বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮ ১০:২৬:২৪ পিএম

অবৈধভাবে অস্ত্র ঠেকিয়ে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেছিল : প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় | রবিবার, ৩ জুন ২০১৮ | ০৫:১৪:৫১ পিএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, লালমনিরহাটে যে ছিটমহল নিয়ে সমস্যা ছিল সেটার সমাধানে জাতির পিতা কাজ করছিল । বাবার মৃত্যুর পর অবৈধভাবে অস্ত্র ঠেকিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল জিয়াউর রহমান, এরপর ক্ষমতায় আসে এরশাদ সাহেব, এরপর খালেদা জিয়া। এই তিন সরকারের কেউ ভারতের সাথে ছিটমহল নিয়ে কথা বলতে সাহস পায়নি। দ্বিতীয় দফায় যখন আমরা ক্ষমতায় আসি তখন এ প্রস্তাবটা ভারতের পার্লামেন্টে। আমাদেরই এটা কূটনৈতিক সাফল্য। ভারতের পার্লামেন্ট এ বিলটি উত্থাপন করে কংগ্রেস সরকার, এরপর বিজেপি সরকার এসে এ সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাস করে দেয় এবং আমরা ছিটমহল বিনিময় করি। পৃথিবীর ইতিহাসে এতো শান্তিপূর্ণভাবে ছিটমহল বিনিময়ের একটি দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ স্থাপন করে।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্টের পর ৬ বছর দেশে আসতে পারিনি। তখনকার যে সরকার জিয়াউর রহমান আমাকে আমার রেহানাকে দেশে আসতে দেয়নি।

রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় ধরলা নদীর ওপর নির্মিত দেশের উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু ‘শেখ হাসিনা ধরলা সেতু’ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বাংলাদেশকে স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, তার যে লক্ষ দেশকে উন্নয়ন করা সে লক্ষে আমি কাজ করছি। আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠন করেছিলাম, তারপর ৫ বছর চালিয়েছি। এরপর ২০১৪ সালে আবার আমরা নির্বাচন করে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছি বলেই আজকে ৯ বছরে বাংলাদেশ উন্নতি করতে পেরেছে। সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে আর আন্তরিকতা থাকলে একটা দেশকে উন্নত করা যেতে পারে, তা আমরা প্রমাণ করেছি। আমরা কেন করি। কারণ আমার রাজনীতি দেশের মানুষের জন্য। আমি তো বাবা-মা ভাই হারিয়েছি, আমার তো হারানোর কিছু নেই। আর আমার চাওয়া-পাওয়ারও কিছু নাই। জাতির পিতার যে স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে গড়ে তোলা, দেশের প্রত্যেকটি গ্রামকে উন্নয়ন করা। যেহেতু আমি বড় সন্তান তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি কাজ করে যাচ্ছি।

‘আপনারা দেখবেন ২০৪১ সালের মধ্যে আমাদের দেশ হবে পৃথিবীর অন্যতম উন্নয়নশীল দেশ। ইনশাল্লাহ কেউ আটকাতে পারবে না।’

তিনি আরো বলেন, কুড়িগ্রাম আর রংপুকে সবসময় মংলা এলাকা বলা হতো। কুড়িগ্রামের চিলমারি থেকে যে কয়টি জায়গায় আমি গিয়েছি তার সাথে রংপুরের গঙ্গচরা ও নইহালি ইউনিয়ন থেকে শুরু করে যে বিভিন্ন জায়গায় আমি ঘুড়েছি সেখানে মানুষের চেহারা দেখেছি তাদের চামড়া তার হারের সাথে লাগানো। পেট পিঠ একসাথে বস্ত্রহীন, পেটে খাবার নেই। এমন অবস্থা ঐসব অঞ্চলের মানুষ। প্রতি বছর দুর্ভিক্ষ লেগেই থাকে। আমরা বিরোধী দলে থাকা অবস্থাতেও তাদের জন্য কাজ করেছি।

এসময় তিনি বলেন, এখানকার প্রথম ধরলা সেতুটিও আমি নির্মাণ করেছিলাম, কিছু কাজ বাকি থাকতে সরকার পরিবর্তন হয়। এরপর তারা ক্ষমতায় এসে বলেন যে কাজ কিছুই হয়নি। অথচ আমাদের কাজ একদম শেষ পর্যায়ে ছিল। কাজেই প্রথম ধরলা সেতুটি আমরাই নিমার্ণ করেছিলাম।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুরিগ্রাম-লালমনিরহাট-রংপুর এবং সকল এলাকার মানুষকে শেখ হাসিনা ধরলা সেতুটি ঈদ উপহার হিসেবে উল্লেখ করে শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

কুড়িগ্রাম এলজিইডির তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থ ও প্রযুক্তিতে এই গার্ডার সেতুটির নির্মিত হয়েছে। ১৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৫০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি উত্তারাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু। এই সেতুটি উত্তর ধরলার তিনটি ইউনিয়নসহ কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। সেতুর সুবিধা পাবেন কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষ। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর এই সেতুটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন