সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ ০১:৫৪:৪৪ পিএম

‘তারা আমাকে গুলি করুক, তাতে আমি ভীত নই’

আন্তর্জাতিক | মঙ্গলবার, ৫ জুন ২০১৮ | ০৪:৪১:৪১ পিএম

পৃথিবীর এক প্রান্তে আমরা যখন আমাদের পরিবার-পরিজনকে নিয়ে নিঃশঙ্ক চিত্তে ঘুমাতে যাচ্ছি, ঠিক তখনি আরেক প্রান্তে একদল জাতি তাদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে বিক্ষোভ করে যাচ্ছে। তার তাদের মৃত্যুকে অগ্রাহ্য করে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে নিজ দেশের পতাকা উত্তোলন করে বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছে- প্রয়োজনে আমরা জীবন দেব, তবুও আমাদের দখলকৃত জায়গা পুনরুদ্ধার জন্য চেষ্টা করে যাবো!

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় ফিলিস্তিনিরা যে ভূখণ্ড হারিয়েছে, তা ফিরে পাওয়ার দাবিতে চলছে বিক্ষোভ। কারণ এই বিক্ষোভ যাদের বিরুদ্ধে তাদেরকেই একসময় বুকে টেনে নিয়ে থাকার জায়গা দিয়েছিল এ ‍জাতি। আজ তারা নিজেরাই ঘরছাড়া! অবাক হচ্ছেন, অবাক তো হওয়ারি কথা!

এই বিক্ষোভের লাশের মিছিলে যুক্ত হয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মী রাজন আল-নাজ্জার। যার বয়স মাত্র ২১ বছর। যিনি গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে আহতদের চিকিৎসা দিতেন। আর তাকেই ইফতারির কিছুক্ষণ আগে গুলি করে হত্যা করেছিল ইসরাইলি সেনারা।

ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে নিহত সাদা ইউনিফর্ম পরা ফিলিস্তিনি এই তরুণী মৃত্যুর আগে তার শেষ ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন- ‘I will come back and will not retreat. Hit me with your bullets, I'm not afraid’

‘Everyday I'll be peaceful in my land supporting my people, We'll never Cease’

যার অর্থ হলো- ‘আমি ফিরে আসবই এবং কখনই পিছু হটব না। তারা আমাকে গুলি করুক, তাতে আমি ভীত নই।’

‘আমি প্রতিদিন আমার জন্মভূমি এবং এখানের মানুষকে অন্তর থেকে স্বরণ করি, আমি কখনই তোমাদেরকে ভুলবো না’

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, এক বৃদ্ধ লোকের মাথায় ইসরায়েলের টিয়ারগ্যাসের আঘাত লাগলে রাজন আল-নাজ্জার তাঁর সাহায্যে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তখনই তাঁকে গুলি করা হয়।

তার বাবা বলেন, সেদিন রাজন রোজা রেখেছিলেন। তাহাজ্জুদ নামাজও পড়েছিলেন। ইফতারির কিছুক্ষণ আগেই তাকে গুলি করা হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেখান থেকে হাসপাতালে নেয়া হলে অপারেশন থিয়েটারে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৪৮ সালে ইহুদি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় প্রায় সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনি নিজেদের বসতবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়। এসব ফিলিস্তিনি পার্শ্ববর্তী আরব দেশ, অধিকৃত পশ্চিমতীর ও গাজায় শরণার্থী হিসেবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের নিজেদের ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার দাবিতে গত ৩০ মার্চ থেকে 'গ্রেট মার্চ ফর রিটার্ন' আন্দোলন শুরু হয়েছে। গত দুই মাস ধরে চলা বিক্ষোভে ১২৫ জন নিহত হলেও আহত হয়েছেন ১৩ হাজারেরও বেশি।


খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন