বৃহস্পতিবার, ২১ জুন ২০১৮ ০৭:০৭:০৮ এএম

তারা মসজিদে ইফতার, ফুটে উঠে সম্প্রীতির চিত্র

নগর জীবন | রবিবার, ৩ জুন ২০১৮ | ০৬:০৮:২৭ পিএম

ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার আরমানিটোলার আবুল খয়রাত রোডের তারা মসজিদ। ৫ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৭০ফুট, প্রস্থ ২৬ফুট। মসজিদের দেয়ালগুলো সুসজ্জিত ফুল, তারা, চাঁদ, আরবি ক্যালিগ্রাফিতে। পবিত্র রমজান মাসে বিখ্যাত এই মসজিদে সৃষ্টি হয় অন্যরকম পরিবেশের।

এখানকার ইফতারে শামিল হতে দেখা যায় ধনী-গরিব, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ি, দিনমজুর, ফকির, পথচারীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে রোজাদারদের মাঝে চোখে পড়ে না কোন ভেদাভেদ। প্লাস্টিকের পাত্র সামনে নিয়ে সারিবদ্ধ হয়ে ইফতারে বসে যান মুসুল্লিরা। আল্লাহর দরবারে হাত তোলেন। হে আল্লাহ! আমাদের ক্ষমা করো। রোজা কবুল কর, গুনাহ মাফ করে দাও।

তারা মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানান, এলাকাবাসীর আয়োজনে প্রতিদিন প্রায় ৮০জন মানুষ এখানে ইফতার করে থাকেন। মুসুল্লিদের অনেকে আবার নগদ টাকাও দান করেন। এভাবেই ইফতারের ব্যবস্থাপনা হয় এখানে। তাছাড়া ইফতার সামগ্রীর সঙ্কট হলে মসজিদ কমিটির ফান্ড থেকেও সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্লাস্টিকের মাঝারি সাইজের পাত্রে বাহারি আইটেমে ইফতার সাজানো হচ্ছে। বড় বস্তা থেকে মুড়ি আর বিশাল পাত্র থেকে বুট, ডাবলি এনে প্রতিটি পাত্রে পরিমাণ মতো দেয়া হচ্ছে। তারপর বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুচপ, জিলাপি ও খেজুর দেয়া হচ্ছে। সাথে ফল হিসেবে থাকছে আপেল, মালটা, লিচু, আম ও কলা। বড় বড় পাতিলে শরবত বানানোর কাজে কয়েকজনকে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।

প্রতিদিন ইফতারের এই আয়োজন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য তারা মসজিদে গঠন করা হয়েছে একটি ‘ইফতার ব্যবস্থাপনা কমিটি’। সেই কমিটির সদস্য কামাল হায়দারের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি জানান, ‘প্রতিদিন ৭০-৮০জন মানুষ একসাথে এখানে ইফতার করেন। এলাকার জনসাধারণের সহযোগিতায় আয়োজিত হয় এই ইফতার। মসজিদ কমিটি থেকে আমরা চেষ্টা করি এটাকে যতটা সুন্দরভাবে আয়োজন করা যায়।’

প্রতিদিন ইফতারে কত টাকা ব্যয় হয়- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রায় ৮-১০হাজার টাকা ব্যয় হয় প্রতিদিন।’
নিয়মিত এখানে ইফতার করেন স্থানীয় মুসুল্লি মুহা. রহমতুল্লাহ। তিনি জানান, ‘পথচারী, এলাকাবাসী, দুঃস্থ-গরিব সবাই এখানে ইফতার করতে আসে। একসাথে বসে ইফতার করে।’ প্রতিদিনের ইফতারে কি কি আইটেম থাকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রুহ আফজা শরবত, খেজুর, ছোলা-মুড়ি, জিলাপি, আপেল, মালটা, কলা, আমও থাকে। আর সপ্তাহে একদিন থাকে স্পেশাল বিরিয়ানি।’

স্থানীয় ব্যবসায়ী আরশাদ হোসাইন আক্ষেপ করে বলেন, ‘আগের মত ইফতার আয়োজন এখন আর হয়না। সেই উৎসব আর সেই আমেজ দিন দিন কেমন যেন হারিয়ে যাচ্ছে। তবুও প্রতিদিনের ইফতারে এখানে যে সম্প্রীতি ফুটে উঠে তা দেখে কিছুটা হলেও মনটা আনন্দে ভরে উঠে।’

-আমাদেরসময়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন