বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮ ১১:৫৮:৫৯ এএম

ঈদযাত্রায় মহাসড়কে দুর্ভোগের আশঙ্কা

জাতীয় | সোমবার, ৪ জুন ২০১৮ | ০৩:১৪:৫১ পিএম

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন উত্তরবঙ্গসহ ২৬টি জেলায় হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। রাজধানীর সঙ্গে সড়ক পথে উত্তরবঙ্গ যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই সড়কটি। প্রতিবছর ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যানবাহনের ভিড়ে এই মহাসড়কে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন চালক ও যাত্রীরা। এবারের ঈদযাত্রায়ও এই মহাসড়কে তীব্র যানজটের আশঙ্কা করছেন যাত্রীসাধারণ এবং চালকেরা। ঈদযাত্রায় মহাসড়কে দুর্ভোগের আশঙ্কা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এই মহাসড়কে চারলেনের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। এছাড়া করটিয়া, টাঙ্গাইল বাইপাস, ঘারিন্দা বাইপাস, রসুলপুর, এলেঙ্গা ও মির্জাপুরসহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অনেক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়। অন্যদিকে,গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে কালিহাতীর এলেঙ্গা পর্যন্ত চলছে চার লেনের কাজ। এ জন্য সড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল করতে হচ্ছে। ফলে প্রায় ৭০ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ যানজটের কবলে পড়ছে শত শত গাড়ি। মহাসড়কের চারলেনের কাজ দ্রুত গতিতে হচ্ছে। তবে ঈদের আগে পুরো কাজ শেষ হবে না বলে মনে করছেন চালকেরা। ফলে ঈদের সময় দুর্ভোগ আরও ভাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। একই আশঙ্কা স্থানীয়দেরও।

জানা যায়, প্রতিদিন এই মহাসড়কে গড়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। আর ঈদের সময় ঘরমুখো যাত্রীদের চাপে যানবাহনের সেই সংখ্যা ৫ থেকে ৬ গুণ বেড়ে যায়। এ ছাড়া ধেরুয়া রেলক্রসিং-এ ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রুটের ১২টি ট্রেন দিনে ২৪ বার ক্রসিং করে। এতে সারা দিনে গড়ে প্রায় দেড় ঘণ্টার বেশি সময় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এর ফলেও ঈদের আগে মহাসড়কে যানজট হবে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকরা।

উত্তরবঙ্গগামী হানিফ পরিবহনের চালক হুমায়ুন জানান, ‘সড়কের বেহাল দশা আর নির্মাণ কাজে ধীরগতির কারণে এখনি তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঈদের ছুটিতে কী হবে সেটা নিয়ে ভাবছি? তবে যানজট নিরসনে যদি জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ তৎপর থাকে তাহলে মহাসড়কে চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।’

এদিকে, চারলেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক জিকরুল হাসান বলেন, ‘চলাচলের জন্য প্রকল্পের আওতায় থাকা কয়েকটি অংশের রাস্তা ও বেশিরভাগ সেতু ঈদের আগেই খুলে দেওয়া হবে। আশা করি, ঈদের সময় কোনও প্রকার যানজট থাকবে না।’

টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল এহসান বলেন, ‘মানুষ যাতে স্বস্তিতে ঘরে ফিরতে পারেন এবং স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে পারেন সেজন্য ৮ জুনের মধ্যে চার লেন খুলে দেওয়া হবে।’

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) সঞ্জিত কুমার রায় জানান, ‘আসন্ন ঈদে মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে এবং ঘরমুখো মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছাতে পারেন সেজন্য পুলিশ প্রশাসন সার্বক্ষণিক মহাসড়কে অবস্থান করবে।’

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন