বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ ০৭:৪৯:৫৭ পিএম

শেরপুরে জমে উঠেছে ঈদ বাজার- শপিংমল গুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়

জাহিদুল খান সৌরভ | জেলার খবর | শেরপুর | বুধবার, ৬ জুন ২০১৮ | ১১:৫৫:০৩ এএম

আজ মঙ্গলবার ছিল রমজানের ১৯ তম রোজা। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জমে উঠছে জেলা শহর শেরপুরের ঈদের বাজার। নিজের ও প্রিয়জনের জন্য পছন্দের পোশাক কিনতে শেরপুরের মার্কেট এবং শপিংমলগুলোতে বেড়েছে ক্রেতার ভিড়।

বিক্রেতারা আশা করছেন রমজানের বাকি দিনগুলোতে আবহাওয়া ভাল থাকলে তাদের বিক্রি ভালো হবে। শহরের নিউমার্কেট, , কাকলি মার্কেট, রঘুনাথ বাজার, গোয়ালপট্রি , খরমপুর, তেরাবাজার, মোজাম্মেল মার্কেটসহ অভিজাত বিপণি বিতানে ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে ভালো বেচাকেনা শুরু হয়েছে।

বরাবরের মত এ বছরও শেরপুরের মার্কেটে ভারতীয় পোশাকের চাহিদা বেশি। নানা রকম ডিজাইন আর হিন্দি সিনেমার নাম অনুসারে বেশ জনপ্রিয় ভারতীয় পোশাকগুলো।
এ বছর মেয়েদের জন্য দোকানিরা এনেছেন বাজিরাও মাস্তানি, বাগি ড্রেস, সামপুরা, লং কোটি, মাসাককালী, ওয়াইফাই, ক্যাকটাস, থ্রি ডি, বিভা, বিশাল, লকনা, আশিকী, পাখি, জয়পুরী, মাস্তানীয়া,কিরণমালা, মধুমালা, মায়াপরী, পাকিস্তানি লোনসহ বিভিন্ন নামের থ্রিপিস ও ফোর পিস পোশাকও নারী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।

ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের থ্রি-পিস দেড় হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ছেলেদের কালার ফুল শার্ট, চেক শার্ট, এক কালার শার্ট, জিন্স ও গ্যাবাডিং প্যান্ট বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত।

কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে ভিড় ছিল শহরের পৌর শপিং কমপ্লেক্স ও পৌর অডিটোরিয়াম কাম মার্কেটে । এ ভিড়ের ঝাপটা এসে লেগেছিল সড়কগুলোতে। থানামোড় পার হয়ে নিউমার্কেট হয়ে খোয়ারপাড় পর্যন্ত আসতে সব রকমের যানবাহনসহ যাত্রী সাধারনকে দীর্ঘ সময় জ্যামে আটকে থাকতে হচ্ছে। গজ কাপড়ের জন্য নারী ক্রেতারা খরমপুর মোড় নয়আনী বাজার, গোয়ালপট্রি, কাকলী মার্কেট, তেরাবাজার এলাকার দোকান গুলোতে যাচ্ছে। ভাই ভাই সিট কর্নার ও জননী বস্ত্রালয়ের দোকানি জানান, এবার সুতি কাপড়ের চাহিদা বেশী রয়েছে। এছাড়া বেনারশি, জর্জেট, কাতান, সিল্ক, শার্টিন ও জুট কাতানও বিক্রি হচ্ছে।

ঈদের পোশাকের দাম বেশি সম্পর্কে মোঃ মোস্তফা জানান, পোশাকের দাম এবার খুব বেশি বাড়েনি। তবে ভারতীয় পোশাক আমদানিতে ব্যয় কিছুটা বাড়ায় সামান্য দাম বেড়েছে।

বিভিন্ন শাড়ির দোকানে টাঙ্গাইল শাড়ি ৬০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা, জর্জেট শাড়ি ১২০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা, সিল্ক শাড়ি ২০০০ টাকা থেকে ৭০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে সুতি পাঞ্জাবি ৫০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা, জর্জেট পাঞ্জাবি ১০০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা, জামদানি পাঞ্জাবি ৭০০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

পরিধেয় পোশাকের পাশাপাশি কসমেটিক্স ও জুতার দোকানে ও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শহরের কাকন সু বাজারে জুতো কিনলেই ক্রেতাদের জন্য রয়েছে আকর্ষনীয় পুরষ্কারের ব্যবস্থা। এছাড়া ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে আজাদ, ইয়াকুব, বাটা, এপেক্স, লুটো সহ নানা ব্রান্ডের জুতো।

অন্যদিকে ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে দর্জি ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে দর্জি ব্যবসায়ী নাজমুল বলেন, এমনিতেই হাতে প্রচুর কাজ জমে আছে যা, সময় মত ডেলেভারী দিতেই হবে। তাই এখন নতুন করে কোন কাজ হাতে নিচ্ছি না।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন