বৃহস্পতিবার, ২১ জুন ২০১৮ ১২:১১:৫৬ পিএম

কষ্টে আছেন কাপ্তাই হ্রদের ১৯ হাজার জেলে

জেলার খবর | রাঙ্গামাটি | বুধবার, ৬ জুন ২০১৮ | ০৯:৪৫:২১ পিএম

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদকে ঘিরে প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার জেলের জীবিকা চলে। এই হ্রদের ওপর নির্ভর করে চলে তাদের জীবন-জীবিকা।

গত ৩০ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে এই হ্রদে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে জেলা প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞা জারির প্রায় দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কার্ডের খাদ্যশস্য হাতে পায়নি জেলেরা। ফলে বেকার অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন জেলে পরিবারগুলো।

কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের বংশবৃদ্ধি, হ্রদে অবমুক্ত করা পোনা মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতকরণসহ হ্রদের প্রাকৃতিক পরিবেশ মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির সহায়ক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিবছর কাপ্তাই হ্রদে মে, জুন, জুলাই তিন মাস মাছ আহরণ বন্ধ রাখা হয়। এ সময়ে হ্রদে মৎস্য আহরণ করা প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার জেলেকে ডিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা দেন সরকার।

সাধারণত বছরের নয় মাস মৎস্য আহরণের মাধ্যমে জেলেদের পরিবারের সচ্ছলতা থাকলেও মাছ আহরণ বন্ধকালীন এ তিন মাস তাদের দুঃখ-কষ্টে দিন কাটে। হ্রদে মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় অনেকেই দিন-মজুরের কাজ করলেও অধিকাংশ জেলে বেকার জীবনযাপন করছেন।

এদিকে, জেলে পরিবারগুলো ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় জালসহ অন্যান্য উপকরণ ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে তা পরিশোধ করেন। কিন্তু এ সময়ে আয়ের কোনো উৎস না থাকায় ঋণের জালে আটকে পড়েছেন জেলেরা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গামাটির ১৯ হাজার ৪৭৩ জেলে পরিবারের জন্য রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ৩৮৯ টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ হয়েছে।

বরাদ্দপত্রে বলা হয়েছে, কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা রাঙ্গামাটির ৮ উপজেলার ১৯ হাজার ৪৭৩ দুঃস্থ ও প্রকৃত জেলে পরিবারের জন্য প্রতি মাসে ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মে ও জুন মাসে এ খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে।

রাঙ্গামাটি সদরের ৫ হাজার ৪৩, লংগদুতে ৬ হাজার ৫৪৩, বরকলে ২ হাজার ৯৫৭, বাঘাইছড়িতে ১ হাজার ৭৪৩, জুরাছড়িতে ৪০৭, নানিয়ারচরে ১ হাজার ৫১৯, কাপ্তাইয়ে ৬২৫ ও বিলাইছড়িতে ৬৩৬ জেলে পরিবার এ সহায়তা পাবে।

গত বছরে রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসের কারণে এ খাদ্যশস্য সহায়তা পাননি জেলে পরিবারগুলো। এবছর তারা খাদ্য সহায়তা পাবে প্রশাসন থেকে বলা হলেও এখনো সহায়তা না পাওয়ায় কষ্টে আছেন জেলে পরিবারগুলো।

জেলে পাড়ার জেলে উত্তম চন্দ্র দাশ বলেন, গত বছরে আমাদের খাদ্যশস্য দেয়া হবে বলা হলেও পরে আর সরকার কিছুই দেয়নি। এবছরও এখনো পর্যন্ত আমাদেরকে কিছু দেয়া হয়নি। কাজ কর্ম নেই। এখন পরিবার নিয়ে অনেক দুঃখ কষ্টে দিন পার করছি।

আরেক জেলে নিতাই জলদাশ বলেন, আমাদের কোনো কাজকর্ম নেই। তাই এখন বেকার-জীবনযাপন করছি। ছেঁড়া জালগুলো মেরামত করছি। জালগুলো দিয়ে সামনের দিনে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

জেলে অরুন জলদাশ বলেন, মাছ ধরা বন্ধকালীন সময়ে সরকারিভাবে আমাদের ভিজিএফের কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য দেয়ার কথা বলা হলেও এখনো পায়নি কেউ। গেলো বছরেও দেবে দেবে বলে আর দেয়নি। এমনিভাবে আর আমাদের সংসার চলে না। তাই আমরা জানি এ সময় মাছ ধরা ঠিক না। কিন্তু তবুও অনেকেই বাধ্য হয়ে চুরি করে মাছ ধরছে।

জেলে পাড়ার পুষ্প রানী দাশ বলেন, এ সময় আমাদের সংসার চলে অনেক দুঃখ কষ্টে। কোনো কাজকর্ম নেই। হ্রদে মাছ ধরতে গেলে পুলিশে ধরে। তাই কেউ মাছ ধরতে যাই না। আবার সরকার বলে আমাদেরকে সহায়তা করবে। কিন্তু কোথায়? সরকারের তো দেখা-ই নেই। আমার স্বামী বাধ্য হয়ে এখন কাঠমিস্ত্রির কাজ করছে।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) রাঙ্গামাটির ব্যবস্থাপক কমান্ডার আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা জেলেদের তালিকা সরকারের কাছে পাঠিয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা খাদ্যশস্য বরাদ্দ পেয়েছি। রাঙ্গামাটির ৮ উপজেলার প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার জেলেকে এই খাদ্যশস্য দেয়া হবে।

রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল প্রতিটি উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে জেলেদের মাঝে খাদ্যশস্য বণ্টন করা হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন