শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮ ১২:১৯:৫৩ এএম

শীর্ষ দুই আলেমের মতামত: ইসলাম মানায় মুসলিম দেশগুলো পিছিয়ে থাকার কারণ

ধর্ম | বৃহস্পতিবার, ৭ জুন ২০১৮ | ১০:৫৩:৩১ এএম

রাষ্ট্রীয়ভাবে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি অনুশাসন না থাকা, অমুসলিমদের সংস্কৃতি অনুসরণ ও ধর্মহীন শিক্ষার ফলেই ইসলাম মানায় মুসলিম দেশের মুসলমানরা পিছিয়ে আছে। এমনটাই মনে করছেন বাংলাদেশের দুই শীর্ষ দুই আলেম জামিয়া মালিবাগ মাদরাসার প্রিন্সিপাল শাইখুল হাদীস আল্লামা আশরাফ আলী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মুফতি মাহফুজুল হক। সম্প্রতি জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর হুসেইন আস্কারির গবেষণা প্রতিবেদনে ‘যে সমস্ত দেশ ঐতিহ্যগতভাবে মুসলিম অধ্যুষিত তাদের তুলনায় ইসলামি মূল্যবোধ ধরে রাখার ক্ষেত্রে অমুসলিম কিছু দেশ বেশ এগিয়ে রয়েছে’ এমন তথ্য তুলে ধরা বিষয়ে এ দুই শীর্ষ আলেম এ মন্তব্য করেন।

শাইখুল হাদীস আল্লামা আশরাফ আলী বলেন, মূলত ইসলামি দেশে ধর্মহীন শিক্ষার প্রচলন ও মুসলিম দেশের শাসকদের পশ্চিমাদের আনুগত্য ও অনুসরণই মুসলিমদেরকে ইসলামি রীতি নীতি মেনে চলায় অনীহা করে তুলেছে। দেশ ইসলামি হলেও শাসকরা অমুসলিম দেশগুলোকেই বেশি অনুসরণ করে থাকে। অপরদিকে মুসলিম দেশগুলোর তল্পিবাহক অমুসলিম দেশগুলোই। ফলে তারা নিজেরাও অমুসলিমদের মতো করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে।

তাহলে কী সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ধর্মহীন শিক্ষার প্রচলন রয়েছে? এমন প্রশ্নে মাওলানা আশরাফ আলী জানান, তাদের মাঝে ধর্মীয় শিক্ষা থাকলেও ধর্ম চর্চা নেই। তারা দ্বীনের দাওয়াত ও তাহজিব তামাদ্দুন থেকে দূরে সরে গেছে। বিপরীতে অমুসলিম দেশের মুসলিমরা তাদের পারিপার্শ্বিক অনৈসলামিক কাজে বিরক্ত হয়ে ইসলামি চেতনাকে ধরে রাখার চেষ্টা করে।

একই প্রশ্নের জবাবে মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বা মুসলিম দেশগুলোতে রাষ্ট্রীয়ভাবে কিছু ইসলামি নীতি পালন করা হলেও পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলামি অনুশাসন নেই। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমদেরকে অর্থ সম্পদ তাদের অহংকারি বানিয়ে ফেলেছে। আর অহংকার ও ভোগ বিলাস মানুষকে ধর্ম থেকে দূরে করে ঠেলে দেয়। এরফলেই তাদের মাঝে সুশাসন, মানবতার লঙ্গন ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রভাব নেই। ইসলামি রীতি নীতি পালনের প্রবণতা কম। রাষ্ট্রীয়ভাবে পূর্ণাঙ্গ ইসলামের অনুশাসন, ধর্মীয় শিক্ষা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে তাদের মাঝে ইসলামি মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনা যেতে পারে।আমাদের সময়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন