রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮ ১১:১৬:১১ পিএম

ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা, বিশ্বকাপে কাদের এগিয়ে রাখলেন নেইমার?

খেলাধুলা | রবিবার, ৩ জুন ২০১৮ | ০৬:২৫:৩৭ পিএম

বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে যাচ্ছে আর মাত্র ১১ দিন পর। এবারের বিশ্বকাপে ফেবারিট ব্রাজিল। আর দলের প্রাণভোমরা নেইমার। এই পিএসজি সুপারস্টার এখন সুস্থ। ইনজুরির কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। করিয়েছেন অস্ত্রোপচার। অনেকদিন পর মাঠে ফিরে এসে বিশ্বকাপের ২১তম আসর এবং নিজের অবস্থা সম্পর্কে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিচে দেয়া হলো-

আবার একটা বিশ্বকাপ। ব্রাজিল পারবে?‌
নেইমার :‌
বিশ্বাস করি আমার ব্রাজিল পারবে। দলটা ভাল। আমরা পরিশ্রমও করেছি। আসল কথা, জেতার যোগ্যতা আছে।

এত জোর দিয়ে বলছেন কী করে?‌
নেইমার :‌
এবার দক্ষিণ আমেরিকার গ্রুপ থেকে আমরাই প্রথম যোগ্যতা অর্জন করেছি। প্রায় ১৮টা ম্যাচ যোগ্যতা অর্জন পর্বে খেলেছি। ভিন্ন দেশ, ভিন্ন পরিবেশে। যা অবশ্যই বড় পরীক্ষা ছিল ফুটবলারদের সামনে। আমরা খেলেছি নিজেদের স্টাইলে। ম্যাচ বাকি থাকতেই যোগ্যতা অর্জন করেছি। যা দলের সবার কাছেই ছিল বিশেষ। রাশিয়াতেও একই দাপট দেখাতে চাই।

বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে আপনি ছিলেন দলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। কিন্তু তারপর চোট পেয়েছেন। অস্ত্রোপচার হয়েছে। আপনার ফিটনেস চিন্তায় রেখেছে অনুরাগীদের। কী বলবেন?‌
নেইমার :‌‌
এখন ঠিক আছি। হ্যাঁ, চোট নিয়ে আমিও চিন্তায় ছিলাম। বিশ্বকাপের কথা ভেবেই দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। মনে হয়, সব কিছু ঠিক থাকবে। পারফেক্ট হবে আমাদের জন্য।

২০১৪'র বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে চোটের জন্য খেলেননি। ব্রাজিল হেরেছিল বিশ্রীভাবে। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়!‌ নিশ্চয়ই মনে আছে?‌
নেইমার :‌
ওই সময়টা পেছনে ফেলে এসেছি। জার্মানির কাছে ১-৭ হার হজম করা কঠিন। আমার পক্ষে তো আরো বেশি। কারণ চোটের জন্য ম্যাচটা খেলতে পারিনি। ওই চোট আমার কেরিয়ার শেষ করে দিতে পারত। আর দুই সেন্টিমিটার দূরে লাগলে আজীবন হুইলচেয়ারে কাটাতে হত। ভাগ্যিস অতটা লাগেনি। তাই তাড়াতাড়ি মাঠে ফিরতে পেরেছি। যা প্রচণ্ড ভালবাসি, সেই খেলাটা এখনও খেলতে পারছি। সামনেই আরও একটা বিশ্বকাপ। চ্যালেঞ্জের জন্য আমরা তৈরি।

গ্রুপ ‘‌ই’‌-তে আপনাদের সঙ্গেই আছে সুইজারল্যান্ড, কোস্টারিকা আর সার্বিয়া।

নিজেদের গ্রুপ নিয়ে কী বলবেন?‌
নেইমার :‌‌

এটা বিশ্বকাপ। এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা ৩২ দলের মধ্যে আমরা আছি। বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। সুইজারল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাস দুর্দান্ত। সার্বিয়া নতুন দেশ হলেও ছাপ রেখেছে। আর কোস্টারিকা?‌ কতটা শক্তিশালী তার প্রমাণ তো রয়েছে চোখের সামনেই। আমেরিকা যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ওরা পেরেছে!‌ নক আউটে যোগ্যতা অর্জন করতে গেলে আমাদের সেরাটাই দিতে হবে।

মেসির সাথে খেলেছেন। রোনালদোর বিরুদ্ধে লড়েছেন। স্পেনে থাকার সময়। ওদের দু’‌জনের বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা কতখানি?‌

নেইমার :‌‌

দু’‌জনেই গ্রেট। এ প্রজন্মের সেরা। মেসির সাথে খেলা আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের। ফুটবলার হিসেবে তো বটেই, মানুষ হিসেবেও ও দুর্দান্ত। মেসির সাথে একই ক্লাবে খেলাটা ছিল স্বপ্নের মতো। আমার কাছে ও–ই সেরা। তাই বলে রোনালদোকে উপেক্ষা করতে পারব না। ওর কৃতিত্বও অসাধারণ। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা আর পর্তুগাল— দু’‌দলেরই বড় পরীক্ষা। তবে এই দুই জাদুকর সবটুকু উজাড় করে দেবে নিজের দেশকে সেরা ট্রফিটা দেয়ার জন্য।

বিশ্বকাপে কে ফেবারিট?‌
নেইমার :‌‌
ব্রাজিল। এ ব্যাপারে সংশয় নেই। তবে আমাদের সাথেই কয়েকটা দলের নাম উচ্চারিত হবে। যেমন আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে। তবে এবার যেহেতু ইউরোপে বিশ্বকাপ হচ্ছে, তাই ফেবারিটের তালিকায় ইউরোপের দেশগুলোই বেশি থাকবে। জার্মানি তো গতবারের চ্যাম্পিয়ন। তাছাড়া স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, পর্তুগালও আছে। তাই যে কোনো একটা দলকে ফেবারিট তকমা দেয়া কঠিন।

আর মাত্র ১২ দিন। রাশিয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলবেন মেসি। আর ব্রাজিলের হয়ে খেলবেন নেইমার। এই দু'জনের এক একটি গোল খাবার জোগাবে ক্যারিবিয়ান ও লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের স্কুলগুলোর ১০ হাজার শিশুর। গত বৃহস্পতিবার এমন ঘোষণাই দিলো মাস্টার কার্ড।

তারা বলেছে, বিশ্বকাপে মেসি কিংবা নেইমারের এক একটি গোলের বিনিময়ে দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ানের সুবিধাবঞ্চিত ছেলে-মেয়েদের স্কুলগুলোতে ১০ হাজার টিফিন বিতরণ করবে। আর সেটা তারা দেবে জাতিসঙ্ঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডিব্লিউএফএ) মাধ্যমে। মাস্টার কার্ড ইতোমধ্যে ওই সব অঞ্চলে তিন লাখ খাবার বিরতণ করেছে। এই সংখ্যাটা দিন দিন আরো বাড়ছে।

মাস্টার কার্ডের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘লাতিন আমেরিকায় ৪০ মিলিয়নের বেশি লোক ক্ষুধার্ত থাকছে প্রতিনিয়ত। তাদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে। ক্ষুধাকে পরাজিত করতে, শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূর করতে এবং তাদের শিক্ষিত করে তোলা জরুরি। তাহলেই ক্ষুধার যে চক্র সেটা ভাঙা যাবে।’

এই ক্যাম্পেইনের অংশ হতে পেরে গর্ববোধ করছেন মেসি, ‘এমন একটি ক্যাম্পেইনের অংশ হতে পেরে আমি গর্ববোধ করছি। এটা হাজার হাজার শিশুর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। হাজার হাজার শিশুর মুখে হাসি ফোটাবে।’

ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারও খুশি, ‘আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে এই অঞ্চলের শিশুরা এক প্লেট খাবার পাক। একটু আশা পাক। আমরা লাতিন আমেরিকানরা জানি, একত্রিত হলে আমরা অনেক কিছু করতে পারি। অতীতে এমন নজির আমরা স্থাপন করেছি। একসাথে আমরা ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাই।’

‘মেসি, আমরা তোমাকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখতে চাই’- এমন এক ব্যানার নিয়ে আর্জেন্টিনার দলকে বহন করা বাসের সামনে দাঁড়িয়ে চিৎকার করতে থাকে দেশটির ক্ষুদে ফুটবল ভক্তরা। লিওনেল মেসি এবং তার দল বুয়েন্স আয়ার্স ছেড়ে বিশ্বকাপ অভিযানে যাওয়ার পথে তাদের সামনে হাজির হয়ে যায় দেশের অগণিত সমর্থকরা। যে পথ দিয়ে মেসিদের বাস বিমানবন্দরের দিকে গেছে, তার দুইধারে আর্জেন্টিনার পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে অগণিত সমর্থকরা। এর মধ্যে চোখে পড়ার মত ছিলো কয়েক জন ক্ষুদে সমর্থকদের ব্যানার। যাতে আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য মেসিদের শুভ কামনাই জানিয়েছেন তারা।

ক্ষুদে ভক্তদের সাথে অগনিত সমর্থকগোষ্ঠিই নয়, আর্জেন্টিনাকে শুভ কামনা জানিয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট মরিসিয়ো মাকরি। দলের খেলোয়াড়দের বিদায় জানাতে আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্থার দফতরে তার বিশেষ হেলিকপ্টারে আসেন মাকরি। প্রেসিডেন্টের সাথে ছিল তার ছোট মেয়ে আন্তোনিয়া।

মেসির সাথে আলাদাভাবে বেশ কিছুটা সময় কথাও বলেন মাকরি। আর্জেন্টিনার প্রচার মাধ্যমের প্রকাশিত খবরে বলা হয়, মেসিকে ডেকে মাকরি বলেন, ‘জেনে রেখো, তোমরা বিশ্বকাপে যা-ই করবে, তাতেই আর্জেন্টিনার জনগণ খুশি হবে। এটা ভেবো না, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলে তা তোমার ফুটবল ক্যারিয়ারে কালো দাগ পড়বে। এ রকম উন্মাদের মতো ভাবনা এ দেশের কারো মাথাতেই নেই।’

মেসিদের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্টকে দলের একটি জার্সি উপহারও দেয়া হয়। মেসিদের উদ্দেশে মাকরি আরো বলেন, ‘আমাদের দলটি দারুণ। সব ফুটবলারই দুর্দান্ত। তোমরা বিশ্বকাপ জয়ের সামর্থ্য রাখো। তবে আমার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ- তোমরা বিশ্বকাপে খেলাটা উপভোগ করছ কি-না। আমি বলবো, বিশ্বকাপে যাও এবং সেখানে খেলা উপভোগ কর।’

বিশ্বকাপের ২১তম আসরে ‘ডি’ গ্রুপে রয়েছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপে তাদের অন্য তিন প্রতিপক্ষ- আইসল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও নাইজেরিয়া। আগামী ১৬ জুন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসন্ন বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করবে আর্জেন্টিনা।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন