোয়ার্ড করে দিচ্ছি।

আমি দুজনের মুখের দিকে জিজ্ঞাসু চোখ নিয়ে তাকালাম, এশামনি আর বাবার চোখেচোখে কথা হল মনে হয়, আমি যেন না শুনি। সব গুছিয়ে ঘরে ঢুকবো এমন সময় ঠাস ঠাস গুলির শব্দ! যতবার গুলি হচ্ছে ততবার বাচ্চু নিজেই গুলি থেকে বাঁঁচবার চেষ্টা করছে, কুঁকড়ে কুঁকড়ে যাছে! আমি চিৎকার শুনলাম আববু আববু... বাচ্চুর মতো মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের পক্ষেও সহ্য করা কঠিন যে ঘটনা! সেটা আমার মত ৭১’এর বীভৎষতা দেখা মেয়ের পক্ষে কত কঠিন। বাচ্চু আর এশামনি জানে তা...
এশামনিকে বললাম, বাবা কি শুনছে? ও বললো, তোমার আর সুন্দর (শাওন মাহমুদ), বম্মার শোনার দরকার নেই... সুন্দর কমিশনার একরামের সাথে বড়বাবাকে (শহীদ আলতাফ মাহমুদ) মিলিয়ে ফেলবে, পাকিস্তানি আর্মিরা যেভাবে বড়বাবাকে ধরে নিয়ে মেরে ফেলেছিল...

আহা জীবন!!! এখনো বেঁচে আছি!!! এটাই ভয়ংকর, বীভৎস, আশ্চর্যজনক সত্য!! ’’
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী ফেসবুকে লিখেছেন,

‘এইরকম আরো কতো আকুতি রেকর্ডিং মেশিনের বাইরে থেকে গেছে, ভাবেন। ভাবেন স্বাধীনতার পর থেকে এইরকম কতো বিচার বহির্ভূত হত্যা হইছে। ভাবেন, রাষ্ট্ররে যে নাগরিক তার হেফাজতের দায়িত্ব দিছে, তার জানই কেমনে কবজ করে বসলো রাষ্ট্র। ভাবেন, কবে কোথায় কোন ভুলে লখিন্দররে দংশাইলো সুতানলী সাপে?

একটা খারাপ লোককেও নির্মূল করার জন্য যখন আপনি বিচার বহির্ভূত হত্যা সমর্থন করেন, তখনই আপনি নিজের অজান্তেই একজন ভালো লোককে হত্যার লাইসেন্সও তুলে দেন।

আপনিই এই রাষ্ট্র বানিয়েছেন। আপনাকে ধন্যবাদ।’

অভিনেত্রী, গায়িকা ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন লিখেছেন,
‘‘আব্বু তুমি কান্না করতেছো যে..!’
বাবাকে বলা কন্যার শেষ কথা...
আহারে আহারে...’’

অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন,
‘কখনো কখনো কিছু কথা না বললে অন্যায় হয়। এই পেজটাতে কেবল মাত্র নুসরাত ইমরোজ তিশার কাজ এবং ব্যাক্তিগত জীবন নিয়েই পোস্ট থাকে। কিন্তু কখনো কখনো দেশ এবং সমাজ নিয়ে কিছু কথা না বলা অন্যায়।

কারণ, এই দেশই আমাদের তৈরি করেছে, এই মানুষেরাই আমাদেরকে হৃদয়ে ধারণ করেন। এই দেশের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হলে আমরা চুপ থাকতে পারি না।
একরাম সাহেবের দুই কন্যা আজ বাংলাদেশের হৃদয়। সেখানে আজ ক্ষরণ।
সকল প্রকার বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হোক।’

নির্মাতা রেদোয়ান রনি লিখেছেন,

‘কোন ভাবেই মানতে পারতেছি না। অডিও টেপটা কিছুতেই নেয়া যাচ্ছে না। অনেক শক্তি সংগ্রহ করেও এই নিষ্ঠুর অমানবিকতা গিলতে পারছি না। তাহলে মেয়েটা, বউটা, সংসারটা, পরিবারটা কিভাবে নিচ্ছে?

এত হাহাকার এত কষ্টকর শব্দগুলো অবশ্যই বাংলাদেশের প্রাপ্য না। প্রশাসন, দোষীদের ধরুন এখনই, এরচেয়েও বেশি দেরি হয়ে গেলে দেশের আরও বিপদ হয়ে যাবে, ক্ষতি হয়ে যাবে ভবিষ্যতের সব সম্ভাবনারই।

আমি এই নৃশংসতার তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ ক্ষোভ জানাচ্ছি।’

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন