মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮ ১২:৩৭:৩৩ পিএম

৪ সিটি নির্বাচনই বিতর্কমুক্ত জয় চায় আওয়ামী লীগ

রাজনীতি | রবিবার, ১০ জুন ২০১৮ | ০২:১৯:১৯ পিএম

আগামী ২৬ জুন গাজীপুর এবং ৩০ জুলাই রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগমুহুর্তে হওয়ায় এই নির্বাচনগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। খুলনায় জয় পাওয়ায় এসব নির্বাচনেও জয়ের ব্যাপারে ভীষন আশাবাদী ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। সবকটি সিটিতে জয় চায় আওয়ামী লীগ। সে লক্ষ্যেই দলটি কৌশল নির্ধারণ কেেছ।

আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্র জানিয়েছে,খুলনার মতো গাজীপুর, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও বিতর্কমুক্ত জয় চায় আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীনরা এই চার সিটিতে জয়ের বিকল্প কিছু ভাবছে না। বিশেষ করে খুলনায় জয় পাওয়ায় এবং বেশ সফলভাবেই নির্বাচণী বৈতরণী পার হওয়ায় এই চার সিটিতেও জয়ের ব্যাপারে প্রত্যাশা বেড়েছে দলটির। সে ক্ষেত্রে মাঠের ভোটের ওপর আস্থা রেখে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই এই সিটিগুলোতে জয় চায় তারা।

এ জন্য চার সিটিতেই ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীর পাশাপাশি দলের তৃনমুলে ঐক্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট চার সিটির দলীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ওপর সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনা বারবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এসব মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা যদি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে কাজ না করে বা কোন ধরণের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে, তা হলে জাতীয় নির্বাচনে তাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না। এমনকি তিনি ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় মেয়র প্রার্থীদের জিতিয়ে আনতে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন।

সিটি নির্বাচনগুলোতে শুধু আওয়ামী লীগই নয়; দলের জোট শরিকরাও এসব নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে নিজেদের মতো করে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাঠে কাজ করছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও। তবে দল মনে করছে, শেষ পর্যন্ত শরিকরা এর জন্য কোন বাধা হবে না। দলীয় প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করবে তারা।

২৬ জুন গাজীপুর এবং ৩০ জুলাই রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ১৩ থেকে ২৮ জুন, বাছাই ১ ও ২ জুলাই, আপিল ৩ থেকে ৫ জুলাই, আপিলের নিষ্পত্তি ৬ থেকে ৮ জুলাই, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ৯ জুলাই এবং প্রতীক বরাদ্দের তারিখ ১০ জুলাই নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, গাজীপুর ঠিক করায় আছে। দল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। সিলেট ও রাজশাহীর প্রার্থী অনেক আগে থেকেই ঠিক করা আছে। তারা নিজেদের মতো করে কাজও শুরু করে দিয়েছে। এখানে শরিক দল বা অন্য কাউকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। বরিশালের বিষয়ে আমাদের সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেই খোঁজখবর নিচ্ছেন। আশা করি সবদিক ভেবেচিন্তেই তিনি প্রার্থী দেবেন। এছাড়া দলীয় প্রার্থী বা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাদের বিষয়ে কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দলীয় সূত্রমতে, রাজনৈতিক কারণেই আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনের রাজনীতি, আন্দোলন, সংগ্রাম ও জাতীয় নির্বাচনের মতো বিষয়গুলো এ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ওপর নির্ভর করে চূড়ান্ত হবে বলেও মনে করা হচ্ছে। এজন্য যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ফল নিজেদের ঘরে তুলতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এসব নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না দল। এক্ষেত্রে দলের ভেতর বিরোধিতাকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়ার পক্ষে নয় দলের নীতি নির্ধারকরা। দলীয় ঐক্য নিশ্চিত করে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন শীর্ষ নেতারা।

খুলনার মতো গাজীপুরে নির্বাচন করার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। গত ২১ মে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় তিনি এ পরামর্শ দেন। বৈঠক শেষে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী সদ্য অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার পরামর্শ দিয়েছেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন