মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮ ০৮:১৪:৩০ এএম

কপিরাইট আইন লঙ্ঘন: বাংলাদেশের শিল্পীরা তা কতটা মানছে, তাদের মধ্যে সচেতনতাই বা কতটা?

বিনোদন | বৃহস্পতিবার, ৭ জুন ২০১৮ | ১০:৩৭:০৭ এএম

মেধাস্বত্ব আইনের তোয়াক্কা না করেই গীতিকার এবং সুরকারদের বঞ্চিত করে গান বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দু’জন সুপরিচিত শিল্পীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ানোর পর একজন গ্রেফতার হয়েছেন। শিল্পী শফিক তুহিনের দায়ের করা অভিযোগে আসিফ আকবর গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় আবারো সামনে চলে এসেছে মেধাস্বত্ব আইন বা কপিরাইট আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি।

বাংলাদেশে কপিরাইট আইন কতটা মানা হচ্ছে? এবং শিল্পীরা সে নিয়ে কতটা সচেতন? এই বিষয়গুলো বিবিসি বাংলা জানতে চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানজিম আল ইসলামের কাছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কপিরাইট আইনটা হয়েছে ২০০০ সালে। এবং ২০০৫ সালে এটা কার্যকর হয়েছে। এই আইনে যে বিষয়টি সামনে আসবে সেটি হলো সাহিত্যকর্ম, চলচ্চিত্র, সংঙ্গীত, শিল্পকর্ম এবং সাউন্ড রেকর্ডিং। এগুলো কপিরাইট আইনের অন্তর্ভুক্ত বিষয়।’

বাংলাদেশে কেউ যদি কপিরাইটের আইনটা লঙ্ঘন করে তাহলে কি ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে? বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে সুপ্রিম কোর্টের ঐ আইনজীবী বলেন, ‘উপরের কপিরাইট আইনের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে শুধু চলচ্চিত্র ব্যতীত অন্য বিষয়গুলো যদি কেউ লঙ্ঘন করে তাহলে বাংলাদেশ আইনে তার শাস্তি হচ্ছে সর্বোচ্চ চার বছরের জেল এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা জরিমানার বিধান আছে। পাশাপাশি সিভিলকোর্টে ক্ষতিপূরণের বিধানও রয়েছে। অন্যদিকে চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে শাস্তির পরিমাণটা একটু বেশি। সেখানে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল।’

বাংলাদেশে কোন কোন ক্ষেত্রে কপিরাইট আইনের লঙ্ঘনের ঘটনাটা বেশি ঘটছে? বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে ঐ আইনজীবী বলেন, ‘আমরা যেটা দেখতে পাচ্ছি তারমধ্যে বেশিরভাগ লঙ্ঘনটা হচ্ছে সাহিত্যকর্মের ক্ষেত্রে এবং সংঙ্গীতের ক্ষেত্রে। তবে বর্তমানে সংঙ্গীতের উপর কপিরাইট লঙ্ঘনটা বেশি হচ্ছে। বিশেষ করে যিনি গীতিকার বা সুরকার কিংবা শিল্পী তাদের অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানি বা বিভিন্ন জনরা বিভিন্নভাবে গান তৈরি করছেন। সেটা এক ধরণের স্পাইরেসী বা এটা কপিরাইট আইনে স্পষ্ট লঙ্ঘন হয়। এদিকে সাহিত্যের ক্ষেত্রেও হচ্ছে। তবে বর্তমানে সাহিত্যের ক্ষেত্রে মানুষ একটু সচেতন হওয়ার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা কপিরাইট অফিস এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে।’

এই লঙ্ঘনের ঘটনাটা কিভাবে ঘটছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাধারণত সংঙ্গীতের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে দু’জন ব্যক্তি হবে কপিরাইট আইনের মূল মালিক। এবং মেধাস্বত্ব¡ এর মূল মালিক হচ্ছে গীতিকার এবং সুরকার। কপিরাইট আইনে সংঙ্গীতের ক্ষেত্রে দুইটা রাইটস আছে। তারমধ্যে একটি হলো কপিরাইটস আরেকটা হলো মূল কপিরাইটস এবং আরেকটা হচ্ছে রিলেটেড রাইটস। সে ক্ষেত্রে কণ্ঠশিল্পী, প্রযোজক এবং ব্রডকাস্টিং রিলেটেড যে প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে তারাও কপিরাইটের মালিকানা দাবি করতে পারে। কিন্তু মূল মালিকানা হচ্ছে গীতিকার এবং সুরকার।’

শিল্পীদের মধ্যে বা যিনি কপিরাইট আইনে এই সম্পত্তির অধিকারী অর্থাৎ এই সম্পদটা যাদের তাদের মধ্যে সচেতনতাটা কতটা? এই বিষয়ে ঐ আইনজীবী বলেন, ‘বর্তমানে সচেতনতাটা কিছু বেড়েছে। আমরা আগে কিছু কিছু ঘটনা কিন্তু দেখেছি। যেমন ২০১০ ও ২০১৪ সালে কণ্ঠশিল্পী জেমস এবং শাফিন আহমেদ কিন্তু মামলা করেছিলো একটা মোবাইল কোম্পানির বিরুদ্ধে এবং তারা ক্ষতিপূরণও দিয়েছিলো। তারপর আমরা দেখেছি প্রয়াত শিল্পী আব্দুল জব্বার। এ ছাড়া এমন আরো কয়েকজন কপিরাইট আইনের শিরোণামে এসেছিলেন। যারফলে আমার কাছে মনে হয় কিছু সচেতনতা বেড়েছে এবং আরো বাড়াতে হবে।’-বিবিসি বাংলা

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন