শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ ০৬:২২:৩৫ এএম

অনিচ্ছাকৃত প্রাণীর গায়ে আঘাত বা হত্যা কী পাপ?

ধর্ম | রবিবার, ১০ জুন ২০১৮ | ০২:০৪:৩০ পিএম

পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালা মানুষের কল্যাণে অসংখ্য প্রাণী সৃষ্টি করেছেন। এর কিছু প্রত্যক্ষ কল্যাণে ব্যবহৃত হয় কিছু অপ্রত্যক্ষ। তবে পৃথিবীতে সাধারণত দুই ধরণের প্রাণী রয়েছে। কিছু বিষাক্ত ও ভয়ঙ্কর আর কিছু মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। ইসলামে সকল বিষাক্ত প্রাণীকেই হত্যার ব্যাপারে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। যেগুলোর দ্বারা মানুষের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অপরদিকে কিছু নিরীহ প্রাণী রয়েছে যেগুলো মানুষের অনুগত ও শিকারযোগ্য। বিনা কারণে এসব প্রাণীর গায়ে আঘাত করা গর্হিত কাজ। অনিচ্ছাকৃত আঘাত বা হত্যার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। তবে ইচ্ছাকৃত হালাল প্রাণী ছাড়া নিরীহ প্রাণীর গায়ে আঘাত ইসলামে বৈধ নয়।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও জীব-জন্তুকে হত্যা না করে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, একদা হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কুরাইশের কিছু যুবকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন, যুবকেরা পাখি ও মুরগিকে তাক করে (তীর নিক্ষেপ করে) লক্ষ্যবস্তুতে সঠিকভাবে আঘাত করার বিষয়ে প্রতিযোগিতা করছে। তারা ইবনে ওমরকে দেখে, দৌড়ে পালাচ্ছিল। ইবনে ওমর তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ সব ব্যক্তিকে অভিশাপ করেছেন যারা প্রাণীকে (তীর নিক্ষেপের) লক্ষ্যবস্তু বানায়।’ (মুসলিম)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘একদা কোনো এক নবী একটি গাছের নিচে অবতরণ করলেন। অতঃপর একটি পিঁপড়া তাঁকে কামড় দিল। তখন তিনি গাছের নিচ থেকে তার গচ্ছিত মালামাল বের করে পিঁপড়ার আবাসস্থল শনাক্ত করে তাতে আগুন দিয়ে পিঁপড়াগুলোকে পুড়ে মারলেন। ফলে আল্লাহ তাঁকে ওহির মাধ্যমে জিজ্ঞেস করলেন, হে নবি! আপনাকে তো একটি পিঁপড়া কামড় দিয়েছে; আপনি কেন সব পিঁপড়া মেরে ফেললেন, (বুখারি)। এ হাদিসে পিপিলিকার ঘরকে সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। যদি ওই নবী শুধু একটি পিঁপড়াকে শাস্তি দিতেন, যেটি তাঁকে কামড় দিয়েছিল তাহলে আল্লাহ তাঁকে তিরস্কার করতেন না।

হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে সফরে ছিলাম। তিনি তাঁর হাজত মেটানোর জন্য গেলে আমরা একটি পাখিকে দুটি ছানাসহ দেখতে পেলাম এবং আমরা পাখির বাচ্চা দুটি নিয়ে এলাম। এ অবস্থায় পাখিটি বাচ্চা দুটির মায়ায় আমাদের পিছু নিল এবং ডাকাডাকি করছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাজত থেকে ফিরে এ দৃশ্য দেখে বললেন, ‘কে এদেরকে পিতা-মাতা থেকে ছিন্ন করে ভীতির মধ্যে ফেলে দিল, যাও বাচ্চা দুটিকে তাদের পিতা-মাতার কাছে ফিরিয়ে দাও।’

হাদিসে এসেছে, ‘একদা এক ব্যক্তি হাঁটতে হাঁটতে পিপাসার্ত হয়ে গেল। অতঃপর লোকটি একটি কূপে নেমে পানি পান করে আসতেই একটি কুকুরকে পিপাসায় কাতরাতে দেখলেন। এবং কুকুরটি তৃষ্ণায় ভিজা মাটি খাচ্ছে। তখন তিনি মনে মনে বললেন, কুকুরটির আমার মতোই পিপাসার্ত, অতঃপর তিনি আবারও কূপে নেমে জুতায় পানি ভরে; পানিসহ জুতা মুখে করে উপরে এসে কুকুরটিকে পানি পান করালেন। অতঃপর আল্লাহ তার ওপর খুশি হয়ে তাকে ক্ষমা করে দিলেন। সাহাবিরা বললেন : হে আল্লাহর রাসুল, পশুর মধ্যেও কি আমাদের কোনো পুণ্য আছে? তিনি বললেন, প্রত্যেক প্রাণের মধ্যেই প্রতিদান রয়েছে।’ (বুখারি)
পশুর সঙ্গে সদয় আচরণ ও দয়া প্রদর্শনের একটি দিক হচ্ছে, যে পশু হিংস্র ও মানুষের ক্ষতি করে সেসব পশুকে সুন্দরভাবে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোনোভাবেই তাকে কষ্ট দিয়ে মারা যাবে না। যেসব পশুকে হত্যার অনুমতি দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে, বৃদ্ধ কুকুর, ইঁদুর, বিচ্ছু ও সাপ। তবে এগুলোকে আগুনে পুড়িয়ে মারা যাবে না।

আর যেসব জীব-জন্তুর গোশত আমরা ভক্ষণ করি; যেমন, গরু, ছাগল ও ভেড়া ইত্যাদি এবং গৃহপালিত পাখি, এগুলোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুন্দরমত জবাই করতে হবে, যাতে জবাইয়ের সময় তাদের কষ্ট কম হয়। হাদিসে এসেছে, ‘ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, একদা এক ব্যক্তি একটি ভেড়া জবাই করার জন্য শোয়ানো অবস্থায় রেখে চাকুতে ধার দিচ্ছিলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন : তুমি কি পশুটিকে দু’বার মারতে চাও? তুমি কি পশুটিকে শোয়ানোর আগে চাকুতে ধার দিয়ে নিতে পারতে না?

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন