বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৮:১৯:৩৬ পিএম

মৌলভীবাজারে যত্রতত্র ইটভাটা’

জেলার খবর | মেীলভীবাজার | মঙ্গলবার, ৫ জুন ২০১৮ | ০৫:১৬:১১ পিএম

মৌলভীবাজারে পরিবেশ অধিদফতরের নীতিমালা উপেক্ষা করে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা। ফসলি জমির পাশে এমনকি স্কুলঘেঁষে গড়ে উঠেছে অনেক ইটভাটা।

ইট প্রস্তুত নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাহাড়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং লোকালয় থেকে তিন কি.মি. দূরত্বের মধ্যে কোনো ইটভাটা নির্মাণ করা যাবে না।

এছাড়াও কৃষিজমিতে ইটভাটা তৈরির আইনগত নিষেধ থাকলেও কৃষিজমি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বনাঞ্চলের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে এসব ইটভাটা।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ৭০টি ইটভাটার মধ্যে অর্ধেক ইটভাটায় কোনো অনুমতি নেই। ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে কঠিন আইন থাকা সত্ত্বেও কিছুই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। জেলার বিভিন্ন জায়গায় বাংলা ড্রাম চিমনির মাধ্যমে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হয়।

এমনকি কোনো ধরনের চিমনি ছাড়াও ইট পোড়ানো হয়। বেশিরভাগ জায়গায় কৃষি জমি নষ্ট করে গড়ে উঠছে ইটভাটা। যার কারণে পার্শ্ববর্তী কৃষকরা বড় বিপাকে পড়েছেন। বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশে ইটভাটা নির্মাণ করায় প্রতিনিয়ত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ধুলা ও ধোঁয়ার মধ্যে চলাচল করতে হয়। বসতবাড়ির কোলঘেঁষে এসব ভাটা নির্মাণের ফলে নিকটবর্তী মানুষের বসবাসে বিঘ্ন ঘটে। সেই সঙ্গে গাছপালা বৃদ্ধিতে সমস্যা ও ফসল নষ্ট হয়। এসব ইটভাটার প্রায় সবগুলো ফসলি জমি এবং মানুষের আবাস স্থলের কাছে। আবার কিছু কিছু ইটভাটা সরকারি প্রাইমারি স্কুলের সীমানা ঘেঁষেই দাঁড়িয়ে আছে।

জেলার রাজ নগর উপজেলার বেশীরভাগ ইটভাটা ফসলি জমি এবং জনবসতির ২০০ হাতের ভিতরে অবস্থিত। ইটভাটার কারণে ফসলি জমিতে ফসল হচ্ছে না ও বসতবাড়ি ছাই এবং ধুলো-বালুতে ঢাকা পড়ে রয়েছে।

স্থনীয় কৃষক আব্দুল মতিন তিনি জানান, ইটভাটার কারণে ফসল হচ্ছে না। অনেকের আবার চর্মসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দিচ্ছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, ইটভাটায় কৃষকদের ফসল বিনষ্টের একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ইটভাটা সমূহের কার্যক্রম বিষয়েও খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনেক ইটভাটার পরিবেশের ছাড়পত্র নেই। কেন নেই জানতে চাইলে, একটি ইটভাটার ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তাদের ব্যবসা করতে সমস্যা হচ্ছে না। তবে তারা অচিরেই করে নেবেন।

জেলা কৃষি অধিদফতরের উপপরিচালক মো. শাহজাহান জানান, নির্দিষ্ট আইন থাকার পরেও আইন মানা হচ্ছে না। যার ফলে কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে। সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ একমাত্র সমাধান হতে পারে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মৌলভীবাজারের সমন্বয়ক আ.স.ম সালেহ সোহেল জানান, জেলায় প্রায় সত্তরটি ইটভাটা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অনেক ভাটার আইনি বৈধতা নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। এসব ভাটাকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন