বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮ ১১:৫৮:২৪ এএম

পরিস্থিতি খারাপ, তাই...

জাতীয় | রবিবার, ৩ জুন ২০১৮ | ০৫:৪৯:৪৭ পিএম

বাংলাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে একশোর বেশি মানুষ নিহতের পাশাপাশি আটক হয়েছে কয়েক হাজার ব্যক্তি। গত মাসের মাঝামাঝি এ অভিযান শুরুর পর সরকারের তরফ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযান বিশেষ করে ইয়াবার জন্য আলোচিত কক্সবাজার এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে কাউন্সিলর মো: একরামুল হক হত্যার ঘটনায়।

এ ঘটনার পর ভয় আর আতঙ্কে মাদক মামলায় আটক থাকা আসামিরা এখন আর জামিনের আবেদনই করতে রাজি হচ্ছেন না বলে জানাচ্ছেন আইনজীবীরা।

জেল সুপার বলেছেন, অভিযান শুরুর পর আসামীদের জামিন আবেদন বা মুক্তির জন্য চেষ্টাই কমে গেছে।

পাবলিক প্রসিকিউটর মমতাজ আহমেদ বলেন, ব্যাপক অভিযানের কারণে আদালত জামিন আবেদন প্রায় নেই বললেই চলে।

একজন আইনজীবী বলেন, আসামিদের জামিনের জন্য তাদের পক্ষে যারা আইনজীবীদের সাথে যোগাযোগ করছিলেন তাদেরই এখন পাওয়া যাচ্ছে না।

কক্সবাজারের জেল সুপার বজলুর রশিদ আখন্দ বলছেন, আজ রোববার কক্সবাজার কারাগারে মোট বন্দী সংখ্যা তিন হাজার ১৭৩ জন এবং মোট বন্দীর মধ্যে বেশিরভাগই অর্থাৎ ৬৫ ভাগই মাদক বিশেষ করে ইয়াবা মামলার আসামি।

তিনি বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর আগে গড়ে প্রতিদিন ১৫/২০ জন জামিনের আবেদন জানাত আদালতে বা তারা মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করত। কিন্তু এখন গত কয়েক দিন আসামীদের পক্ষে এ ধরনের তৎপরতা একেবারেই কমে গেছে।

"অভিযান শুরুর পর থেকে প্রতি দিন মাত্র ১/২ জন আসামির মধ্যে এ ধরণের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর মমতাজ আহমেদ বলেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের কারণে আদালতে আসামিপক্ষের আবেদন অনেকখানিই কমে গেছে।

যদিও তিনি মনে করেন, মামলাগুলোর তদন্তকারী কর্মকর্তারা সক্রিয় ও উদ্যোগী হলে এমন পরিস্থিতি হতো না।

মমতাজ আহমেদ বলেন, অভিযানের আগে প্রতিদিন ২০/২২টি জামিন আবেদনের শুনানি হতো জেলা দায়রা জজ আদালতে, যা এখন কয়েকটিতে নেমে এসেছে।

"সাধারণত এই আদালতে মাদক মামলার আসামিদের জামিন হয় না। এখানে নামঞ্জুর হওয়ার পর আসামীরা উচ্চ আদালতে যান। আর আমাদের এখানে শিশু কিশোর কিংবা নারী এমন আসামীরা হয়তো জামিন পেয়ে থাকেন"।

তিনি বলেন, "তারপরেও এখন যারা আটক আছেন তাদের দিক থেকে আইনজীবীদের তৎপরতা কম দেখা যাচ্ছে বলে জানান মমতাজ আহমেদ। যদিও কক্সবাজারে উল্লেখযোগ্য কোনো মাদক ব্যবসায়ীই গ্রেফতার হননি"।

কক্সবাজারের আইনজীবী আব্দুর রহিম বলছেন, মাদকের বিশেষ করে ইয়াবা মামলার অনেক আসামি এখন জেলখানাকেই নিরাপদ জায়গা বলে মনে করছে।

"বাইরে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। তাই অনেকেই মনে করছেন এ সময়টা জেলেই থাকি"।

তবে আব্দুর রহিমের অভিযোগ মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশের যোগসাজশ আছে। তারাও এ বিষয়ে অনেক অভিযুক্তকে সহায়তা করছে।

আব্দুর রহিম বলেন, এখন জেলখানাকেই নিরাপদ মনে করছে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা আর সে কারণেই জামিন আবেদনতো নেই বললেই চলে।

আরেকজন আইনজীবী মোহাম্মদ ইউছুপ জানান, তার হাতে এমন দু'একটি মামলা আছে যাতে আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগ আনা হয়েছে কিন্তু অভিযান শুরুর পর থেকে আসামিদের তরফ থেকে কেউ তার সাথে যোগাযোগই করছেন না।

কিন্তু কেন আসামিরা এমন আচরণ করছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ ইউছুপ বলেন, "আসলে পরিস্থিতি খারাপ, তাই মাদকের সাথে জড়িত হোক বা না হোক এ ধরণের মামলায় যারা আটক হয়েছেন তারা জেলখানাকেই নিরাপদ মনে করছেন"।

খবর বিবিসি বাংলার।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন